বন্য প্রাণী সুরক্ষায় ‘ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন’ গঠন সরকারের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০১: ০৩
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সংগৃহীত ছবি

দেশের সংকটাপন্ন বন্য প্রাণীর আবাসস্থল সংরক্ষণ, সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতা গড়ে তুলতে একটি ‘ওয়াইল্ডলাইফ কমিশন’ গঠন করেছে সরকার।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১০ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিশনের প্রধান হিসেবে থাকবেন ওই মন্ত্রণালয়ের সচিব।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ২১ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণ, বন্য প্রাণী রক্ষা এবং এ বিষয়ে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের উদ্দেশ্যে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য নির্দেশক্রমে এই কমিশন গঠন করা হয়েছে।

কমিশনের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক। কমিটিতে সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের রাখা হয়েছে।

সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন), বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং আইইউসিএনের (প্রকৃতি সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক জোট) বাংলাদেশ প্রতিনিধি।

বিশেষজ্ঞ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দুবাই সাফারি পার্কের সাবেক প্রিন্সিপাল ওয়াইল্ডলাইফ স্পেশালিস্ট ও বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ আলী রেজা খান, পরিবেশবিদ ও জিআইজেড-এর উপদেষ্টা আশরাফুল হক নোবেল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম. মনিরুল এইচ খান এবং গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসার ডা. হাতেম সাজ্জাত মো. জুলকার নাইন।

যা করবে কমিশন

প্রজ্ঞাপনে কমিশনের সুনির্দিষ্ট কার্যপরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল সংরক্ষণের উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার লক্ষ্যে অবৈধভাবে দখলকৃত বনভূমির জমি পুনরুদ্ধারের বিষয়সহ সার্বিক বিষয়ে পরামর্শ প্রদান। পাশাপাশি সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা এবং বন্য প্রাণীর খাদ্য নিশ্চিতে বনে ফলদ গাছ রোপণের পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে পরামর্শ দেওয়া।

এ ছাড়া হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর নিকটবর্তী স্থানে বসবাসরত অধিবাসীদের বন্য প্রাণী রক্ষায় জনসচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ এবং বন্য প্রাণী ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে কার্যক্রম গ্রহণে পরামর্শ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে কার্যপরিধিতে। সরকার কর্তৃক সময়ে সময়ে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্বও পালন করবে এই কমিশন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, কমিশন প্রতি ৬ মাসে অন্তত একবার অথবা প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভার আয়োজন করতে পারবে। পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত (কো-অপ্ট) করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে কমিশনকে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত