অনন্ত রায়হান

গতকাল রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত কেঁপে ওঠে ভূমিকম্পে। আমি তখন ফেসবুকে স্ক্রল করছিলাম। আমি কিছু টের পাই নি। তবে সঙ্গে সঙ্গে আমার নিউজফিড ভরে গেল নতুন নতুন পোস্টে। অনেকেই লিখেছেন, ‘মাথাটা ঘুরে উঠল!’, ‘ভূমিকম্প হলো নাকি?’ আবার কেউ লিখছেন, ‘ভূমিকম্প টের পেয়েছেন কে কে?’
এমন মানুষও পেলাম, যারা আমার মতো ভূমিকম্প টের পায়নি। তাঁরা লিখেছেন, ‘ভূমিকম্প কখন হলো কিছুই জানি না’, ‘ফেসবুকে এসে দেখি ভূমিকম্প হয়ে গেছে।’
একই ভূমিকম্পে পুরো দেশ কেঁপে উঠলে অনেকেই সেই কাপুনি টের পায়, আবার কেউ কেউ বুঝতেই পারে না, কখন ভূমিকম্প হলো। এমন কেন হয় তা নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলাম।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নরথরিজ-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুলিয়ান লোজোস বলছেন, কিছু মানুষ কেন ভূমিকম্প অনুভব করে, আর অন্যরা কেন করে না, এর পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
লোজোসের মতে, অল্প মাত্রার ভূমিকম্পের সময় সাধারণত কেউ যদি স্থির হয়ে বসে থাকে কিংবা নড়াচড়া না করে, তাহলে ভূমিকম্প অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া যদি কেউ জেগে থাকে, তখন ঘুমিয়ে থাকার চেয়ে ভূমিকম্প অনুভবের সম্ভাবনা বেশি। তবে এটি নির্ভর করে ভূমিকম্পের সময় কে কোথায় আছে তার ওপর। যদি তখন এমন জায়গায় থাকেন, যেখানে সবসময় শব্দ হয় বা কম্পন হয়, তাহলে ভূমিকম্প টের পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দীর্ঘদিন এমন জায়গায় বাস করলে আমাদের মস্তিষ্ক ভূমিকম্পের কম্পন উপেক্ষা করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের জরিপের তথ্য অনুসারে, মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঘরের বাইরে বা চলন্ত অবস্থায় ভূমিকম্প হলে ১০ শতাংশের কম মানুষ দুলুনি অনুভব করেন। অন্যদিকে ভূমিকম্পের সময় যদি কেউ বিশ্রামে থাকে বা বিছানায় শুয়ে থাকে, এবং ভবনের উঁচুতলায় বাস করে, তবে ৮৫ শতাংশ মানুষ ভূমিকম্প অনুভব করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে। তাঁর ভাষ্যমতে, ভূমিকম্পের সময় আপনি কত তলায় আছেন বা কত উঁচুতে আছেন, তার ওপর এ বিষয়টি নির্ভর করছে। যত উপরের দিকে থাকবেন, ঝাঁকুনি অনুভব করার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। আর নিচে থাকলে অনুভব করার সম্ভাবনাও কমে যায়।
বাংলাদেশ মূলত তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ইউরেশিয়ান প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট এবং বার্মা প্লেট। এর মধ্যে ইন্ডিয়া ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলটি বাংলাদেশের ভেতরেই অবস্থিত।
বাংলাদেশ অঞ্চলে ভূমিকম্পের অন্যতম উৎস হলো ডাউকি ফল্ট, যেটা শেরপুর থেকে শুরু জাফলং হয়ে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে বিস্তৃত। আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বিবিসিকে বলেন, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা এ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বড় বড় ফল্ট আছে। এসব কারণে বাংলাদেশ খুবই ভূমিকম্পপ্রবণ। ভূমিকম্প অনুভব করার জন্য যে সবসময় নিজের দেশেই উৎপত্তি হতে হবে, এমন না। এবারের ভূমিকম্পেও তার প্রমাণ পাওয়া গেল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে সাবডাকশন জোন এবং উত্তরে ডাউকি ফল্টে বিপুল পরিমাণ ভূ-গর্ভস্থ শক্তি জমা হয়ে আছে, যা ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরির সক্ষমতা রাখে। বড় ভূমিকম্প এই উৎসগুলোতে আঘাত হানলে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

গতকাল রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত কেঁপে ওঠে ভূমিকম্পে। আমি তখন ফেসবুকে স্ক্রল করছিলাম। আমি কিছু টের পাই নি। তবে সঙ্গে সঙ্গে আমার নিউজফিড ভরে গেল নতুন নতুন পোস্টে। অনেকেই লিখেছেন, ‘মাথাটা ঘুরে উঠল!’, ‘ভূমিকম্প হলো নাকি?’ আবার কেউ লিখছেন, ‘ভূমিকম্প টের পেয়েছেন কে কে?’
এমন মানুষও পেলাম, যারা আমার মতো ভূমিকম্প টের পায়নি। তাঁরা লিখেছেন, ‘ভূমিকম্প কখন হলো কিছুই জানি না’, ‘ফেসবুকে এসে দেখি ভূমিকম্প হয়ে গেছে।’
একই ভূমিকম্পে পুরো দেশ কেঁপে উঠলে অনেকেই সেই কাপুনি টের পায়, আবার কেউ কেউ বুঝতেই পারে না, কখন ভূমিকম্প হলো। এমন কেন হয় তা নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলাম।
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নরথরিজ-এর ভূতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জুলিয়ান লোজোস বলছেন, কিছু মানুষ কেন ভূমিকম্প অনুভব করে, আর অন্যরা কেন করে না, এর পেছনে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।
লোজোসের মতে, অল্প মাত্রার ভূমিকম্পের সময় সাধারণত কেউ যদি স্থির হয়ে বসে থাকে কিংবা নড়াচড়া না করে, তাহলে ভূমিকম্প অনুভব করার সম্ভাবনা বেশি। এ ছাড়া যদি কেউ জেগে থাকে, তখন ঘুমিয়ে থাকার চেয়ে ভূমিকম্প অনুভবের সম্ভাবনা বেশি। তবে এটি নির্ভর করে ভূমিকম্পের সময় কে কোথায় আছে তার ওপর। যদি তখন এমন জায়গায় থাকেন, যেখানে সবসময় শব্দ হয় বা কম্পন হয়, তাহলে ভূমিকম্প টের পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ দীর্ঘদিন এমন জায়গায় বাস করলে আমাদের মস্তিষ্ক ভূমিকম্পের কম্পন উপেক্ষা করার ক্ষমতা অর্জন করে ফেলতে পারে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের জরিপের তথ্য অনুসারে, মধ্যম মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঘরের বাইরে বা চলন্ত অবস্থায় ভূমিকম্প হলে ১০ শতাংশের কম মানুষ দুলুনি অনুভব করেন। অন্যদিকে ভূমিকম্পের সময় যদি কেউ বিশ্রামে থাকে বা বিছানায় শুয়ে থাকে, এবং ভবনের উঁচুতলায় বাস করে, তবে ৮৫ শতাংশ মানুষ ভূমিকম্প অনুভব করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ডিপার্টমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাখাওয়াত হোসেন এ ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছেন বিবিসির সঙ্গে। তাঁর ভাষ্যমতে, ভূমিকম্পের সময় আপনি কত তলায় আছেন বা কত উঁচুতে আছেন, তার ওপর এ বিষয়টি নির্ভর করছে। যত উপরের দিকে থাকবেন, ঝাঁকুনি অনুভব করার সম্ভাবনা তত বেড়ে যায়। আর নিচে থাকলে অনুভব করার সম্ভাবনাও কমে যায়।
বাংলাদেশ মূলত তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ইউরেশিয়ান প্লেট, ইন্ডিয়ান প্লেট এবং বার্মা প্লেট। এর মধ্যে ইন্ডিয়া ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলটি বাংলাদেশের ভেতরেই অবস্থিত।
বাংলাদেশ অঞ্চলে ভূমিকম্পের অন্যতম উৎস হলো ডাউকি ফল্ট, যেটা শেরপুর থেকে শুরু জাফলং হয়ে ভারতের করিমগঞ্জ থেকে বিস্তৃত। আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা বিবিসিকে বলেন, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান ও বার্মা এ তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে বাংলাদেশের অবস্থান। বাংলাদেশের ভেতরে ও বাইরে বড় বড় ফল্ট আছে। এসব কারণে বাংলাদেশ খুবই ভূমিকম্পপ্রবণ। ভূমিকম্প অনুভব করার জন্য যে সবসময় নিজের দেশেই উৎপত্তি হতে হবে, এমন না। এবারের ভূমিকম্পেও তার প্রমাণ পাওয়া গেল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মধ্যে সাবডাকশন জোন এবং উত্তরে ডাউকি ফল্টে বিপুল পরিমাণ ভূ-গর্ভস্থ শক্তি জমা হয়ে আছে, যা ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরির সক্ষমতা রাখে। বড় ভূমিকম্প এই উৎসগুলোতে আঘাত হানলে বাংলাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
.png)

আজ ‘শার্ক অ্যাওয়ারনেস ডে’ বা আন্তর্জাতিক হাঙর সচেতনতা দিবস। হাঙর সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে তাদের অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরা এবং বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীটিকে রক্ষা করাই এই দিবসের প্রধান লক্ষ্য। ভূ-পর্যটক তারেক অণু ২০১০ সালের জুনের শেষ দিকে গিয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে। মহ
২০ ঘণ্টা আগে
লোকালয়ে কোনো বিপন্ন বন্যপ্রাণী আটকা পড়েছে কিংবা আহত হয়েছে, এমন খবর পেলেই এলাকার মানুষ যার ওপর সবচেয়ে বেশি ভরসা করতেন, তিনি সীতেশ রঞ্জন দেব। দেশের মানুষের কাছে যিনি ‘সীতেশ বাবু’ নামেই বেশি পরিচিত। আহত পশুপাখি ও বন্যপ্রাণীদের পরম মমতায় সুস্থ করে তোলার এই অকৃত্রিম কারিগর আর নেই।
১৪ জুলাই ২০২৬
এমন অসংখ্য মেটাফোরে ছেয়ে থাকে আরবি ফুটবলের ধারাভাষ্য। বিভিন্ন তারকা প্লেয়াররাও ভূষিত হয় নানান খেতাবে। রোনালদো হয়ে যায় ‘কিংবদন্তি’ বা ‘দুর্ধর্ষ’, মেসি হয়ে যায় ‘পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য’ বা ‘প্রলয়ংকরী’, এরিক হাল্যান্ড হয় ‘ট্যাংক মানব’, রিয়াদ মাহরেজ হয়ে যায় ‘মরুর দুলাল’।
১৪ জুলাই ২০২৬
‘কৌতুক অভিনেতা’ বললেই সবার আগে দিলদারের নাম মাথায় আসে। তাঁকে সবাই ভালোবেসে ‘হাসির রাজা’ বলতেন। পর্দায় তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকদের মনে আনন্দের ঢেউ। একের পর এক হাততালিতে মুখর হয়ে উঠত সিনেমা হল। তবে সেই সোনালি দিনগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান।
১৩ জুলাই ২০২৬