জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সাঙ্গু নদীর পাথরে সরকারি অবকাঠামো

অভিযানের আগেই সরিয়ে ফেলা হয় পাথরচূর্ণ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
থানচি (বান্দরবান)

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২৩: ০৭
পাথর উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান। সংগৃহীত ছবি

বান্দরবানের থানচি উপজেলার তিন্দু পর্যটন এলাকায় সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযানের আগেই তা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে অভিযানে গিয়ে জড়িত কাউকে ধরতে পারেনি তারা।

গত সপ্তাহের সোমবার (৯ মার্চ) তিন্দু বাজার এলাকায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার আগেই পাঁচটি ট্রাকে পাথর তিন্দু বাজার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ডিম পাহাড়–তিন্দু সড়কের পাশে সাবেক ইউপি সদস্য সাইওয়ান মারমার কাজুবাদাম ও সেগুনবাগানের পাশে মজুত রাখা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সরেজমিনে ওই এলাকায় পাথরের মজুত দেখা গেছে।

জানতে চাইলে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘অভিযানের আগেই পাথর সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে সেগুলো জব্দের জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’

এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে ‘শঙ্খ নদ থেকে পাথর তুলে চলছে সরকারি উন্নয়ন কাজ, সৌন্দর্য হারাচ্ছে থানচির পর্যটন স্পট’ শিরোনামে স্ট্রিম-এ খবর প্রকাশ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাথর থেকে কংক্রিট তৈরির বিরুদ্ধে তিন্দু এলাকায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় থানচি উপজেলা প্রশাসন।

স্তূপ করে রাখা পাথরচূর্ণ । সংগৃহীত ছবি
স্তূপ করে রাখা পাথরচূর্ণ । সংগৃহীত ছবি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তিন্দু উচ্চবিদ্যালয়ের ভবন, তিন্দু বৌদ্ধ বিহার এবং তিন্দু বাজারের ‘বাজার সেট’ নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য ওই এলাকার সাঙ্গু নদী থেকে পাথর উত্তোলন করে পাথরের চূর্ণ তৈরি করা হচ্ছে। স্থানীয় যুবলীগ নেতা শৈবাচিং মারমা সরকারি তিনটি ভবন নির্মাণে ব্যবহার জন্য ওই পাথর সরবরাহ করছিলেন। এর বিরুদ্ধে অভিযানের আগে তিনিই সেখানে পাথর স্থানান্তর করেছেন বলে জানিয়েছেন এক জনপ্রতিনিধি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করছে ‘আগমা এন্টারপ্রাইজ’। এর মালিক রেমাক্রী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি মুইশৈথুই মারমা রনি। এ ছাড়া বান্দরবান জেলা পরিষদের অর্থায়নে তিন্দু গ্রোপিংপাড়া বৌদ্ধ বিহারের উঠানে আরসিসি সিঁড়ি নির্মাণ কাজের ঠিকাদার তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা।

সরেজমিনে আরও জানা যায়, নির্ধারিত নির্মাণ খরচ কমাতে স্থানীয় পাথর ও বালি উত্তোলনে জড়িত ব্যক্তিদের প্রশ্রয় দেন ঠিকাদার। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পর্যটন কেন্দ্রের সাঙ্গু নদী থেকে অবাধে পাথর উত্তোলন করা হয়েছে।

তিন্দু গ্রোপিংপাড়া প্রধান কারবারি ও তিন্দু ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ক্রানি অং মারমা বলেন, ‘যুবলীগ নেতা শৈবাসিং মারমা দুই ঠিকাদার চেয়ারম্যানের বলির-পাঁঠা হয়ে কাজ করছে। সে আড়াই মাস যাবৎ তিন্দু বাজারে পর্যটন স্পট থেকে পাথর উত্তোলন করছে এবং প্রকৃতি পরিবেশ বিনষ্ট করছে। আমি অনেকবার বলেছি না তুলতে, কিন্তু আমার কথা শুনে না। দুই ঠিকাদার চেয়ারম্যান অভয় দেওয়ায় সে অতি সাহস পেয়েছে।’

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পাথর সরবরাহকারী যুবলীগ নেতা শৈবাচিং মারমার সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। একটি কাজের ঠিকাদার তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা বলেন, ‘বৌদ্ধ বিহারের আরসিসি সিঁড়ি নির্মাণ কাজ গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ করেছি। সেখানে স্থানীয় পাথর ও বালি ব্যবহার করা হয়েছে।’ তবে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ কাজে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এদিকে মাক্রী ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মুইশৈথুই মারমা রনির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তাঁর ইউনিয়নের একাধিক লোকজন জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন।

নদী থেকে তোলা পাথর ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন, ‘অভিযানে গিয়ে লুটের উদ্দেশ্যে স্তূপ করে রাখা পাথরগুলো পুনরায় নদীতে ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে পাথর পাওয়া যায়নি।’

বিষয়:

পাথর

সম্পর্কিত