‘নির্ভয়াকাণ্ডে’ উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ অভিযুক্ত নিহত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৮: ২৩
পশ্চিমবঙ্গে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় পুলিশের অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে ১১ বছর বয়সীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) মধ্যরাতে এই ঘটনা ঘটে। খবর দ্য হিন্দুর।

পুলিশ জানায়, গভীর রাতে প্রভাস মণ্ডলকে বারুইপুরের সূর্যপুরে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। হেফাজতে থাকা অবস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে প্রভাস গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে আহত প্রভাসকে বারুইপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এই মামলায় প্রভাস মণ্ডল ছিলেন প্রধান আসামি। পুলিশ জানায়, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের আগে সিসিটিভি ফুটেজে ভুক্তভোগী শিশুর সঙ্গে তাঁকে দেখা যায়। এর আগে এই ঘটনায় আনন্দ সরদার ও দিবাকর সরদার নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পর তৃণমূল কংগ্রেসের সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র এক্সে পুলিশের এনকাউন্টারের সমালোচনা করেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গে ‘জঙ্গলের আইন’ চলছে অভিযোগ করে ঘটনার তদন্তের দাবি জানান।

অন্যদিকে, প্রভাস মণ্ডলের লাশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মা সন্ধ্যা মণ্ডল। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ছেলে যা করেছে, তার শাস্তি পেয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিল এবং কখনোই তাদের কথা শোনেনি।

এদিকে, যৌথ অভিযানে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট থেকে কবির মোল্লা নামে আরেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ), বারুইপুর এসওজি ও জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় মোট চারজন গ্রেপ্তার হলেন।

গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয় ভুক্তভোগী শিশু। পরেরদনি সূর্যপুর হাট এলাকার একটি পুকুর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা বারুইপুর–জয়নগর সড়ক অবরোধ করেন, টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেন এবং পুলিশের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন।

শিশুটির লাশ উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। পরে পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি নির্দোষ ছিলেন।

ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ মহাপরিচালক সিদ্ধ নাথ গুপ্তকে ঘটনাটির বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

একইসঙ্গে বিক্ষোভ চলাকালে সরকারি সম্পদ, পুলিশের গাড়ি ও রেললাইন ভাঙচুরের ঘটনায় প্রায় ২০০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত