স্ট্রিম ডেস্ক

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে পাল্টে দিয়েছে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ২০৬টি আসনে জয় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ৮১ আসনে নেমে আসা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজেপির এই উত্থান ও তৃণমূল কংগ্রেসের পতনকে স্রেফ ক্ষমতার বদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনও কাজ করেছে বলে ধারনা করা যায়।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি করেছেন, কলকাতার মতো শিক্ষিত ও শহুরে অঞ্চলের হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে।
কিন্তু কেন আস্থা হারাল, তার কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ শাসনতান্ত্রিক সংকট এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব।
কেন আস্থা হারাল মমতার তৃণমূল
তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গত এক দশকে বিজেপির ভোট শতাংশের অভাবনীয় বৃদ্ধি। ২০১৬ সালে যেখানে বিজেপির ভোট ছিল মাত্র ১০ শতাংশ, ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৬-এর নির্বাচনে তা ৪৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমল সরকারের মতে, শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। এর মূলে রয়েছে দুর্নীতি ও পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনেও এটি স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগগুলোকে সহজভাবে নিতে পারেনি, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৬-এর এই ভূমিধস জয়ে।
মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ বিতর্ক। বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তৃণমূল সরকার তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিতে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, যা হিন্দু ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের নীতি ‘সবার জন্য’।
তবে ভোটারদের একাংশের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে হিন্দুদের স্বার্থ এখানে উপেক্ষিত হচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক রাহুল ভার্মার মতে, এই রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং মানুষের অসন্তোষই বিজেপির সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগও এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ভীতি ভোটারদের মনে শাসক দলের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন অনেক স্বাধীন বিশ্লেষক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে, যার ফলে তারা বিকল্প শক্তির সন্ধান করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ক্রিস্টোফ জাফ্রেলট এবং কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের মিল বৈষ্ণবের মতে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির ‘প্যান ইন্ডিয়ান’ ইমেজ এবং নতুন সামাজিক জোট তৈরির কৌশল পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতেও সফলভাবে বিস্তার লাভ করেছে। ফলে মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় বয়ান রাজ্য রাজনীতির স্থানীয় ইস্যুগুলোকে ছাপিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
পরিচয় রাজনীতি এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়েও তীব্র দ্বন্দ্ব এই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বিরোধিতা এবং বিজেপির জোরালো অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু শরণার্থী ও নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করেছে। এর বাইরেও কলকাতার মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল। যদিও সরকার বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প বা অনুদান দিয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে তীব্র করেছে।
তবে ‘হিন্দুরা মমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে’—এই বক্তব্যকে কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাস্তবতাকে সরলীকরণ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই ফলাফল আসলে একটি বহুমুখী পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সমীকরণকে পাল্টে দিয়েছে। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ২০৬টি আসনে জয় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ৮১ আসনে নেমে আসা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজেপির এই উত্থান ও তৃণমূল কংগ্রেসের পতনকে স্রেফ ক্ষমতার বদল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর পেছনে ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনও কাজ করেছে বলে ধারনা করা যায়।
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি করেছেন, কলকাতার মতো শিক্ষিত ও শহুরে অঞ্চলের হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছে।
কিন্তু কেন আস্থা হারাল, তার কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে রয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণ, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ শাসনতান্ত্রিক সংকট এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব।
কেন আস্থা হারাল মমতার তৃণমূল
তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে গত এক দশকে বিজেপির ভোট শতাংশের অভাবনীয় বৃদ্ধি। ২০১৬ সালে যেখানে বিজেপির ভোট ছিল মাত্র ১০ শতাংশ, ২০১৯ সালে তা বেড়ে ৪০ শতাংশে পৌঁছায় এবং ২০২৬-এর নির্বাচনে তা ৪৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অমল সরকারের মতে, শহুরে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত হিন্দু ভোটারদের একটি বড় অংশ তৃণমূলের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে। এর মূলে রয়েছে দুর্নীতি ও পরিষেবা নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনেও এটি স্পষ্ট যে, পশ্চিমবঙ্গের মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগগুলোকে সহজভাবে নিতে পারেনি, যার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ২০২৬-এর এই ভূমিধস জয়ে।
মমতা সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগগুলোর একটি হলো ‘সংখ্যালঘু তোষণ’ বিতর্ক। বিজেপির দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, তৃণমূল সরকার তাদের প্রশাসনিক ও আর্থিক নীতিতে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে, যা হিন্দু ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের বঞ্চনার অনুভূতি তৈরি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তৃণমূলের নীতি ‘সবার জন্য’।
তবে ভোটারদের একাংশের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে হিন্দুদের স্বার্থ এখানে উপেক্ষিত হচ্ছে। সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক রাহুল ভার্মার মতে, এই রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং মানুষের অসন্তোষই বিজেপির সাফল্যের পথ প্রশস্ত করেছে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগও এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির ভীতি ভোটারদের মনে শাসক দলের প্রতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন অনেক স্বাধীন বিশ্লেষক। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সহিংসতা সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে, যার ফলে তারা বিকল্প শক্তির সন্ধান করেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব।
কিংস কলেজ লন্ডনের গবেষক ক্রিস্টোফ জাফ্রেলট এবং কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের মিল বৈষ্ণবের মতে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির ‘প্যান ইন্ডিয়ান’ ইমেজ এবং নতুন সামাজিক জোট তৈরির কৌশল পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোতেও সফলভাবে বিস্তার লাভ করেছে। ফলে মোদির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং কেন্দ্রীয় বয়ান রাজ্য রাজনীতির স্থানীয় ইস্যুগুলোকে ছাপিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
পরিচয় রাজনীতি এবং নাগরিকত্ব আইন নিয়েও তীব্র দ্বন্দ্ব এই নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া বিরোধিতা এবং বিজেপির জোরালো অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিশেষ করে হিন্দু শরণার্থী ও নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি করেছে। এর বাইরেও কলকাতার মধ্যবিত্ত ভোটারদের মধ্যে কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়নের অভাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ছিল। যদিও সরকার বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প বা অনুদান দিয়েছে, কিন্তু অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকে তীব্র করেছে।
তবে ‘হিন্দুরা মমতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে’—এই বক্তব্যকে কেবল ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাস্তবতাকে সরলীকরণ করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই ফলাফল আসলে একটি বহুমুখী পরিবর্তনের ইঙ্গিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই উত্তর পাঠানো হয়েছে।
১৪ মিনিট আগে
হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিটের কন্যাসন্তানের জন্মে অভিনন্দন জানিয়েছে ইরান। তবে একই সঙ্গে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন হামলায় ১৬৮ শিশুর মৃত্যুর নির্মম স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছে দেশটি।
১ ঘণ্টা আগে
ইরানে হামলা চালাতে ইরাকের মরুভূমিতে গোপন সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল। মার্কিন কর্মকর্তাসহ বিষয়টি সম্পর্কে জানেন এমন একাধিক ব্যক্তির বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
৮ ঘণ্টা আগে
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ১৫ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার রাতে ফতেহ খেল পুলিশ পোস্টে এই হামলা হয়। খবর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের।
১১ ঘণ্টা আগে