জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইরানের নতুন নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে জোলকাদরের নিয়োগ কেন গুরুত্বপূর্ণ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৫ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৪৩
মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আলী লারিজানির জায়গায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীন এই পদে মনোনীত হওয়ায় জোলকাদরকে এখন এক জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামলাতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সামরিক চাপ এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জ মিলিয়ে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে তাঁকে ‘নিরাপত্তা অঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। জোলকাদর ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং ২০২৩ সাল থেকে পরামর্শমূলক সংস্থা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ইরানের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্দরে নিয়ে আসে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির প্রথম প্রজন্মের সদস্য জোলকাদর ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আট বছর আইআরজিসির জয়েন্ট স্টাফ প্রধান এবং আরও আট বছর সংগঠনটির উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ও বিচারবিভাগীয় পদেও দায়িত্ব পালন করেন।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের এমন একজনকে দরকার ছিল যিনি লারিজানির শূন্যস্থান পূরণ করবেন এবং যিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। এই শূন্যস্থান পূরণ কখনোই সহজ ছিল না। সেই শূন্যস্থানই পূরণ করা হয়েছে জোলকাদরকে দিয়ে।

তাই জোলকাদরের নিয়োগকে চলমান যুদ্ধের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাঁর এ নিয়োগ সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে উপযুক্ত গুণাবলিসম্পন্ন ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার দীর্ঘ এক প্রক্রিয়ার ফল।

চ্যালেঞ্জ

জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পদটি নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তাই এই পদে এমন একজনকে দরকার, যিনি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞতার পাশাপাশি কৌশলগত বিষয়াদিও পরিচালনার সক্ষমতাও রাখেন।

ইরানের কট্টরপন্থীরাও জোলকাদরকে লারিজানির চেয়ে বেশি উপযুক্ত মনে করতে পারেন। কারণ অতীতে তাঁর সামরিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দেশটির বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি সামলাতে বেশি কার্যকর বলে বিবেচনা নেওয়া যেতে পারে।

চলমান যুদ্ধ জোলকাদরের সামনে একাধিক তাৎক্ষণিক পরীক্ষা নিয়ে হাজির হয়েছে। তেহরান ও ইস্পাহানের মতো বড় শহরগুলোর পাশাপাশি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম ইরানেও—বিশেষত দেশটির পশ্চিম সীমান্তঘেঁষা পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলা দেশের ভেতর থেকে অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা উসকে দিচ্ছে।

ইরানি কর্তৃপক্ষ বিদেশি গুপ্তচরের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে শত শত মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ফাঁস ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বিক্ষোভে হাজার হাজার ইরানি প্রাণ হারান।

অন্যদিকে, তেহরান অঞ্চলজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ধারা অব্যাহত রেখেছে। ইরানের গোয়েন্দা সংস্থা চায়, এই হামলাগুলোর মাধ্যমে একটি বার্তা যাক—ইসরায়েলের গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে চাপ অব্যাহত রাখতেও চায় ইরান, যা ইতিমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাইরের সামরিক চাপ এবং ভেতরের নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সমন্বয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই নাজুক ভারসাম্য রক্ষায় নিজের সামর্থ্যের প্রথম পরীক্ষার মুখোমুখি এখন জোলকাদর।

এছাড়া যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনায়ও তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে। তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক আলী হাশেম বলেন, ‘জোলকাদরের নিয়োগ ইঙ্গিত দিচ্ছে—ইরানের নেতৃত্ব জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় আরও বেশি সামরিক অংশকে যুক্ত করতে চাইছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলোচনার টেবিলে যে-ই বসুক না কেন, যেকোন সিদ্ধান্ত পাস হওয়ার আগে জোলকাদরের অনুমোদন নিতে হবে।’

সম্পর্কিত