স্ট্রিম সংবাদদাতা

পাবনার বেড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘ভুয়া’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অতিরিক্ত খাদ্য বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বাড়তি ডিম, বনরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে অধিকাংশে প্রকৃত উপস্থিতির সঙ্গে হাজিরা খাতা ও খাদ্য বরাদ্দের বিস্তর অসংগতি দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি দেখিয়ে এই বরাদ্দ তোলা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ার চেয়ে ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে খাবার আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু ২০২৫ সালে হয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এর আওতায় সপ্তাহের পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম, বনরুটি, দুধ, বিস্কুট ও কলা বিতরণ করা হয়। পাবনার শুধু বেড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৪ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে গড়ে ৯০ শতাংশ হারে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন ২২ হাজার শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাচ্ছে।
এদিকে, গত রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথম শিফটে সব শ্রেণি মিলিয়ে মাত্র ১৮ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। তবে শিক্ষকদের দাবি, বিদ্যালয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন উপস্থিত ছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষকরা জানান, তিনি মোবাইল ফোন মেরামত করতে পাশের মাসুন্দিয়া বাজারে গেছেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন দাবি করেন, প্রথম শিফটে ২৬ জন ও দ্বিতীয় শিফটে ২৮ জন উপস্থিত ছিল।
একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় পাওয়া যায় ১১১ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিত। এ সময় শিক্ষক অসিত কুমারকে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সিদ্ধ ডিম খেতে দেখা যায়। তবে সংবাদকর্মীদের দেখে তিনি ডিমের খোসা নিয়ে সরে যান। শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৯০ জন। তবে অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ১৭১ জনের নামে প্রতিদিন শিশুখাদ্য বরাদ্দ আসে। তবে প্রতিদিন ৪০-৫০ জনের খাবার উদ্বৃত্ত থাকে, যা শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম (ছদ্মনাম) বলে, ‘সবাইকে একটা করেই ডিম দেয়, বাকিগুলো স্যারেরা নিয়ে যান। আমরা চাইলেও কখনো দুইটা দেয় না।’ তবে শিক্ষার্থী সংখ্যার বেশি টিফিন আসে বলে সে জানায়।
উদ্বৃত্ত খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ইশ্রাফিল হোসেন জানান, পচনশীল খাবারের মধ্যে ডিম, পাউরুটি, কলা শিক্ষার্থীদেরও দিয়ে দেন। অনেক সময় শিক্ষকরাও নেন। তবে দুধ ও বিস্কুট তারা স্টকে রেখে দেন।
দুপুর ১২টার দিকে রূপগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট শিক্ষার্থী ১০৪ জন। তাদের মধ্যে ৯১ জনের জন্য খাবার বরাদ্দ রয়েছে। তবে অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দুই শিফট মিলিয়েও নিয়মিত ৫০-৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না।
মির্জাপুর-শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন উপস্থিত দেখানো হয়েছে রোববার। তবে দ্বিতীয় শিফটে দুপুর ২টার দিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। একইভাবে কোমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি রেজিস্টারে ৩১৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি উপস্থিত দেখানো হয়। তবে অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত উপস্থিতি ২০০-২২০ জনের বেশি নয়। এই বিদ্যালয়ে ২৭৫ জনের জন্য শিশুখাদ্য বরাদ্দ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ (ছদ্মনাম) বলে, ‘স্যারেরা ডিম, কলা বাসায় নিয়ে যায়। আমাদের একটার বেশি দেয় না। বাড়িতে এই ডিম রান্নাও করেন।’

একই দিন দুপুর ২টার পর তালিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত দেখা যায়। দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো উপস্থিতিই ছিল না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ উদ্দিন খান দাবি করেন, বৃষ্টির কারণে ছাত্রছাত্রীরা কম এসেছে।
এছাড়া উপজেলার দক্ষিণচর পেঁচাকোলা, পেঁচাকোলা, চরপাইখন্দ, বাগজান, ঢালারচর, বুলন্দর, দয়ালনগর, গণপতদিয়া, গঙ্গাদিয়া, চরকান্দি, মমতাজ উদ্দিন খান বালিকা, আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল, ধর্মগঞ্জ, বাগমির্জাপুর, চর রূপপুর, উদ্দিন মোল্লা ও চরভবানীপুরসহ অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ৯০ শতাংশের জন্য খাদ্য বরাদ্দ। তবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত উপস্থিতি অর্ধেকেরও কম।
শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে এ সব বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চান না অভিভাবকরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বেঁচে যাওয়া খাবার শিক্ষার্থীদের দেওয়া তো দূরের কথা, পারলে তাদের খাবারও খেয়ে ফেলেন শিক্ষকরা। অর্ধশতাধিক ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে খাদ্য বরাদ্দ নিয়ে অতিরিক্ত খাবার শিক্ষকরা ভাগ করে নেন। প্রতিদিন তারা ব্যাগে করে ডিম, কলা ও বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যান।
উপজেলার এক কলেজ শিক্ষক আলাউল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশের বোরামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরুর পর আর বাড়িতে ডিমই কেনেন না। স্কুলের ডিমই রান্না করে খান। শিক্ষকেরাই যদি এমন নীতিহীন হন, তাহলে বাচ্চারা তাদের কাছে কী শিখবে?’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর জানা মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম থাকলে উদ্বৃত্ত খাবার উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা জানান, স্কুল ফিডিং প্রকল্প শুরুর আগে থেকেই চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ হয়েছে। তবে উঠে আসা অভিযোগ খুবই গুরুতর এবং তিনি তদন্ত করে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, ‘বেড়ার বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পাবনার বেড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ‘ভুয়া’ শিক্ষার্থী দেখিয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির অতিরিক্ত খাদ্য বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে বাড়তি ডিম, বনরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কুট নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন শিক্ষকরা। উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে অধিকাংশে প্রকৃত উপস্থিতির সঙ্গে হাজিরা খাতা ও খাদ্য বরাদ্দের বিস্তর অসংগতি দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুয়া শিক্ষার্থী ভর্তি দেখিয়ে এই বরাদ্দ তোলা হচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ার চেয়ে ভুয়া উপস্থিতি দেখিয়ে খাবার আত্মসাতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত ও বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর লক্ষ্যে চালু ২০২৫ সালে হয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি। এর আওতায় সপ্তাহের পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিম, বনরুটি, দুধ, বিস্কুট ও কলা বিতরণ করা হয়। পাবনার শুধু বেড়া উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, উপজেলার ১১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ২৪ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের মধ্যে প্রতিটি বিদ্যালয়ে গড়ে ৯০ শতাংশ হারে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিদিন ২২ হাজার শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাচ্ছে।
এদিকে, গত রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে গোবিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রথম শিফটে সব শ্রেণি মিলিয়ে মাত্র ১৮ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। তবে শিক্ষকদের দাবি, বিদ্যালয়ে ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৮ জন উপস্থিত ছিল। এ সময় প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। সহকারী শিক্ষকরা জানান, তিনি মোবাইল ফোন মেরামত করতে পাশের মাসুন্দিয়া বাজারে গেছেন। পরে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন দাবি করেন, প্রথম শিফটে ২৬ জন ও দ্বিতীয় শিফটে ২৮ জন উপস্থিত ছিল।
একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ভবানীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় পাওয়া যায় ১১১ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিত। এ সময় শিক্ষক অসিত কুমারকে শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ সিদ্ধ ডিম খেতে দেখা যায়। তবে সংবাদকর্মীদের দেখে তিনি ডিমের খোসা নিয়ে সরে যান। শিক্ষকদের দাবি অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ১৯০ জন। তবে অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ১৭১ জনের নামে প্রতিদিন শিশুখাদ্য বরাদ্দ আসে। তবে প্রতিদিন ৪০-৫০ জনের খাবার উদ্বৃত্ত থাকে, যা শিক্ষকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম (ছদ্মনাম) বলে, ‘সবাইকে একটা করেই ডিম দেয়, বাকিগুলো স্যারেরা নিয়ে যান। আমরা চাইলেও কখনো দুইটা দেয় না।’ তবে শিক্ষার্থী সংখ্যার বেশি টিফিন আসে বলে সে জানায়।
উদ্বৃত্ত খাবারের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ইশ্রাফিল হোসেন জানান, পচনশীল খাবারের মধ্যে ডিম, পাউরুটি, কলা শিক্ষার্থীদেরও দিয়ে দেন। অনেক সময় শিক্ষকরাও নেন। তবে দুধ ও বিস্কুট তারা স্টকে রেখে দেন।
দুপুর ১২টার দিকে রূপগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে মোট শিক্ষার্থী ১০৪ জন। তাদের মধ্যে ৯১ জনের জন্য খাবার বরাদ্দ রয়েছে। তবে অভিভাবক ও স্থানীয়দের দাবি, দুই শিফট মিলিয়েও নিয়মিত ৫০-৬০ জনের বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকে না।
মির্জাপুর-শীতলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হাজিরা খাতায় ৫৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন উপস্থিত দেখানো হয়েছে রোববার। তবে দ্বিতীয় শিফটে দুপুর ২টার দিকে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী পাওয়া যায়। একইভাবে কোমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি রেজিস্টারে ৩১৫ জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৫০ জনের বেশি উপস্থিত দেখানো হয়। তবে অভিভাবকদের দাবি, নিয়মিত উপস্থিতি ২০০-২২০ জনের বেশি নয়। এই বিদ্যালয়ে ২৭৫ জনের জন্য শিশুখাদ্য বরাদ্দ রয়েছে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ (ছদ্মনাম) বলে, ‘স্যারেরা ডিম, কলা বাসায় নিয়ে যায়। আমাদের একটার বেশি দেয় না। বাড়িতে এই ডিম রান্নাও করেন।’

একই দিন দুপুর ২টার পর তালিমনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত দেখা যায়। দ্বিতীয় শিফটে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে কোনো উপস্থিতিই ছিল না। এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফিরোজ উদ্দিন খান দাবি করেন, বৃষ্টির কারণে ছাত্রছাত্রীরা কম এসেছে।
এছাড়া উপজেলার দক্ষিণচর পেঁচাকোলা, পেঁচাকোলা, চরপাইখন্দ, বাগজান, ঢালারচর, বুলন্দর, দয়ালনগর, গণপতদিয়া, গঙ্গাদিয়া, চরকান্দি, মমতাজ উদ্দিন খান বালিকা, আব্দুস সামাদ মেমোরিয়াল, ধর্মগঞ্জ, বাগমির্জাপুর, চর রূপপুর, উদ্দিন মোল্লা ও চরভবানীপুরসহ অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ৯০ শতাংশের জন্য খাদ্য বরাদ্দ। তবে বিদ্যালয়ে প্রকৃত উপস্থিতি অর্ধেকেরও কম।
শিক্ষার্থীদের ক্ষতির কথা চিন্তা করে এ সব বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে চান না অভিভাবকরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বেঁচে যাওয়া খাবার শিক্ষার্থীদের দেওয়া তো দূরের কথা, পারলে তাদের খাবারও খেয়ে ফেলেন শিক্ষকরা। অর্ধশতাধিক ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে খাদ্য বরাদ্দ নিয়ে অতিরিক্ত খাবার শিক্ষকরা ভাগ করে নেন। প্রতিদিন তারা ব্যাগে করে ডিম, কলা ও বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যান।
উপজেলার এক কলেজ শিক্ষক আলাউল হোসেন বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশের বোরামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরুর পর আর বাড়িতে ডিমই কেনেন না। স্কুলের ডিমই রান্না করে খান। শিক্ষকেরাই যদি এমন নীতিহীন হন, তাহলে বাচ্চারা তাদের কাছে কী শিখবে?’
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর জানা মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের কিছু বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কম থাকলে উদ্বৃত্ত খাবার উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা জানান, স্কুল ফিডিং প্রকল্প শুরুর আগে থেকেই চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ হয়েছে। তবে উঠে আসা অভিযোগ খুবই গুরুতর এবং তিনি তদন্ত করে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর বলেন, ‘বেড়ার বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিংয়ে অনিয়মের কিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
.png)

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।
৩২ মিনিট আগে
দিনাজপুরের হিলিতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। এতে স্থানীয় বাজারে বর্তমানে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। সপ্তাহ আগে একই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা কেজি দরে। দেশের বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা দেওয়ায় দাম বেড়েছে বলছেন বিক্রেতারা।
৩৬ মিনিট আগে
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণে ব্যবহৃত বিদ্যমান ‘রেট শিডিউল’ পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো তৈরির কাজও চলছে।
১ ঘণ্টা আগে
মৃত্যুর প্রায় ২৫ বছর পর প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও চিন্তক আহমদ ছফার দেহাবশেষ মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। আজ বুধবার (২২ জুলাই) পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাঁর দেহাবশেষ মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে সরিয়ে সেখানে নেওয়া হয়।
১ ঘণ্টা আগে