‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বন্ধ ঘোষণা ট্রাম্পের, কমছে তেলের দাম

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তার সামরিক উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে চুক্তির ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

মঙ্গলবার (৬ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ বহাল থাকলেও সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। চুক্তিটি চূড়ান্ত করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করতেই এই বিরতি।

ট্রাম্পের এ ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করে। মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচারস ২ দশমিক ৩০ ডলার কমে যায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, ইরানকে কোনোভাবেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে দেওয়া হবে না। তাদের অভিযোগ, ইরান মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে। জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করেছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সামরিক নিরাপত্তা দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের কয়েকটি ছোট নৌযান, ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, জলপথে আংশিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং বহু জাহাজ পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল লক্ষ্য অর্জন করেছে। অপারেশন এপিক ফিউরি এখন শেষ। আমরা আর উত্তেজনা বাড়াতে চাই না।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে বিরত রাখা। তবে তেহরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ বলে জানিয়ে আসছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, বর্তমানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। তবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত দাবি করেছে, তাদের ওপর আবারও ইরান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছে। যদিও ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের সামরিক পদক্ষেপ আত্মরক্ষামূলক।

ইরান যুদ্ধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ এখনই শেষ হলেও এর প্রভাব কাটাতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

এ অবস্থায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এক দফা সরাসরি আলোচনা হলেও তা থেকে কোনো সমাধান আসেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

এরই মধ্যে তিনি চীন সফরে গেছেন বলে জানা গেছে। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। ট্রাম্পেরও চলতি মাসে চীন সফরের কথা রয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত