স্ট্রিম ডেস্ক

প্রাচীনকাল থেকে মানুষ তাঁর আনন্দ-বেদনা, প্রার্থনা কিংবা বীরত্বকে নাচের মাধ্যমে প্রকাশ করে আসছে। পৃথিবীর প্রতিটি জনপদের মতো বাংলাদেশের সংস্কৃতিতেও মিশে আছে নাচের ছন্দ। দেশের মানুষের জীবনযাত্রা আর সংগ্রামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নিজস্ব লোকজ ও আদিবাসী নৃত্যের ধারা।
এর পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশের ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল নাচও আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি পাশ্চাত্যের আধুনিক নাচগুলোও তরুণ প্রজন্মের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসে বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন নৃত্য ঘরানা তুলে ধরব আজকের লেখায়।
লোকনৃত্য বাংলার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলে। মূলত গ্রামবাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে এই নাচের জন্ম।
বাংলাদেশে জারি, সারি, লাঠিখেলা, বাউল নাচ এবং ধামাইল নাচ লোকনৃত্যের চমৎকার সব উদাহরণ। লোকনৃত্যের তাল ও সুর অত্যন্ত সহজ এবং প্রাণবন্ত হয়ে থাকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নাচগুলো বাংলার গ্রামেগঞ্জে এখনও সগৌরবে বেঁচে আছে।

এ ছাড়া চৈত্রসংক্রান্তির মতো উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ লোকনৃত্য। অঞ্চলভেদে এই লোকনৃত্য ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী এবং দিনাজপুরে চৈত্রসংক্রান্তি বা ‘বিষুয়া’ উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো গোমিরা নাচ। কিছু এলাকায় শ্মশানে ‘পাতা নাচ’ হয়। ভক্তরা ডাকিনী বা প্রেতিনীর রূপ ধরে ঢাকের তালে এই নাচ পরিবেশন করেন।
খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও ফরিদপুর অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তিতে ‘দেল’ বা দেউল পূজা হয়। এ সময় ‘বালা’ নামক পাঁচালি গায়কেরা নূপুর পায়ে নেচে নেচে শিবের গান করেন। নড়াইল ও যশোরে শিবের ‘গাজন’ বেশ জনপ্রিয়। সন্ন্যাসীরা শিব ও পার্বতী সেজে ঢাক-কাঁসর বাজিয়ে তাণ্ডব নৃত্যসহ গাজন গান করেন। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে শিব ও রাধাকৃষ্ণের লীলা নিয়ে দশ-বারো জনের একটি দল ঢোল, মৃদঙ্গ ও হারমোনিয়াম বাজিয়ে ‘অষ্টক নাচ’ পরিবেশন করে। এ ছাড়া চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক পূজা উপলক্ষে দেশের অনেক এলাকায় শিব-গৌরীর নাচ হয়।
আদিবাসীদের নাচের সঙ্গে তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট এবং উত্তরবঙ্গে বসবাসরত বিভিন্ন আদিবাসীদের নিজস্ব নাচের ধারা রয়েছে।

চাকমাদের বিজু নাচ, ত্রিপুরাদের গরাইয়া, গারোদের ওয়াংগালা কিংবা সাঁওতালদের ঝুমুর নাচ এর অন্যতম উদাহরণ। তাঁদের এই নাচগুলো মূলত প্রকৃতি বন্দনা কিংবা বিশেষ কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। আদিবাসী নৃত্যে সাধারণত সবাই মিলে বৃত্তাকারে বা সারিবদ্ধ হয়ে নাচে। তাঁদের এই নাচ বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
কত্থক মূলত উত্তর ভারতের ধ্রুপদী নৃত্যকলা। এই নাচের উৎপত্তি ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে। ‘কথা’ বা গল্প বলা থেকে কত্থক নামের উদ্ভব। প্রাচীনকালে মন্দিরের পুরোহিত বা কথকরা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও নাচের মাধ্যমে হিন্দু পুরাণের গল্প সাধারণ মানুষকে শোনাতেন। পরবর্তী সময়ে মোগল আমলে এই নাচ রাজদরবারে প্রবেশ করলে এর মধ্যে রাজকীয় আভিজাত্য যুক্ত হয়।

সেই মোগল ও নবাবদের হাত ধরেই বাংলায় কত্থকের প্রবেশ ঘটে। বাংলাদেশে বর্তমানে ছায়ানট ও শিল্পকলা একাডেমিসহ নানা জায়গায় এই নাচের চর্চা রয়েছে। কত্থক নাচে পায়ের দ্রুত কাজ (ততকার), চক্কর বা ঘূর্ণি এবং চোখের সূক্ষ্ম ইশারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পীরা পায়ে ঘুঙুর পরে তবলার বোলের সাথে এই নাচের নিখুঁত ছন্দ তুলে ধরেন।
ভরতনাট্যম দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ধ্রুপদী নাচ। এর উৎপত্তি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মন্দিরে। প্রাচীনকালে মন্দিরের দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে এই ভক্তিপূর্ণ নাচ পরিবেশন করতেন। ‘ভাব’, ‘রাগ’ এবং ‘তাল’—এই তিনের সমন্বয়ে ভরতনাট্যম নাচের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভরতনাট্যম বাংলাদেশে পরিচিতি পেতে শুরু করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন নৃত্যকলা প্রতিষ্ঠানে ভরতনাট্যম শেখানো হয়। হাতের নানা ধরনের মুদ্রা এবং মুখের অভিব্যক্তি বা অভিনয় ভরতনাট্যমকে আকর্ষণীয় নাচে পরিণত করেছে।
মণিপুরি নাচটি মূলত মন্দিরকেন্দ্রিক। এর জন্ম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে। তবে বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে এই নাচের প্রভাব ও চর্চা রয়েছে। মণিপুরী নাচ মূলত বৈষ্ণব ধর্মভিত্তিক নাচ, যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের ঐশ্বরিক প্রেমলীলাকে প্রধান উপজীব্য করা হয়।

এই নাচ অন্যান্য ধ্রুপদী নাচের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত প্রকৃতির। শিল্পীর হাতের নড়াচড়ায় থাকে এক ধরনের মায়া ও সাবলীলতা। একে ধ্রুপদি নাচে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং বিশ্বদরবারে পরিচিত করান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই নাচে নারী শিল্পীদের পরা বিশেষ ধরনের জমকালো বেলনাকার স্কার্ট বা ‘পোটলই’ দর্শককে মুগ্ধ করে। আশির দশকের আগে বাংলাদেশে এই নাচের পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো না। আশির দশকে ছায়ানটে এর প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
ভারতের পূর্ব উপকূলীয় রাজ্য ওড়িশা বা উড়িষ্যা ওডিশি নাচের জন্মস্থান। এই নাচ ভারতের অন্যতম প্রাচীন ধ্রুপদী নৃত্যশৈলী। ওড়িশার বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরের ভাস্কর্যে আজও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ভরতনাট্যমের মতো ওডিশিও একসময় মন্দিরের মাহারি বা দেবদাসীরা পরিবেশন করতেন। বাংলাদেশে ওডিশি নাচের চর্চা অন্যান্য ধ্রুপদী নাচের তুলনায় একটু দেরিতে শুরু হলেও, বর্তমানে এই নাচের চল রয়েছে।

ওডিশির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ত্রিভঙ্গ’ ভঙ্গি। অর্থাৎ, এই নাচে শিল্পীর মাথা, বুক এবং কোমর আলাদাভাবে তিনটি ভিন্ন দিকে সামান্য বাঁকানো থাকে। এই বিশেষ ভঙ্গিমার কারণে ওডিশি শিল্পীদের মঞ্চে জীবন্ত ভাস্কর্যের মতো মনে হয়।
পাশ্চাত্য নাচের উদ্ভব মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ধ্রুপদী ব্যালে থেকে শুরু করে আধুনিক জ্যাজ, সালসা, ট্যাংগো কিংবা হিপ-হপ—সবই এই ধারার অংশ। এগুলোর উৎপত্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হয়েছে।
যেমন ব্যালে নাচের জন্ম ইতালির রাজদরবারে, আবার হিপ-হপের জন্ম আমেরিকার রাস্তায় আফ্রো-আমেরিকান তরুণদের হাত ধরে। বাংলাদেশে মূলত স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের এসব নাচ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বিদেশি সংস্কৃতিকেন্দ্রগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখানো নাচগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় পশ্চিমা নাচের ঘরানা ‘সালসা’। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে কনটেম্পরারি, হিপ-হপ বা ব্রেক ড্যান্স দারুণ জনপ্রিয়।

প্রাচীনকাল থেকে মানুষ তাঁর আনন্দ-বেদনা, প্রার্থনা কিংবা বীরত্বকে নাচের মাধ্যমে প্রকাশ করে আসছে। পৃথিবীর প্রতিটি জনপদের মতো বাংলাদেশের সংস্কৃতিতেও মিশে আছে নাচের ছন্দ। দেশের মানুষের জীবনযাত্রা আর সংগ্রামকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নিজস্ব লোকজ ও আদিবাসী নৃত্যের ধারা।
এর পাশাপাশি ভারতীয় উপমহাদেশের ধ্রুপদী বা ক্লাসিক্যাল নাচও আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পাকাপাকিভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এমনকি পাশ্চাত্যের আধুনিক নাচগুলোও তরুণ প্রজন্মের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবসে বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন নৃত্য ঘরানা তুলে ধরব আজকের লেখায়।
লোকনৃত্য বাংলার সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের কথা বলে। মূলত গ্রামবাংলার কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন থেকে এই নাচের জন্ম।
বাংলাদেশে জারি, সারি, লাঠিখেলা, বাউল নাচ এবং ধামাইল নাচ লোকনৃত্যের চমৎকার সব উদাহরণ। লোকনৃত্যের তাল ও সুর অত্যন্ত সহজ এবং প্রাণবন্ত হয়ে থাকে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই নাচগুলো বাংলার গ্রামেগঞ্জে এখনও সগৌরবে বেঁচে আছে।

এ ছাড়া চৈত্রসংক্রান্তির মতো উৎসবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ লোকনৃত্য। অঞ্চলভেদে এই লোকনৃত্য ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন উত্তরাঞ্চলের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী এবং দিনাজপুরে চৈত্রসংক্রান্তি বা ‘বিষুয়া’ উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো গোমিরা নাচ। কিছু এলাকায় শ্মশানে ‘পাতা নাচ’ হয়। ভক্তরা ডাকিনী বা প্রেতিনীর রূপ ধরে ঢাকের তালে এই নাচ পরিবেশন করেন।
খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, নড়াইল ও ফরিদপুর অঞ্চলে চৈত্রসংক্রান্তিতে ‘দেল’ বা দেউল পূজা হয়। এ সময় ‘বালা’ নামক পাঁচালি গায়কেরা নূপুর পায়ে নেচে নেচে শিবের গান করেন। নড়াইল ও যশোরে শিবের ‘গাজন’ বেশ জনপ্রিয়। সন্ন্যাসীরা শিব ও পার্বতী সেজে ঢাক-কাঁসর বাজিয়ে তাণ্ডব নৃত্যসহ গাজন গান করেন। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে শিব ও রাধাকৃষ্ণের লীলা নিয়ে দশ-বারো জনের একটি দল ঢোল, মৃদঙ্গ ও হারমোনিয়াম বাজিয়ে ‘অষ্টক নাচ’ পরিবেশন করে। এ ছাড়া চৈত্রসংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক পূজা উপলক্ষে দেশের অনেক এলাকায় শিব-গৌরীর নাচ হয়।
আদিবাসীদের নাচের সঙ্গে তাঁদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট এবং উত্তরবঙ্গে বসবাসরত বিভিন্ন আদিবাসীদের নিজস্ব নাচের ধারা রয়েছে।

চাকমাদের বিজু নাচ, ত্রিপুরাদের গরাইয়া, গারোদের ওয়াংগালা কিংবা সাঁওতালদের ঝুমুর নাচ এর অন্যতম উদাহরণ। তাঁদের এই নাচগুলো মূলত প্রকৃতি বন্দনা কিংবা বিশেষ কোনো উৎসবকে কেন্দ্র করে হয়ে থাকে। আদিবাসী নৃত্যে সাধারণত সবাই মিলে বৃত্তাকারে বা সারিবদ্ধ হয়ে নাচে। তাঁদের এই নাচ বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।
কত্থক মূলত উত্তর ভারতের ধ্রুপদী নৃত্যকলা। এই নাচের উৎপত্তি ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে। ‘কথা’ বা গল্প বলা থেকে কত্থক নামের উদ্ভব। প্রাচীনকালে মন্দিরের পুরোহিত বা কথকরা বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও নাচের মাধ্যমে হিন্দু পুরাণের গল্প সাধারণ মানুষকে শোনাতেন। পরবর্তী সময়ে মোগল আমলে এই নাচ রাজদরবারে প্রবেশ করলে এর মধ্যে রাজকীয় আভিজাত্য যুক্ত হয়।

সেই মোগল ও নবাবদের হাত ধরেই বাংলায় কত্থকের প্রবেশ ঘটে। বাংলাদেশে বর্তমানে ছায়ানট ও শিল্পকলা একাডেমিসহ নানা জায়গায় এই নাচের চর্চা রয়েছে। কত্থক নাচে পায়ের দ্রুত কাজ (ততকার), চক্কর বা ঘূর্ণি এবং চোখের সূক্ষ্ম ইশারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পীরা পায়ে ঘুঙুর পরে তবলার বোলের সাথে এই নাচের নিখুঁত ছন্দ তুলে ধরেন।
ভরতনাট্যম দক্ষিণ ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ধ্রুপদী নাচ। এর উৎপত্তি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মন্দিরে। প্রাচীনকালে মন্দিরের দেবদাসীরা দেবতার উদ্দেশ্যে এই ভক্তিপূর্ণ নাচ পরিবেশন করতেন। ‘ভাব’, ‘রাগ’ এবং ‘তাল’—এই তিনের সমন্বয়ে ভরতনাট্যম নাচের ভিত্তি গড়ে উঠেছে।
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে ভরতনাট্যম বাংলাদেশে পরিচিতি পেতে শুরু করে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন নৃত্যকলা প্রতিষ্ঠানে ভরতনাট্যম শেখানো হয়। হাতের নানা ধরনের মুদ্রা এবং মুখের অভিব্যক্তি বা অভিনয় ভরতনাট্যমকে আকর্ষণীয় নাচে পরিণত করেছে।
মণিপুরি নাচটি মূলত মন্দিরকেন্দ্রিক। এর জন্ম ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে। তবে বাংলাদেশের সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে এই নাচের প্রভাব ও চর্চা রয়েছে। মণিপুরী নাচ মূলত বৈষ্ণব ধর্মভিত্তিক নাচ, যেখানে রাধা ও কৃষ্ণের ঐশ্বরিক প্রেমলীলাকে প্রধান উপজীব্য করা হয়।

এই নাচ অন্যান্য ধ্রুপদী নাচের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত প্রকৃতির। শিল্পীর হাতের নড়াচড়ায় থাকে এক ধরনের মায়া ও সাবলীলতা। একে ধ্রুপদি নাচে অন্তর্ভুক্ত করেন এবং বিশ্বদরবারে পরিচিত করান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এই নাচে নারী শিল্পীদের পরা বিশেষ ধরনের জমকালো বেলনাকার স্কার্ট বা ‘পোটলই’ দর্শককে মুগ্ধ করে। আশির দশকের আগে বাংলাদেশে এই নাচের পদ্ধতিগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো না। আশির দশকে ছায়ানটে এর প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
ভারতের পূর্ব উপকূলীয় রাজ্য ওড়িশা বা উড়িষ্যা ওডিশি নাচের জন্মস্থান। এই নাচ ভারতের অন্যতম প্রাচীন ধ্রুপদী নৃত্যশৈলী। ওড়িশার বিভিন্ন প্রাচীন মন্দিরের ভাস্কর্যে আজও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। ভরতনাট্যমের মতো ওডিশিও একসময় মন্দিরের মাহারি বা দেবদাসীরা পরিবেশন করতেন। বাংলাদেশে ওডিশি নাচের চর্চা অন্যান্য ধ্রুপদী নাচের তুলনায় একটু দেরিতে শুরু হলেও, বর্তমানে এই নাচের চল রয়েছে।

ওডিশির বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ত্রিভঙ্গ’ ভঙ্গি। অর্থাৎ, এই নাচে শিল্পীর মাথা, বুক এবং কোমর আলাদাভাবে তিনটি ভিন্ন দিকে সামান্য বাঁকানো থাকে। এই বিশেষ ভঙ্গিমার কারণে ওডিশি শিল্পীদের মঞ্চে জীবন্ত ভাস্কর্যের মতো মনে হয়।
পাশ্চাত্য নাচের উদ্ভব মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। ধ্রুপদী ব্যালে থেকে শুরু করে আধুনিক জ্যাজ, সালসা, ট্যাংগো কিংবা হিপ-হপ—সবই এই ধারার অংশ। এগুলোর উৎপত্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হয়েছে।
যেমন ব্যালে নাচের জন্ম ইতালির রাজদরবারে, আবার হিপ-হপের জন্ম আমেরিকার রাস্তায় আফ্রো-আমেরিকান তরুণদের হাত ধরে। বাংলাদেশে মূলত স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের এসব নাচ বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বিদেশি সংস্কৃতিকেন্দ্রগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শেখানো নাচগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় পশ্চিমা নাচের ঘরানা ‘সালসা’। বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে কনটেম্পরারি, হিপ-হপ বা ব্রেক ড্যান্স দারুণ জনপ্রিয়।
.png)

রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়ো হল। হাঁপাতে হাঁপাতে বিশালবপু সভাপতি ইঞ্জিন মশাই এলেন। তাঁর লেট হয়ে গেছে।
১১ ঘণ্টা আগে
বন্ধুমহলে নাম শুনেছিলুম আগেই; চোখে দেখলুম লেক-লগ্ন একটি ক্লাবের বাইশে শ্রাবণের অনুষ্ঠানে। উজ্জ্বল আলোয়, সুবেশ, চিক্কণ এবং সাধারণত কাব্য সম্বন্ধে উদাসীন মেয়ে পুরুষের ভিড়ের মধ্যে কালো একটি ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে, বেশ চেঁচিয়ে, বেশ স্পষ্ট ক’রে রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে নিজের লেখা একটি কবিতা পড়লো।
১৩ ঘণ্টা আগে
কম করে হলেও এক হাজার বছর ধরে কবিতা লিখছে বাংলাভাষী মানুষ; এ অঞ্চলে জন্মেছেন অগণিত ভাবমূর্তিসম্পন্ন কবি। উপাধিপ্রবণ বাঙালি কবিসমাজ তৈরি করে নিয়েছে নানা ধরনের উপাধি—‘কবিকঙ্কন’, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘পল্লীকবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’। তবে ‘কিশোর-কবি’ অভিধা পেয়েছেন মূলত একজনই—সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬
১৩ ঘণ্টা আগে
কাব্য-সাহিত্যের অনুর্বরতাও এই জন্য যে কবিতা লেখার মজুরীতে কবি বাঁচে না। নতুন যুগের অলঙ্ঘ নির্দেশে তাকে আজ দেহমনে চব্বিশ ঘণ্টার সাহচার্য বরণ করে নিতে হয় তার যে উলঙ্গ ছেলেরা আজ বুলেট খেয়ে মরছে তাদের, কাব্যচর্চা আর জীবিকাচর্চার শোষণে সে ক্ষয় হয়ে যায়।
১৪ ঘণ্টা আগে