নারায়ণগঞ্জে দুই এসিল্যান্ডসহ ভূমি অফিসের ২০ জনকে শোকজ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ৪২
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা। ছবি: সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমা। ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শনে গিয়ে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন উপস্থিত না পাওয়ায় দুই সহকারী কমিশনারসহ ২০ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে জেলা প্রশাসনের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জাকিয়া সরওয়ার লিমা এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের ১০, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের ৬ ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের দুজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জাকিয়া সরওয়ার লিমার সই করা এই-সংক্রান্ত নোটিশে বলা হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ভূমি অফিস পরিদর্শনে গেলে এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনুপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ৩১ আগস্টের হাজিরা খাতায় আগের দিনই তারা সই করে যান, যা সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর খ ধারার অপরাধের শামিল।

যুক্তিসংগত কারণ ব্যতীত অফিসে অনুপস্থিত থাকা কিংবা বিলম্বে উপস্থিত হওয়া সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা ২০১৯ এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘণ বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে এর কারণ জানাতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংমাচিং মারমাকে কারণ দর্শানোর নোটিশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সই করেছেন।

জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ভূমি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুপস্থিত থাকা এবং তাদের হাজিরা খাতায় আগাম স্বাক্ষর থাকার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের কাছ থেকে সুনির্দিষ্টা কারণ জানার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সবাই হয়তো দোষ করেননি। কেউ কেউ আগাম স্বাক্ষর করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর পরিষ্কারভাবে বলা যাবে।

এর আগে সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ নগরীর খানপুর এলাকায় অবস্থিত সদর উপজেলা ভূমি অফিসে যান ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। এই এলাকায় একই চত্বরে পাশাপাশি সদর উপজেলা সহকারী কমিশনারের এবং ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কার্যালয় রয়েছে।

সকাল ৯টার কয়েক মিনিট আগে কার্যালয়ে ঢোকেন মীর হেলাল উদ্দীন। কিন্তু ৯টার পরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী আসেননি। তখন তিনি হাজিরা খাতা পর্যবেক্ষণ করেন। অন্তত ২০ মিনিট পর খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিনাত ফৌজিয়া সেখানে উপস্থিত হন। তারও কিছুক্ষণ পর আসেন ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার অংমাচিং মারমা।

আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গরহাজির এবং হাজির না থেকেও খাতায় আগাম স্বাক্ষর করায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে তদন্তের নির্দেশ দেন।

দুই এসিল্যান্ড ছাড়াও যাঁরা শোকজ পেয়েছেন, তাঁরা হলেন– সদর উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো আব্দুস সাত্তার, সার্ভেয়ার মো. আসাদুজ্জামান, নাজির কাম ক্যাশিয়ার মাসুম মিয়া, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজা আক্তার, সার্টিফিকেট সহকারী সাদিয়া আক্তার, চেইনম্যান মীর মোজাম্মেল হক, অফিস সহায়ক আব্দুস সালাম রূপম, অফিস সহায়ক ইউনূস আলী, অফিস সহায়ক মোক্তার হোসেন, গাড়িচালক নাদিম হায়দার, সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের কানুনগো ফারুক আলম, সার্ভেয়ার জামাল উদ্দিন, মিউটেশন কাম সার্টিফিকেট সহকারী জান্নাত হোসেন, নাজির কাজী তানজিরুল হক, অফিস সহায়ক মোকলেছ শেখ, চেইনম্যান রফিকুল ইসলাম, ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মিল্টন রায় ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক সাহাদাত।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত