ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উজানের ঢলে ডুবল ২৫০ হেক্টর জমির আমন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ফসলি জমি। সংগৃহীত ছবি
পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার ফসলি জমি। সংগৃহীত ছবি

ভারী বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার তিনটি ইউনিয়নের ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। গতকাল রোববার (২৩ আগস্ট) রাত থেকে উপজেলার কালন্দি খালে পানি বাড়তে শুরু করে। এতে উপজেলার সদর, দক্ষিণ ও মোগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির আমন ধানের আবাদ তলিয়ে গেছে।

এদিকে, আখাউড়া স্থলবন্দরসংলগ্ন খালে পানি বেড়ে যাওয়ায় বন্দরের কয়েকটি আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। খাল-বিল ও নিম্নাঞ্চলে পানি বাড়তে থাকায় নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে রাজ্যটির হাওড়াসহ অন্যান্য নদী ও খালের পানি গড়িয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরসংলগ্ন কালন্দি খাল দিয়ে নিম্নাঞ্চলে প্রবাহিত হচ্ছে।

আখাউড়ার আব্দুল্লাহপুর এলাকার বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন জানান, গতকাল রাত থেকে সীমান্তবর্তী এই গ্রামে ঢলের পানি ঢুকতে থাকে। এর ফলে গ্রামে সদ্য রোপণ করা ধানি জমিগুলো তলিয়ে গেছে।

বঙ্গেরচর এলাকার কৃষক রফিক মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৩০ কানি (এক কানিতে ৪০ শতাংশ) জমিতে ধানের চারা রোপণ করেছিলেন। ঢলের পানিতে সব চারা তলিয়ে গেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে জমি থেকে পানি না সরলে চারাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা জানান, চলতি আমন মৌসুমে আখাউড়ায় ৪ হাজার ১২ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হচ্ছে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে এসব জমিতে চারা রোপণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উজানের ঢলের পানিতে তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর জমির চারা তলিয়ে গেছে। তবে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে পানি কমে গেলে ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আকাশ দত্ত জানান, হাওড়া নদীর পানি বাংলাদেশ অংশে বিপৎসীমার প্রায় তিন ফুট নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাত না হলে পানি দ্রুত নেমে যাবে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত