কক্সবাজারে বিদেশি পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টায় তিনজনের কারাদণ্ড

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কক্সবাজার

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ২১: ৫৭
কক্সবাজার জেলা জজ আদালত। সংগৃহীত ছবি

কক্সবাজারে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিককে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামিদের অনুপস্থিতিতে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল গফুর (২৬) এবং বেলাল উদ্দিন (৩৬)। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে অংশ নেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মীর মোশাররফ হোসেন টিটু এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন মঈন।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম জানান, ছয় সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত এ রায় দেন।

রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ)/৩০ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন ভুক্তভোগী। ১৪ ডিসেম্বর তিনি কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মারমেইড বিচ রিসোর্টের পাশে ‘গুড ভাইব কটেজে’ ওঠেন। এর দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর রাতে ওই তিন আসামি কটেজে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় ভুক্তভোগীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন এবং চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং কক্সবাজারে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের নিরাপত্তাকর্মী আবদুল গফুর অন্য দুই আসামিকে ডেকে এনেছিলেন। চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করলেও পরে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) স্বরূপকান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামি বেলাল উদ্দিন এখনো পলাতক।

Ad 300x250

সম্পর্কিত