লোডশেডিংয়ে এয়ারেটর বন্ধ, মরল ১০ হাজার মণ মাছ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
যশোর

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১১: ৫৪
ঘেরে মরে ভেসে ওঠা মাছ। সংগৃহীত ছবি
ঘেরে মরে ভেসে ওঠা মাছ। সংগৃহীত ছবি

যশোরের শার্শা উপজেলার সোনামুখো বিলে লোডশেডিংয়ের কারণে এয়ারেটর ব্যবহার করতে না পারায় পানিতে অক্সিজেনসংকট দেখা দেয়। এতে প্রায় ১০ হাজার মণ পাবদা মাছ মরে ভেসে উঠেছে। মালিকপক্ষের দাবি, এর বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলের সজনের ঘেরে মাছের এই আকস্মিক মড়ক শুরু হয়। পরদিন সকাল হতে না হতেই বিপুল পরিমাণ পাবদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মরে পানির ওপরে ভেসে ওঠে।

খামারমালিকদের দাবি, মাছের ঘেড়ে অক্সিজেন সরবরাহ করতে বিদ্যুৎচালিত প্যাডেল হুইল এয়ারেটর মেশিন চালাতে হয়। কিন্তু দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় ধরে লোডশেডিং হওয়ায় ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুল পরিমাণ মাছ মারা যায়। এ ঘটনার পর উপজেলার অন্যান্য এলাকার মৎস্যচাষিরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

সোনামুখো বিলের এ ঘেরটির মালিকানা এ এফ মৎস্য খামারের। যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছেন আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন। খামারমালিকদের হিসাবে, ২০০ বিঘা ঘেরে ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছে প্রায় এক কেজি হিসেবে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ হাজার মণ। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ মাছের দাম প্রায় ১৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে মাছের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। মাছগুলো বাজারজাত ও ভারতে রপ্তানির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল।

খামার মালিক আলফাজুল হক বলেন, ‘মাছের খাদ্য বাবদ বাকিতে বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল নিয়েছি। এই ঋণ কীভাবে শোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

অন্য খামারি ফারুক হোসেন বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছি। হয়তো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারব না। এই খামারের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০০ পরিবার নির্ভরশীল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাত ১টার পর থেকে বিদ্যুৎ না থাকায় অক্সিজেন সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সকাল হওয়ার আগেই বিপুল পরিমাণ পাবদা মাছ মারা যায় এবং পচতে শুরু করে।’

খামারসংশ্লিষ্টরা জানান, এ খামারে উৎপাদিত পাবদা মাছের একটি অংশ রপ্তানি চেইনের মাধ্যমে ভারতে যায়। ফলে এ ধরনের মাছ চাষ শুধু স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণই করে না, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখে। ক্ষতিগ্রস্ত মাছচাষিদের অভিযোগ, মাছের মড়ক শুরু হওয়ার পর থেকে শার্শা উপজেলা প্রশাসন, মত্স্য অধিদপ্তর বা বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নেননি। তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং সরকারি সহায়তার দাবি জানান।

স্থানীয় মৎস্যচাষিদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করতে হবে।

এ বিষয়ে বেনাপোল সাব-জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) মনজুরুল ইসলাম বলেন, সারা দেশে বাংলাদেশে লোড শেডিং চলছে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকায় কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দিন দিন উন্নতি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত