সরকারের মাথা কোথায় বন্ধক রাখা, স্পষ্ট নয়: নাহিদ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কোনো পরাশক্তির প্লে গ্রাউন্ড হিসেবে দেখতে চাই না বলে জানিয়েছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কোথায় মাথা বন্ধক রেখে ক্ষমতায় এসেছে, আমরা এখনো স্পষ্ট নয়। তারা কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী হয়ে দেশ পরিচালনা করবে, তা জনগণ মেনে নেবে না।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর তোপখানা রোডের বিএমএ ভবনে জাতীয় যুবশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘তারুণ্যের ঐক্য: নতুন বাংলাদেশের শক্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি আমাদের জনগণের পক্ষে তৈরি হবে। এক দল আগে ভারতের মুখাপেক্ষী ছিল। এখন সরকারের অন্য কোনো পরাশক্তির মুখাপেক্ষী হওয়া জনগণ মেনে নেবে না। কিছুদিন আগে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি চুক্তি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারও শেষ সময়ে বাণিজ্য চুক্তি করে গেছে।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে হবে। সরকারি ও বিরোধী দল আলাপ-আলোচনা করে এ ধরনের চুক্তি নই করতে হবে। চুক্তিগুলো অসম কিনা, জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে কিনা, তা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে হামের প্রকোপ চলছে। সাড়ে চারশোর বেশি শিশু মারা গেছে। সরকারকে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে। সরকার হাম মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছে। শিগগির মেডিকেল ইমার্জেন্সি ঘোষণা করতে হবে। কয়েকটি হাসপাতালকে হামের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল করতে হবে। সরকার এর-ওর ওপর দায় চাপিয়ে বাঁচতে চাচ্ছে। কারও দায় থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

সংস্কার কার্যক্রমের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে বর্তমান সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। সব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করেছে। যুবকদের জন্য দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি। এক কোটি কর্মসংস্থানের কিছুই আমরা দেখতে পাচ্ছি না।

ফারাক্কা দিবসে মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, অভিন্ন প্রায় সবগুলো নদীতে বাঁধ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার করছে ভারত। স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত করছে। এ বছর গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি শেষ হচ্ছে। আমরা নতুন চুক্তিতে আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা দেখতে চাই। আমরা দেখতে চাই– নতুন সরকার ভারতীয় আধিপত্যের বাইরে গিয়ে আমাদের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে পারে কিনা। নাকি আওয়ামী লীগের মতো নতজানু চুক্তি করে।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ-ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে রক্তাক্ত সীমান্ত। আমাদের হাজারের বেশি নাগরিক ভারতীয় বাহিনী হত্যা করেছে। মওলানা ভাসানী ফারাক্কা লংমার্চ করেছিলেন। যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সীমান্ত লং মার্চের ঘোষণা দেব। বাংলাদেশের সীমান্ত আমরা নিরাপদ করব। আমাদের পানির ন্যায্য হিস্যা আমরা আদায় করব। আমাদের সার্বভৌমত্ব আমরা নিরাপদ রাখব।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান নিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে হিন্দুত্ববাদের উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশে পুশ-ইন করছে। বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে।

সরকারকে বিরোধী দল সহায়তা করতে চেয়েছিল উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছি। কিন্তু সরকার সে পথ বন্ধ করে দিয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন ব্যর্থ করে দিয়েছে। রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান যতটা সফল ছিলেন, তারেক রহমান ততটা ব্যর্থ হবার পথে। পিআর দিয়ে দেশ চলে না। কোনো পরাশক্তির লেজ ধরে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন না। রাজনৈতিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। মানুষ এখন সব বোঝে। মানুষের সঙ্গে তামাশা হচ্ছে। দলের ক্যাশিয়ারদের মন্ত্রী করা হয়েছে। তাদের বাদ দিয়ে ভালো মানুষদের হাতে দায়িত্ব দিন।

মধ্যবর্তী নির্বাচন দরকার হতে পারে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন হলে নাকি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু আমরা দেখছি– এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কয়েকগুণ বেশি অবনতি ঘটেছে। আপনারা আপনাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেন। আপনাদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে, মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রয়োজন হবে কিনা। বাংলাদেশের জনগণের ভোগান্তি দেখতে চাই না। কোনো পরাশক্তির কাছে দেশকে বন্ধক রাখা আমরা দেখতে চাই না।

কারিনার মৃত্যুতে ফ্যাসিবাদীরা বুনো উল্লাস করছে

বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের মিছিলের কথা উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ফ্যাসিবাদীরা মিছিল করছে। কাদের ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগ মিছিল করছে, আমরা জানতে চাই। আমরা এজন্য সরকার এবং প্রশাসনকে জবাবদিহি করব। জুলাইযোদ্ধা কারিনা কায়সার মারা গেছেন। ফ্যাসিবাদীরা এতে উল্লাস করছে। আমরা তাদের সঙ্গে শরিফ ওসমান হাদির মতো ইনসাফ চাই। কিন্তু আমরা এই বুনো উল্লাস মনে রাখব।

জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলের সঞ্চালনায় সভায় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত