গ্যাস সংকটে রূপগঞ্জে তিন সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ, দুর্ভোগে চালক-যাত্রীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ : ২৭ জুলাই ২০২৬, ২১: ১৩
রূপগঞ্জে গ্যাস সংকটে বন্ধ ফিলিং স্টেশন। স্ট্রিম ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চারটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে তিনটিই গ্যাস সংকটে প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। একটি স্টেশন সীমিত পরিসরে চালু আছে। সেখানে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় একটি গাড়িতে ৫০ টাকার বেশি গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলছেন চালকেরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজিচালিত যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার চার ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সাওঘাটে বিসমিল্লা সিএনজি ফিলিং স্টেশন, বরপায় রংধনু সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও বাকি দুইটা রুপসি এলাকায় অবস্থিত। এর মধ্যে সচল বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনে সোমবার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন শতাধিক গাড়ি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে চাহিদা মতো গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। কেউ কেউ সামান্য গ্যাস নিয়েই আবার যাত্রী পরিবহনে বের হচ্ছেন। এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি আয়ও কমে গেছে চালকদের।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মোকলেস বলেন, গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু পরিবহন খাত নয়, শিল্প-কারখানা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সময় মতো পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিতে পারে।

রূপগঞ্জে সচল একমাত্র ফিলিং স্টেশনের যানবাহনের ভিড়। স্ট্রিম ছবি
রূপগঞ্জে সচল একমাত্র ফিলিং স্টেশনের যানবাহনের ভিড়। স্ট্রিম ছবি

যাত্রী সামিয়া ইয়াসমিন বলেন, পর্যাপ্ত যানবাহন না থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ভাড়া বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গন্তব্যে পৌঁছাতেও বিলম্ব হচ্ছে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অটোরিকশাচালক জাকির জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মাত্র ৫০ টাকার মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। এত অল্প গ্যাসে কয়েক কিলোমিটারের বেশি চলা সম্ভব হয় না। ফলে বারবার স্টেশনে ফিরতে হচ্ছে। অনেক সময় যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

বন্ধ দুটি ফিলিং স্টেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুজন কর্মকর্তা জানান, তারা পাইপ লাইনে গ্যাস পাচ্ছে না। এতে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকছে, অ্যাম্বুলেন্সও দাঁড়িয়ে থাকছে, কিন্তু তারা গ্যাস দিতে পারছেন না। অনেক চালক তাদের সামনে এসে কান্না করছে। এ ব্যাপারে তারা সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিসমিল্লা সিএনজি ফিলিং স্টেশনের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, আগে লাইনে গ্যাস ভালোই ছিল। সপ্তাহখানেকের বেশি দিন ধরে লাইনে গ্যাস একেবারেই কম আসছে, গ্যাসের প্রেসার কম সংকট দেখা দিয়েছে। আমাদের এই লাইনে যে পাম্প রয়েছে, সবগুলোতেই গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। বরপা, রূপসীসহ সব পাম্পেই একই সমস্যা। আমরাও টিভিতে দেখছি, ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্যাস সংকটের বিষয়ে জানতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ডিজিএম জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় জানান, রূপগঞ্জসহ সারা দেশেই গ্যাসের লাইনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। এর সমাধানে কাজ চলছে। আশা করছি, দু-একদিনের মধ্যে সমস্যাটি সমাধান হয়ে যাবে। সবাই আগের মতো গ্যাস পাবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত