জামিন পেয়েই ফের গ্রেপ্তার, পরদিন কারাগারে আ.লীগ নেতার মৃত্যু

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

মিরসরাই পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি
মিরসরাই পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল ইসলামের (৫৫) মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কারাগারের ভেতরে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ এ তথ্য জানিয়েছেন।

নুরুল ইসলাম (৫৫) জেলার মীরসরাই উপজেলার তারাকাটিয়া এলাকার মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে। তিনি মিরসরাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর স্ত্রীর অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার জামিন পেয়েও কারাফটক থেকে পুনরায় গ্রেপ্তারের পর সৃষ্ট তীব্র মানসিক চাপেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে মিরসরাই থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় চলতি বছরের ৩১ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন নুরুল ইসলাম। ওই মামলায় ৩১ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে ১ সেপ্টেম্বর বের হওয়ার সময় কারাফটকে তাঁকে আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

নুরুল ইসলামের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার জানান, একটি রাজনৈতিক মামলায় মিরসরাই থানা-পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। গতকাল মঙ্গলবার মুক্তির আগ মুহূর্তে কারাফটকে তাকে আবার গ্রেপ্তার করায় তিনি মানসিকভাবে মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েন।

রোকেয়া আক্তার বলেন, ‘আমার স্বামী রাজনীতি করলেও কখনো কারও ক্ষতি করেননি। তিনি আগেই অসুস্থ ছিলেন। মুক্তির পাওয়ার আগমুহূর্তে তাঁকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেলে নেওয়ার পর যে মানসিক নির্যাতন ও দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল, তা সহ্য করতে না পেরে তিনি অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। বাবাকে হারিয়ে এখন আমার ছোট দুটি সন্তান এতিম হয়ে গেল।’

জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, অসুস্থ হয়ে পড়ার পরপরই নুরুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কারা হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত