জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টা

অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে সময় চাইলেন জাবি উপাচার্য

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে শিক্ষার্থীদের কাছে সময় চেয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অপরাধীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন।’

ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৬ মে) বিকেলে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। সেখানে উপস্থিত হয়ে উপাচার্য এসব কথা বলেন।

এর আগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে ব্যর্থ বা তদন্তে গাফিলতি হলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দেন জাকসু নেতারা। নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনাসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন দাবিও তুলে ধরেন তারা।

দাবির মধ্যে রয়েছে—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ শনাক্তে প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়ে রেজিস্ট্রার, নিরাপত্তা শাখা ও প্রক্টরিয়াল বডির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিশৃঙ্খলা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

এদিকে, তদন্তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে জাকসু নেতারা জানান, ঘটনার দিন সামাজিক মাধ্যমে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে বিকৃত করে প্রচার হয়েছে। যাচাইবিহীন ছবি প্রচারের ফলে প্রকৃত অপরাধী শনাক্তের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং পুরো ঘটনায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জাকসুর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জাকসুর সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত

জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, অবিলম্বে অপরাধী গ্রেপ্তার হবে। যদি কারও গাফিলতি থাকে—তা সে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের রেজিস্ট্রার, নিরাপত্তা শাখা কিংবা প্রক্টরিয়াল বডি যারই হোক না কেন, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার তৎপরতায় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

এআই দিয়ে তৈরি ছবি প্রচার এবং প্রক্টরের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে পরে উপাচার্য বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেছি, আমাদের একটি সুযোগ দিন। কেন ছবি দু-রকম হলো, কার অবহেলায় এমন হলো এবং নিরাপত্তার ব্যত্যয় হলো—এ বিষয়গুলো সুরাহা করতে তদন্ত কমিটি গঠন হবে। যারা দায়িত্বে অবহেলা করেছে তাদের চিহ্নিত করা হবে।’

সম্পর্কিত