কর ন্যায্যতা ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সিপিডি-পিআরআইয়ের প্রস্তাব

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

এনবিআরের সঙ্গে সিপিডি ও পিআরআইয়ের আলোচনা সভা। ছবি: সংগৃহীত

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। সভায় কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং রাজস্ব আয় বাড়ানোর কৌশল নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে সংস্থা দুটি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এনবিআর মিলনায়তনে সভায় সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষক তামিম আহমেদ বলেন, ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাজেটে মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।’ তিনি সতর্ক করেন, রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে যেন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত করের বোঝা বা ‘কর অবিচার’ চাপিয়ে দেওয়া না হয়।

আদায়কৃত করের সুষম বণ্টন, পরোক্ষ করের (ভ্যাট) প্রভাব হ্রাস, কর ফাঁকি রোধ এবং এনবিআরকে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগতভাবে শক্তিশালী করা—সিপিডির পক্ষ থেকে এই চার ‘কর ন্যায্যতার’ স্তম্ভ প্রস্তাব করা হয়। সংস্থাটির মতে, কর ফাঁকি রোধে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১২ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ প্রণোদনা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ১৫ শতাংশ ফ্ল্যাট ভ্যাটের হার কমানোরও প্রস্তাব দেয় সিপিডি।

অন্যদিকে, পিআরআই তাদের প্রস্তাবে বাণিজ্য করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ কর ও ভ্যাটের দিকে মনোযোগ দেওয়ার তাগিদ দেয়। সংস্থাটির মতে, মাত্রাতিরিক্ত বাণিজ্য কর দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে বাধা।

পিআরআই ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখা এবং শেয়ারবাজারে ৩৫ শতাংশের বেশি ইক্যুইটি থাকা কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট কর ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে ১২ ও ১৫ শতাংশ—এই দুই হার নির্ধারণের পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।

জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘দেশীয় শিল্প ও কর্মসংস্থান রক্ষার্থে বিভিন্ন খাতে সুরক্ষামূলক কর দেওয়া হয়। হঠাৎ এসব বাতিল করলে রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশীয় বাজারেও সংকট তৈরি হতে পারে।’

ব্যক্তিগত আয়কর কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে চেয়ারম্যান বলেন, ‘ধনীদের থেকে বেশি কর নিয়ে তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করাই এই ব্যবস্থার মূল নীতি।’

রাজস্ব ঘাটতি প্রসঙ্গে আবদুর রহমান খান জানান, চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা হলেও মাঠ পর্যায়ে গতি বাড়াতে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে; যার ফলে ঘাটতির পরিমাণ বড় দেখাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আগামী জুলাই থেকে আমদানি পর্যায়ের ভ্যাট ও বাণিজ্যিক করের হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হবে। এছাড়া গবেষণার সুবিধার্থে বিভিন্ন সংস্থাকে ‘অ্যানোনিমাস ডেটা’ সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।

সম্পর্কিত