জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

রয়টার্সের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে আরও কঠোর ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ মার্চ ২০২৬, ২৩: ৫৫
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের আলোচনার ভঙ্গি নাটকীয়ভাবে কঠোর হয়েছে। এর পেছনে কারণ হলো ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রভাব বাড়ছে। তাই তৃতীয়পক্ষের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টায় যদি কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় ধরনের ছাড় দাবি করবে ইরান।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তাসংস্থা তেহরানের তিনটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায় ইরান কেবল যুদ্ধ বন্ধের দাবিই জানাবে না, বরং এমন কিছু ছাড় চাইবে যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে—যেমন ভবিষ্যতে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে গ্যারান্টি, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ।

সূত্রগুলো জানায়, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করতে রাজি নয়। গত মাসে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করেছিল, তখনও তেহরান এটি নিয়ে অনড় অবস্থান বা ‘রেড লাইনে’ ছিল।

আলোচনা নিয়ে মিশ্র ইঙ্গিত

ট্রাম্প সোমবার (২৩ মার্চ) বলেছেন, ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে তেহরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা’ করেছে। যদিও ইরান প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করেছে।

ইরানের ওই সূত্রগুলো দাবি করেছে, শুধুমাত্র পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিসরের সঙ্গে ইরান প্রাথমিক আলোচনা করেছে। আর আলোচনার বিষয় ছিল যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার কোনো ভিত্তি আছে কিনা।

এদিকে, ইউরোপীয় এক কর্মকর্তা সোমবার বলেছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সরাসরি আলোচনা না হলেও মিসর, পাকিস্তান এবং উপসাগরীয় দেশগুলো বার্তা আদান-প্রদান করছে। পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা এবং অন্য একটি সূত্রও সোমবার জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইসলামাবাদে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সরাসরি আলোচনা হতে পারে।

ইরানি সূত্রগুলো জানিয়েছে, যদি এমন কোনো আলোচনার আয়োজন হয়, তবে ইরান সেখানে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ক্বালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে পাঠাবে। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যেকোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত কট্টরপন্থী আইআরজিসির ওপর নির্ভর করবে।

ইসরায়েলিদের সংশয়

অন্যদিকে, উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি তিন কর্মকর্তাও মঙ্গলবার বলেছেন, ট্রাম্প একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বদ্ধপরিকর বলে মনে হচ্ছে। তবে তাঁদের মতে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাঁদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলোর মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং হরমুজ প্রণালি (যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এবং গ্যাস প্রবাহিত হয়) বন্ধ করার ক্ষমতা হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ইরানের সবচেয়ে কার্যকর জবাব। পরবর্তী হামলায় নিজেকে অসহায় রেখে ইরান এগুলো ছেড়ে দিতে রাজি নাও হতে পারে।

এছাড়া, ইরানি নীতিনির্ধারকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তিতে বিশ্বাস করতে রাজি নাও হতে পারেন। কারণ গত বছর একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা সত্ত্বেও ইরান হামলার শিকার হয়েছে। তারা আরও দেখছেন, যুদ্ধবিরতির পরও লেবানন এবং গাজায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।

ইরানের ভেতরে অভ্যন্তরীণ উদ্বেগগুলোও তেহরানের আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে আইআরজিসির ক্রমবর্ধমান ক্ষমতা এবং শাসন ব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায়ে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে এখনও কোনো ছবি বা ভিডিওতে জনসমক্ষে আসেননি।

সম্পর্কিত