জাপানে এখন শতবর্ষীদের সংখ্যা ১ লাখের বেশি, ৮৮ শতাংশই নারী
স্ট্রিম ডেস্ক

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শতবর্ষীদের দেশ জাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা এরও বেশি বয়সীদের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাপান এখন ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন শতবর্ষীর দেশ। যাঁদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ নারী। কিয়োটোর বাসিন্দা ১১৪ বছর বয়সী কিশিমোতো ফুয়ো জাপানের সবচেয়ে বেশি বয়সী নারী এবং কুমামোতোর বাসিন্দা ১১২ বছর বয়সী কাতো হিকারু সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ।
চিকিৎসা ও প্রযুক্তিতে উন্নতির কথা জানিয়ে জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কেনিচিরো উয়েনো বলেন, ‘বিপুল সংখ্যক মানুষ দীর্ঘ জীবন পেয়েছেন, স্বাস্থ্যকর ও সক্রিয় জীবনযাপন করছেন বলে আমরা ভীষণ আনন্দিত।’
জাপানের ‘রেসপেক্ট ফর দ্য এজড ডে’-কে সামনে রেখে সবশেষ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিশেষ দিনে যেসব নাগরিক ১০০ বছরে পদার্পণ করেন, সরকার থেকে তাদের ব্যক্তিগত চিঠি এবং ঐতিহ্যবাহী 'সাকে' পানের কাপ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
১৯৬৩ সালে জাপান যখন শতবর্ষী মানুষদের নিয়ে জরিপ শুরু করে, তখন দেশটিতে ১০০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৫৩ জন। ১৯৮১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজারে এবং ১৯৯৮ সালের মধ্যে তা ১০ হাজার ছুঁয়ে ফেলে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জাপানিদের এই দীর্ঘায়ুর কারণ মূলত স্বাস্থ্যকর খাবার ও সক্রিয় জীবনযাপনের অভ্যাস।
দ্বীপরাষ্ট্রটির মানুষের খাদ্যতালিকার সিংহভাগেই থাকে মাছ, সবজি ও ভাত। তাঁদের খাবারে পশ্চিমা মানুষদের খাবার তালিকার মতো অত বেশি প্রক্রিয়াজাত চর্বি থাকে না।
দেশটিতে বয়স্করা নিয়মিত হাঁটেন, চলাচলে বাস-ট্রেনের মতো গণপরিবহন ব্যবহার করেন, সাইকেল চালান এবং শরীরচর্চা করেন।
জাপানে বহু বছর ধরে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সেখানে শিশুদের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বিক্রি বেশি হচ্ছে।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও বয়স্কদের মাথায় রেখে পণ্য বাজারে আনছে। বয়স্ক জাপানিদের হাঁটাচলায় সহায়তা করতে সহজে মিলছে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে সহায়তা করার মতো মোটরচালিত রোবোটিক পোশাক (পাওয়ার্ড এক্সোস্কেলিটন)। চোখের জ্যোতি কমে আসাদের জন্য আছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোকাস অ্যাডজাস্ট বা দৃষ্টিশক্তি মানিয়ে নিতে সক্ষম চশমা।
জাপানে শতবর্ষীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সংখ্যা নতুন করে সামনে আসছে আরেক পুরনো শঙ্কা। শিল্প-প্রযুক্তি নির্ভর দেশটিতে জন্মহার কমছে।
গত বছর জাপানের মোট প্রজনন হার সর্বনিম্নে নেমে ১ দশমিক ১৪-এ পৌঁছেছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৭০ সালের মধ্যে দেশটির মোট জনসংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে আসতে পারে। অথচ ২০০৮ সালে দেশটির জনসংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৮০ লাখ। এই প্রবণতা বলছে আগামী ছয় দশকে জাপানে জনসংখ্যা ৩০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
বর্তমানে জাপানের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের বয়স ৬৫ বছর বা এর বেশি এবং ২০৭০ সালের মধ্যে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপানি কর্তৃপক্ষ এই নিম্নগামী জনসংখ্যাকে একটি ‘অস্তিত্বের সংকট’ বলছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জনসংখ্যার হ্রাস প্রবণতাকে একটি ‘নীরব জরুরি অবস্থা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সন্তান নিতে উৎসাহিত করতে সরকার নানা কর্মসূচি ও আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। তবুও জন্মহার বৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। এদিকে জাপানে বিদেশি অভিবাসী সংখ্যাও মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ শতাংশ। আর জাপানিদের অভিবাসীবিরোধী নেতিবাচক মনোভাবও দিন দিন বাড়ছে।
.png)






