ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃত বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫, গৃহহীন ১৮ হাজার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ জুলাই ২০২৬, ১১: ১৫
ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ছবি: সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ছবি: সংগৃহীত

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। এ ছাড়া ১৭ হাজার ৮৫৪ জন এখন গৃহহীন। সোমবার (৭ জুলাই) দেশটির আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ সর্বশেষ সরকারি হিসাবে এসব তথ্য জানান। খবর আলজাজিরার।

সরকারি হিসাবে, অন্তত ১২ হাজার ৮০০ মানুষ রাজধানী কারাকাস ও উপকূলীয় অঞ্চল লা গুইরার ৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ দুটি এলাকা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, সোমবার লা গুইরায় ট্রাকে করে কফিন বহন করতে যেতে দেখা গেছে। একই সময়ে সাদা ক্রস দিয়ে চিহ্নিত একটি খোলা স্থানে যন্ত্রের সাহায্যে মাটি খনন করা হচ্ছিল। যেখানে কর্তৃপক্ষ মরদেহ দাফন করছিল।

গত ২৪ জুন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প কারাকাস, লা গুইরা এবং আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে।

সরকারি হিসাবে, ভূমিকম্পে প্রায় ৬০ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগের কারণে সংকট আরও তীব্র হতে পারে। হাজারো মানুষ গাদাগাদি করে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে কিংবা খোলা আকাশের নিচে বিশুদ্ধ পানির সুবিধা ছাড়া বসবাস করছেন। অনেকের আঘাতের এখনো চিকিৎসা হয়নি। পাশাপাশি সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

গত সপ্তাহে কারাকাসের হসপিটাল হোসে গ্রেগরিও হার্নান্দেজের ট্রমা ইউনিটের প্রধান ইউহেনিও কোভা বলেন, মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। আমরা জটিল ট্রমার একটি পর্যায় অতিক্রম করেছি। সংক্রমণের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

লা গুইরার একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা তেরেসা বো জানান, সেখানে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষেরা বহনযোগ্য শৌচাগার এবং অতিরিক্ত ভিড় ও রোগের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন।

সরকারের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষের মধ্যেই সাধারণ মানুষ নিজেরাই জীবিতদের উদ্ধার এবং ত্রাণ বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন।

গবেষণা ও অধিকারভিত্তিক সংগঠন ওয়াশিংটন অফিস অন লাতিন আমেরার (ডব্লিউওএলএ) সভাপতি ক্যারোলিনা হিমেনেজ আল জাজিরাকে বলেন, এতে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে। অন্য যেকোনো দেশে দুর্যোগে প্রথম সাড়া দেওয়ার কথা রাষ্ট্রের। কিন্তু ভেনেজুয়েলায় রাষ্ট্রই সবার শেষে সাড়া দিয়েছে।

ক্যারোলিনা হিমেনেজ বলেন, সাড়া এসেছে সাধারণ মানুষ, নাগরিক সমাজ, মানবিক সহায়তাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের কাছ থেকে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত