দেড় মাসেও শেষ হয়নি খোয়াই বাঁধের মেরামত, ফের ভাঙনে প্লাবিত ২০ গ্রাম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ৪৯
উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদী। সংগৃহীত ছবি
উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় খোয়াই নদী। সংগৃহীত ছবি

হবিগঞ্জ সদরের খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামত দেড় মাসেও শেষ হয়নি। এরই মধ্যে বাঁধে আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে নদীর পানি বেড়ে সদর উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় বাঁধ ভেঙে অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) কালীগঞ্জ এলাকায় বাঁধের মেরামতস্থলে নতুন করে ভেঙে গেছে। এর আগে ৯ জুলাই একই এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এ সময় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, পুকুর ও মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এদিকে কালীগঞ্জ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বাঁধ মেরামত শুরু করলেও দেড় মাসেও তা শেষ হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের ধীরগতি ও অনিয়মের কারণেই সময়মতো বাঁধের সংস্কার শেষ হয়নি। দ্রুত ও টেকসইভাবে কাজ করা হলে একই স্থানে আবার ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হতো।

নতুন করে বাঁধ ভাঙায় দক্ষিণ চরহামুয়া, উত্তর চরহামুয়া, কালীগঞ্জ, সুঘর, আদ্যপাশা, নোয়াবাদ, হাতিরথান, কটিয়াদি, বৈদ্যের বাজার, বনগাঁও ও দক্ষিণ বনগাঁওসহ অন্তত ২০টি গ্রামে পানি ঢুকেছে। এতে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ করছেন অনেকে। স্রোতে পুকুর ও মাছের খামার ভেসে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এরশাদ আলী বলেন, ‘দেড় মাস আগে একই স্থানে বাঁধ ভেঙে ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। এর মধ্যেই আবার একই জায়গা ভেঙে গেল। সময় মতো মেরামত শেষ হলে আজ এই পরিস্থিতি হতো না।’

এদিকে রোববার বিকেলে ধুলিয়াখাল-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশেও পানি উঠে যায়। নদীর পানি আরও বাড়লে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

হবিগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, বল্লা পয়েন্টে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত