যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনে গ্রেপ্তার দুজন, একজনকে থানা থেকেই ‘জামিন’

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ১৩: ২৬
রাজশাহীর মতিহারে চুরির অপবাদে যুবককে গাছে বেঁধে লাঠিপেটা। ভিডিও থেকে নেওয়া ছবি

রাজশাহী নগরীতে চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মামলার একজন আসামিকে থানা থেকেই ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। অপর আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে রোববার (১০ মে) নগরীর মতিহার থানা এলাকায় মো. তুষার (১৮) নামে এক যুবককে নির্যাতনের পর ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি নগরীর কাজলা বিলপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা নাজির আলী গতকাল সোমবার (১১ মে) মতিহার থানায় একটি মামলা করলে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত আসামি দুজন হলেন নগরের বাজে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা আলী হাসান মো. মুজাহিদ।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আলী হাসান মো. মুজাহিদের নাম এজাহারে থাকলেও তদন্তে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তাঁর এসএসসি পরীক্ষা চলমান থাকায় বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে থানা থেকেই তাঁকে ‘জামিন’ দেওয়া হয়েছে। তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ (ক) ধারায় প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া অন্য আসামি মুহিনকে মঙ্গলবার (১২ মে) আদালতে পাঠানো হলে তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মুজাহিদকে ছাড়া প্রসঙ্গে উপ-কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, ‘যে কোনো মামলার আসামিকেই থানা থেকে জামিন দিতে পারেন ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা)। আইনে ওসিকে এই ক্ষমতা দেওয়া আছে। এটি পুলিশের এখতিয়ার।’

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার (৯ মে) রাতে হৃদয়সহ কয়েকজন তুষারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজ করেন। এ সময় তুষার বাড়ি নেই বলে জানান তাঁর বাবা নাজির আলী। পরে ‘তুষারকে পেলে সবকিছু বোঝানো হবে’ বলে হুমকি দেন অভিযুক্তরা। এমনকি কোনো ধরনের তদবির না করার কথাও বলে যান তাঁরা।

এর পরদিন সকালে হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে আগের দিন খোঁজার কারণ জানতে চান তুষার। এ সময় সেখানে উপস্থিত কয়েকজন তাকে আটক করে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর শুরু করে। পরে সেই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামে।

এদিকে নির্যাতনের পর তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন পরিবারের সদস্যরা। চিকিৎসা শেষে গতকাল সোমবার হাসপাতাল থেকে তিনি বাড়ি ফেরেন।

সম্পর্কিত