আল জাজিরার বিশ্লেষণ
স্ট্রিম ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবর এটি অস্বীকার করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষের প্রচার ও তথ্যযুদ্ধের কারণে সত্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে কী অর্জন করতে পারে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিতে তাদের লাভ কী, তা বিশ্লেষণ করলে কিছুটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
ট্রাম্পের ‘খুব ফলপ্রসূ’ আলোচনা এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার’ দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজার চালুর মুহূর্তে। তিনি ইরানকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময় দেন, যা ট্রেডিং সপ্তাহের শেষের সঙ্গে মিলে যায়। এছাড়া তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার প্রেক্ষাপটে অনেকেই আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার আলাপ তোলার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। যেমন বাজারকে স্থিতিশীল রাখা বা মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য সময় নেওয়া।
এদিকে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, যাতে আর্থিক ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলা যায় এবং চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী। আর ইরান চায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হোক। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে বাজারের লাগাম টানতে চায়। আর ইরান তা অস্বীকার করে অস্থিরতা বজায় রাখতে চায়।
এই পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন, আসলে কোনো আলোচনা চলছে কিনা বা হলে তার গতিপ্রকৃতি কী?
ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং তাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থিতিশীলতা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তবে কিছু মিত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। যদিও ট্রাম্প অতীতে সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ার নজির রেখেছেন।
ইতোমধ্যে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ইরানি তেলের ওপর কিছু অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে ইরান এটিকে নিজেদের কৌশলের সাফল্য হিসেবেই দেখবে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধ ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সামনে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। ফলে ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ— যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি মেনে নেওয়া অথবা সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত শেষ করা। যদিও তাতে তিনি সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।
অন্যদিকে, ইরানের অবস্থানও সহজ নয়। এক বছরের মাথায় দুবার আক্রমণের মুখে পড়ার পর তাঁরা এখন আর পিছু হটতে আগ্রহী নয়। বরং তেহরান মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ তাদের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
তবে যুদ্ধের মূল্যও কম নয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইরানের দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হুমকির মুখে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও খারাপ হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের মধ্যপন্থীরা মনে করছেন, এখন আলোচনার মাধ্যমে কিছু অর্জনের সুযোগ রয়েছে। যদি তারা ভবিষ্যতে হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা বা হরমুজ প্রণালিতে বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার মতো ছাড় আদায় করতে পারে, তাহলে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে তাঁর ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা হয়েছে। তবে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবর এটি অস্বীকার করছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধপরিস্থিতিতে বিভিন্ন পক্ষের প্রচার ও তথ্যযুদ্ধের কারণে সত্য নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে কী অর্জন করতে পারে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতিতে তাদের লাভ কী, তা বিশ্লেষণ করলে কিছুটা পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
ট্রাম্পের ‘খুব ফলপ্রসূ’ আলোচনা এবং ‘গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার’ দাবি আসে যুক্তরাষ্ট্রে শেয়ারবাজার চালুর মুহূর্তে। তিনি ইরানকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার জন্য পাঁচ দিনের সময় দেন, যা ট্রেডিং সপ্তাহের শেষের সঙ্গে মিলে যায়। এছাড়া তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার প্রেক্ষাপটে অনেকেই আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার আলাপ তোলার পেছনে ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। যেমন বাজারকে স্থিতিশীল রাখা বা মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য সময় নেওয়া।
এদিকে, ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে, যাতে আর্থিক ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলা যায় এবং চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সহজ হয়।
অর্থনৈতিক দিক থেকে বিষয়টি উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র বাজার স্থিতিশীল রাখতে আগ্রহী। আর ইরান চায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হোক। ফলে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার ইঙ্গিত দিয়ে বাজারের লাগাম টানতে চায়। আর ইরান তা অস্বীকার করে অস্থিরতা বজায় রাখতে চায়।
এই পরিস্থিতিতে জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্য থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন, আসলে কোনো আলোচনা চলছে কিনা বা হলে তার গতিপ্রকৃতি কী?
ট্রাম্পের জন্য পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তিনি ধারণা করেছিলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক সঙ্গে শুরু করা যুদ্ধ দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে। কিন্তু ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং তাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের স্থিতিশীলতা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। তবে কিছু মিত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। যদিও ট্রাম্প অতীতে সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ার নজির রেখেছেন।
ইতোমধ্যে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ইরানি তেলের ওপর কিছু অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে যুক্তরাষ্ট্র দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে। হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখার কারণে ইরান এটিকে নিজেদের কৌশলের সাফল্য হিসেবেই দেখবে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে এই যুদ্ধ ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সামনে মার্কিন কংগ্রেস নির্বাচন থাকায় রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। ফলে ট্রাম্পের সামনে দুটি পথ— যুদ্ধ চালিয়ে গিয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি মেনে নেওয়া অথবা সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত শেষ করা। যদিও তাতে তিনি সমালোচনার মুখে পড়তে পারেন।
অন্যদিকে, ইরানের অবস্থানও সহজ নয়। এক বছরের মাথায় দুবার আক্রমণের মুখে পড়ার পর তাঁরা এখন আর পিছু হটতে আগ্রহী নয়। বরং তেহরান মনে করছে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ তাদের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।
তবে যুদ্ধের মূল্যও কম নয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইরানের দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা হুমকির মুখে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কও খারাপ হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরানের মধ্যপন্থীরা মনে করছেন, এখন আলোচনার মাধ্যমে কিছু অর্জনের সুযোগ রয়েছে। যদি তারা ভবিষ্যতে হামলা ঠেকানোর নিশ্চয়তা বা হরমুজ প্রণালিতে বেশি প্রভাব প্রতিষ্ঠার মতো ছাড় আদায় করতে পারে, তাহলে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে।

ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এজন্য একদিনে দেশটিতে ৯৪৮টি ড্রোন পাঠায় ক্রেমলিন। একইসঙ্গে সীমান্তে সামরিক সরঞ্জামসহ সেনাসদস্যও বাড়িয়েছে।
৩৯ মিনিট আগে
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আলোচনার ভঙ্গি নাটকীয়ভাবে কঠোর হয়েছে। এর পেছনে কারণ হলো ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব বাড়ছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার শুরুর পর এই প্রথমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাবাহিনীর হয়ে কাজ করা এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আমিরাতের সশস্ত্র বাহিনীর আরও পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। এই ঘটনার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে দেশটি।
১৩ ঘণ্টা আগে
ইরানের সরকার পতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চাপ দিচ্ছেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি এই সামরিক অভিযানকে মধ্যপ্রাচ্য পুনর্গঠনের ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
১৩ ঘণ্টা আগে