রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তায় বড় হুমকি: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ২২: ২৮
সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সংকট দেশের মানবনিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধীনে সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জেস অব রোহিঙ্গা রিপার্টিয়েশন: ইন্টারন্যাশনাল পলিটিকস অ্যান্ড ন্যাশনাল প্রায়োরিটিজ’ শীর্ষক সেমিনারের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামছুল ইসলাম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটকে নিছক মানবিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি একই সঙ্গে মানব নিরাপত্তা, জাতীয় নিরাপত্তা, কূটনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি।’

পরিকল্পনাহীনভাবে নেওয়া রোহিঙ্গাদের এই দায় গত ৯ বছরে বাংলাদেশের জন্য ক্রমবর্ধমান বোঝায় পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কক্সবাজার ও ভাসানচরের ৩৩টি ক্যাম্পে থাকা প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, এসব ক্যাম্পে ছয় থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠী ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত। ২০১৭ সাল থেকে বিভিন্ন ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উল্লেখ করে শামছুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি সংগঠনটির মনোভাব মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর চেয়েও কঠোর।

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা জানান, বর্তমান সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে মানবিক দায়বদ্ধতা, জাতীয় স্বার্থ ও নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সমন্বয়ে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের ছয় দফা কৌশলের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘ, আসিয়ান, ওআইসি, চীন ও ভারতসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনের মাধ্যমে বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা; চীন ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা; মিয়ানমার সরকার ও আরাকান আর্মি— উভয়ের সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ রাখা; ক্যাম্পের নিরাপত্তা জোরদার করা; পূর্ব সীমান্তে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আসিয়ান-ওআইসিকে যুক্ত করে একটি আঞ্চলিক কাঠামো গঠনে নেতৃত্ব দেওয়া।

সেমিনারে ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক ঘোষণার বিষয়েও উল্লেখ করেন শামছুল ইসলাম। ওই ঘোষণায় তিন লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য যাচাই করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।

এ বিষয়ে শামছুল ইসলাম বলেন, ‘এটি প্রকৃত প্রত্যাবাসনের আন্তরিকতার চেয়ে আন্তর্জাতিক চাপ কমানো এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান গণহত্যা মামলার চাপ মোকাবিলার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।’

সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন।’ ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে বিচক্ষণতা, মানবিক বিবেচনা ও নিরাপত্তাসচেতন দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে এ সংকট মোকাবিলায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানান তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত