নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন
স্ট্রিম ডেস্ক

মার্কিন কর্মকর্তারা বছরের পর বছর ধরে বলে আসছেন যে তাদের প্রধান নজর থাকবে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অংশ নিতে তারা এশিয়া থেকে রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্র আর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি আস্ত বিমানবাহী রণতরী বহরকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেয় আমেরিকা। চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন এশিয়া থেকে অত্যাধুনিক সব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিচ্ছে। উদ্দেশ্য, ইরানের ড্রোন আর রকেট হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সরিয়ে নেওয়া এই সমরাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর। দক্ষিণ কোরিয়া হলো এশিয়ার একমাত্র মিত্র দেশ, যেখানে থাড নামের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি আছে। মূলত উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় পেন্টাগন এটি মোতায়েন করেছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাড-ব্যবস্থা সরানো হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে মোটে দুই সপ্তাহ। কিন্তু এর মধ্যেই তা এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার দেওয়া সেই বড় বড় প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অথচ মার্কিন সামরিক নেতারাই একসময় এশিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক অঞ্চল’ বলে অভিহিত করতেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধ আমেরিকার প্রভাবকে দুর্বল করবে, আমেরিকার পতন নিয়ে চীনের করা দাবিগুলোকে আরও জোরালো করবে আর মধ্যম সারির দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দেবে।
যুদ্ধের রমরমা দিন দিন বাড়ছেই। চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান, সৈন্য এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জাপান ও তাইওয়ান আশঙ্কা করছে যে তাদের কাছে অস্ত্রের সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা বর্তমানে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে। গত মঙ্গলবার পেন্টাগন মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই খরচ ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসা এবং নজর ঘুরে যাওয়ার এই বিষয়টি অনেক অঞ্চলের ওপরই প্রভাব ফেলছে। এশিয়ায় আমেরিকার মিত্ররা এই ঘাটতিকে তীব্রভাবে অনুভব করছে। কারণ চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং মঙ্গলবার তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, পেন্টাগনের এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও ‘বাস্তবতা হলো এই বিষয়ে আমাদের নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু করার সুযোগ নেই।’
আমেরিকার এই নতুন সংঘাত থেকে এশিয়া এখন তিনটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
১. এশিয়া এখন আর আমেরিকার ১ নম্বর অগ্রাধিকার নয়
গত বছর সিঙ্গাপুরে এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আমেরিকার সমস্ত মনোযোগ এই অঞ্চলেই থাকবে। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্র ও অংশীদারদের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কারও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমরা আমাদের বন্ধুদের আগলে রাখা অব্যাহত রাখব।’
কিন্তু এখন অনেক দেশের পক্ষেই এই কথা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রয়োজন মেটাতে খোদ উত্তর কোরিয়ার মতো এক বেপরোয়া পারমাণবিক শক্তিধর দেশের প্রতিবেশী মিত্র রাষ্ট্র থেকে বিশেষায়িত সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব এলি র্যাটনার বলেন, ‘কোরিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত নেতিবাচক একটি সংকেত। এমন এক সময়ে এটি করা হচ্ছে যখন দক্ষিণ কোরিয়া এমনিতেই এশিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নড়বড়ে প্রতিশ্রুতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।’
থাড মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কবজ যা বিভিন্ন উচ্চতায় ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝআকাশেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত পাঁচটি এমন সিস্টেম রয়েছে। আর এশিয়ায় এই থাড লঞ্চারগুলো মোতায়েন করা ছিল গুয়াম এবং দক্ষিণ কোরিয়ায়।
র্যাটনার বলেন, ২০১৭ সালে সিউলের কাছে এই থাড স্থাপন করা হয়েছিল। তখন চীন এর প্রতিবাদে দক্ষিণ কোরীয় পণ্য বর্জন এবং দেশটিতে পর্যটন নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। চীনের দাবি ছিল, এই সিস্টেম তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
র্যাটনার যোগ করেন, ‘আর এখন, আমেরিকা সেই থাড সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্রেফ মধ্যপ্রাচ্যের একটি যুদ্ধের জন্য।’
২. চীনের প্রভাব ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।
অর্থনীতি আর নিরাপত্তার সংকট এখন একে অপরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এশিয়ার উৎপাদনমুখী দেশগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এই দেশগুলো তাদের তেলের সিংহভাগই পায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে বড় ধস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফিলিপাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পেট্রোল-অকটেন রেশনিং বা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। আর এটাই বেইজিংয়ের জন্য একটা বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এশিয়ার এই অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি আমেরিকার এই উদাসীনতাকে পুঁজি করে চীন এখন আগের চেয়েও জোরেসোরে প্রচার করতে পারবে যে, এ অঞ্চলে চীনই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পরাশক্তি।
এই যুদ্ধ চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করার মোক্ষম রসদ জুগিয়ে দিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না ডেইলি একটি কার্টুন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ‘আঙ্কেল স্যাম’ (আমেরিকা) মাকড়সার এক বিশাল জালে আটকে আছে। কার্টুনের শিরোনাম ছিল: ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে বন্দি’।
এই অঞ্চলের কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধের এই ডামাডোলে বেইজিং তাদের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারে আরও বেশি স্বাধীনতা পেয়ে যাবে। তারা তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক বিমান ওড়ানো কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সমুদ্রসীমায় চীনের নৌবাহিনী তাইওয়ানসহ অন্যান্য এলাকায় আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।
গত বছরের শেষের দিকে চীন দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনাম উপকূলে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজ আবারও শুরু করেছে। ‘ওপেন সোর্স সেন্টার’-এর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে খনন কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় দুই ডজন চীনা জাহাজ ক্রেন এবং নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ‘অ্যান্টিলোপ রিফ’-এ একটি নতুন সামরিক আউটপোস্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
জাপানও এখন এক শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা তাইওয়ানের খুব কাছে অবস্থিত। তাদের কিছু দ্বীপের মালিকানা চীন নিজের বলে দাবি করে। জাপানের ব্যবহৃত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে একটি অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সামরিক সংকটের এই যোগসূত্র টোকিওকে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
টোকিওর সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো সুনিও ওয়াতানাবে বলেন, ‘এটি হবে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন।… জাপান বুঝতে পারছে যে ট্রাম্পের অধীনে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এগোতে হবে।’
৩. অস্ত্রের জন্য আর আমেরিকার ওপর ভরসা করা যায় না
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে যেভাবে সমরাস্ত্র আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে পরিষ্কার যে আমেরিকার সমরযন্ত্র আসলে ভেতর থেকে কতটা ফাঁপা।
যুদ্ধের হিসাব আমেরিকার অনেক অংশীদারকেই আতঙ্কিত করে তুলছে। একটি মাত্র প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র পুরো ২০২৫ সাল জুড়ে মোটে ৬০০টি এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। অথচ কিছু হিসাব বলছে, মাত্র দুই সপ্তাহের কম সময়ের যুদ্ধে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি এমন ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হয়ে গেছে।
অবশ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে অন্যান্য সম্পদও রয়েছে। তারা এখন তুলনামূলক সস্তা প্রচুর পরিমাণে মজুত থাকা বোমার দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া গত জানুয়ারিতে লকহিড মার্টিনের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানো।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে পড়ে যেসব দেশ মার্কিন সমরাস্ত্র কেনার জন্য সামরিক বাজেট বাড়িয়েছিল, তাদের কাছে ইরান যুদ্ধ এখন একটি বিপদ সংকেত। তারা যা কিনছে তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
জাপান সরকারের গত জানুয়ারির এক তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ৭২০ কোটি ডলার মূল্যের ১১৮টি মার্কিন অস্ত্রের অর্ডার চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও সরবরাহ করা হয়নি।
তাইওয়ানে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই যুদ্ধ তাদের পরিস্থিতি আরও শোচনীয় করে তুলবে। একদিকে গোলাবারুদের সংকটের কারণে আমেরিকার দিক থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দুর্বল হয়ে যাবে। অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র কেনার জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর যৌক্তিকতা জনগণের কাছে তুলে ধরাও তাইওয়ান সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সমর্থিত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চ’-এর গবেষক শু সিয়াও-হুয়াং বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ অনিবার্যভাবে অস্ত্র সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলবে। আমরা ইতোমধ্যেই অস্ত্র চালানে বিলম্বের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’
এমন পরিস্থিতিতে অনেক দেশই এখন তাদের নিজস্ব সামরিক শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামবে। জাপান নিজস্ব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া গত অক্টোবরে তাদের প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির জন্য মার্কিন অনুমোদন পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই যুদ্ধ স্বনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি অন্যদের ওপর নির্ভরতা এক সময় নির্ভরতা ধসে পড়তে পারে। বাইরে থেকে কোনো সমর্থন না থাকলে আপনি নিজে কী করবেন, সেটি সবসময়ই মাথায় রাখতে হবে।’
এ অঞ্চলের দেশগুলোর এই উদ্বেগ নিয়ে পেন্টাগনের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা কেবল একটি সংক্ষিপ্ত ই-মেইল পাঠিয়েছে—‘আমাদের এই বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই।’

মার্কিন কর্মকর্তারা বছরের পর বছর ধরে বলে আসছেন যে তাদের প্রধান নজর থাকবে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অংশ নিতে তারা এশিয়া থেকে রণতরী, ক্ষেপণাস্ত্র আর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই দক্ষিণ চীন সাগর থেকে একটি আস্ত বিমানবাহী রণতরী বহরকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে ঘুরিয়ে দেয় আমেরিকা। চলতি সপ্তাহে পেন্টাগন এশিয়া থেকে অত্যাধুনিক সব আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নিচ্ছে। উদ্দেশ্য, ইরানের ড্রোন আর রকেট হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সরিয়ে নেওয়া এই সমরাস্ত্রের মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড সিস্টেমের ইন্টারসেপ্টর। দক্ষিণ কোরিয়া হলো এশিয়ার একমাত্র মিত্র দেশ, যেখানে থাড নামের এই উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থাটি আছে। মূলত উত্তর কোরিয়ার হুমকি মোকাবিলায় পেন্টাগন এটি মোতায়েন করেছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাড-ব্যবস্থা সরানো হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হয়েছে মোটে দুই সপ্তাহ। কিন্তু এর মধ্যেই তা এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে আমেরিকার দেওয়া সেই বড় বড় প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। অথচ মার্কিন সামরিক নেতারাই একসময় এশিয়াকে তাদের ‘সবচেয়ে অগ্রাধিকারমূলক অঞ্চল’ বলে অভিহিত করতেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধ আমেরিকার প্রভাবকে দুর্বল করবে, আমেরিকার পতন নিয়ে চীনের করা দাবিগুলোকে আরও জোরালো করবে আর মধ্যম সারির দেশগুলোর মধ্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতাকে উসকে দেবে।
যুদ্ধের রমরমা দিন দিন বাড়ছেই। চলতি সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে বিমান, সৈন্য এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জাপান ও তাইওয়ান আশঙ্কা করছে যে তাদের কাছে অস্ত্রের সরবরাহ পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা বর্তমানে অবিশ্বাস্য দ্রুতগতিতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার করছে। গত মঙ্গলবার পেন্টাগন মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই খরচ ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
অস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসা এবং নজর ঘুরে যাওয়ার এই বিষয়টি অনেক অঞ্চলের ওপরই প্রভাব ফেলছে। এশিয়ায় আমেরিকার মিত্ররা এই ঘাটতিকে তীব্রভাবে অনুভব করছে। কারণ চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তারা লড়াই করে টিকে থাকার চেষ্টা করছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং মঙ্গলবার তার মন্ত্রিসভাকে বলেছেন, পেন্টাগনের এই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও ‘বাস্তবতা হলো এই বিষয়ে আমাদের নিজেদের ইচ্ছামতো কিছু করার সুযোগ নেই।’
আমেরিকার এই নতুন সংঘাত থেকে এশিয়া এখন তিনটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে শুরু করেছে।
১. এশিয়া এখন আর আমেরিকার ১ নম্বর অগ্রাধিকার নয়
গত বছর সিঙ্গাপুরে এক আঞ্চলিক নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, আমেরিকার সমস্ত মনোযোগ এই অঞ্চলেই থাকবে। তিনি তখন বলেছিলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের মিত্র ও অংশীদারদের প্রতি আমেরিকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে কারও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। আমরা আমাদের বন্ধুদের আগলে রাখা অব্যাহত রাখব।’
কিন্তু এখন অনেক দেশের পক্ষেই এই কথা বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে যখন দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রয়োজন মেটাতে খোদ উত্তর কোরিয়ার মতো এক বেপরোয়া পারমাণবিক শক্তিধর দেশের প্রতিবেশী মিত্র রাষ্ট্র থেকে বিশেষায়িত সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেনের আমলে ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তাবিষয়ক সাবেক সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব এলি র্যাটনার বলেন, ‘কোরিয়া থেকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত নেতিবাচক একটি সংকেত। এমন এক সময়ে এটি করা হচ্ছে যখন দক্ষিণ কোরিয়া এমনিতেই এশিয়ার প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নড়বড়ে প্রতিশ্রুতি নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে।’
থাড মার্কিন অস্ত্রাগারের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কবজ যা বিভিন্ন উচ্চতায় ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্রকে মাঝআকাশেই গুঁড়িয়ে দিতে পারে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অন্তত পাঁচটি এমন সিস্টেম রয়েছে। আর এশিয়ায় এই থাড লঞ্চারগুলো মোতায়েন করা ছিল গুয়াম এবং দক্ষিণ কোরিয়ায়।
র্যাটনার বলেন, ২০১৭ সালে সিউলের কাছে এই থাড স্থাপন করা হয়েছিল। তখন চীন এর প্রতিবাদে দক্ষিণ কোরীয় পণ্য বর্জন এবং দেশটিতে পর্যটন নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। চীনের দাবি ছিল, এই সিস্টেম তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
র্যাটনার যোগ করেন, ‘আর এখন, আমেরিকা সেই থাড সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে স্রেফ মধ্যপ্রাচ্যের একটি যুদ্ধের জন্য।’
২. চীনের প্রভাব ও আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।
অর্থনীতি আর নিরাপত্তার সংকট এখন একে অপরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এশিয়ার উৎপাদনমুখী দেশগুলো এখন চরম ঝুঁকির মুখে। এই দেশগুলো তাদের তেলের সিংহভাগই পায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতে বড় ধস লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফিলিপাইনের মতো মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে পেট্রোল-অকটেন রেশনিং বা সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। আর এটাই বেইজিংয়ের জন্য একটা বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এশিয়ার এই অর্থনৈতিক সমস্যার প্রতি আমেরিকার এই উদাসীনতাকে পুঁজি করে চীন এখন আগের চেয়েও জোরেসোরে প্রচার করতে পারবে যে, এ অঞ্চলে চীনই একমাত্র নির্ভরযোগ্য পরাশক্তি।
এই যুদ্ধ চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোকে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করার মোক্ষম রসদ জুগিয়ে দিয়েছে। গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রায়ত্ত চায়না ডেইলি একটি কার্টুন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ‘আঙ্কেল স্যাম’ (আমেরিকা) মাকড়সার এক বিশাল জালে আটকে আছে। কার্টুনের শিরোনাম ছিল: ‘যুক্তরাষ্ট্র এখন মধ্যপ্রাচ্যের চোরাবালিতে বন্দি’।
এই অঞ্চলের কূটনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধের এই ডামাডোলে বেইজিং তাদের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারে আরও বেশি স্বাধীনতা পেয়ে যাবে। তারা তাইওয়ানের চারপাশে সামরিক বিমান ওড়ানো কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সমুদ্রসীমায় চীনের নৌবাহিনী তাইওয়ানসহ অন্যান্য এলাকায় আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।
গত বছরের শেষের দিকে চীন দক্ষিণ চীন সাগরে ভিয়েতনাম উপকূলে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কাজ আবারও শুরু করেছে। ‘ওপেন সোর্স সেন্টার’-এর স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, গত কয়েক সপ্তাহে সেখানে খনন কাজ আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রায় দুই ডজন চীনা জাহাজ ক্রেন এবং নির্মাণসামগ্রী নিয়ে ‘অ্যান্টিলোপ রিফ’-এ একটি নতুন সামরিক আউটপোস্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত রয়েছে।
জাপানও এখন এক শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। তারা তাইওয়ানের খুব কাছে অবস্থিত। তাদের কিছু দ্বীপের মালিকানা চীন নিজের বলে দাবি করে। জাপানের ব্যবহৃত তেলের ৯০ শতাংশের বেশি আসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে। ফলে একটি অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে সামরিক সংকটের এই যোগসূত্র টোকিওকে মারাত্মক দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
টোকিওর সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ফেলো সুনিও ওয়াতানাবে বলেন, ‘এটি হবে এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন।… জাপান বুঝতে পারছে যে ট্রাম্পের অধীনে যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে। আমাদের এখন সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এগোতে হবে।’
৩. অস্ত্রের জন্য আর আমেরিকার ওপর ভরসা করা যায় না
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে যেভাবে সমরাস্ত্র আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে, তাতে পরিষ্কার যে আমেরিকার সমরযন্ত্র আসলে ভেতর থেকে কতটা ফাঁপা।
যুদ্ধের হিসাব আমেরিকার অনেক অংশীদারকেই আতঙ্কিত করে তুলছে। একটি মাত্র প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র পুরো ২০২৫ সাল জুড়ে মোটে ৬০০টি এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে। অথচ কিছু হিসাব বলছে, মাত্র দুই সপ্তাহের কম সময়ের যুদ্ধে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি এমন ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হয়ে গেছে।
অবশ্য মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে অন্যান্য সম্পদও রয়েছে। তারা এখন তুলনামূলক সস্তা প্রচুর পরিমাণে মজুত থাকা বোমার দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া গত জানুয়ারিতে লকহিড মার্টিনের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের উৎপাদন তিনগুণ বাড়ানো।
কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে পড়ে যেসব দেশ মার্কিন সমরাস্ত্র কেনার জন্য সামরিক বাজেট বাড়িয়েছিল, তাদের কাছে ইরান যুদ্ধ এখন একটি বিপদ সংকেত। তারা যা কিনছে তা হয়তো অদূর ভবিষ্যতে হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
জাপান সরকারের গত জানুয়ারির এক তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ৭২০ কোটি ডলার মূল্যের ১১৮টি মার্কিন অস্ত্রের অর্ডার চুক্তি স্বাক্ষরের পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও সরবরাহ করা হয়নি।
তাইওয়ানে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, এই যুদ্ধ তাদের পরিস্থিতি আরও শোচনীয় করে তুলবে। একদিকে গোলাবারুদের সংকটের কারণে আমেরিকার দিক থেকে নিরাপত্তা সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দুর্বল হয়ে যাবে। অন্যদিকে মার্কিন অস্ত্র কেনার জন্য প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোর যৌক্তিকতা জনগণের কাছে তুলে ধরাও তাইওয়ান সরকারের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সমর্থিত থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি রিসার্চ’-এর গবেষক শু সিয়াও-হুয়াং বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ অনিবার্যভাবে অস্ত্র সরবরাহের ওপর প্রভাব ফেলবে। আমরা ইতোমধ্যেই অস্ত্র চালানে বিলম্বের সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি।’
এমন পরিস্থিতিতে অনেক দেশই এখন তাদের নিজস্ব সামরিক শিল্প সক্ষমতা বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় নামবে। জাপান নিজস্ব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করছে। দক্ষিণ কোরিয়া গত অক্টোবরে তাদের প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন তৈরির জন্য মার্কিন অনুমোদন পেয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই যুদ্ধ স্বনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আমরা যদি অন্যদের ওপর নির্ভরতা এক সময় নির্ভরতা ধসে পড়তে পারে। বাইরে থেকে কোনো সমর্থন না থাকলে আপনি নিজে কী করবেন, সেটি সবসময়ই মাথায় রাখতে হবে।’
এ অঞ্চলের দেশগুলোর এই উদ্বেগ নিয়ে পেন্টাগনের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তারা কেবল একটি সংক্ষিপ্ত ই-মেইল পাঠিয়েছে—‘আমাদের এই বিষয়ে দেওয়ার মতো কোনো তথ্য নেই।’

বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবী জার্মানির ইয়ুর্গেন হ্যাবারমাস ৯৬ বছর বয়সে মারা গেছেন। শনিবার (১৪ মার্চ) মিউনিখ শহরের কাছে স্টার্নবার্গ এলাকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। খবর বার্তাসংস্থা এপি
২ ঘণ্টা আগে
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে ইসলামপন্থীদের পুনরুত্থান। এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন ঘটে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। হাসিনার আমলেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ হয়েছিল।
৪ ঘণ্টা আগে
রাশিয়ার তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দেশটির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করছেন ইউরোপীয় নেতারা।
১৩ ঘণ্টা আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে অনেক দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে। যুক্তরাষ্ট্র প্রণালির উপকূলে বোমা ফেলবে আর ইরানের যুদ্ধজাহাজ ও নৌযান লক্ষ্য করে গুলি ছুড়বে। সেসব দেশের মধ্যে চীনও থাকবে।
১৫ ঘণ্টা আগে