বিবিসি থেকে নেওয়া/তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে ভারত এত মরিয়া কেন

লেখা:
লেখা:
আনবারাসান ইথিরাজন

প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৩৮
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

যেকোনো সরকারি ই-মেইল থেকে কখনো কখনো দুই দেশের সম্পর্কের গোপন বার্তা বোঝা যায়। এ মাসের শুরুতে ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে পাঠানো একটি ই-মেইল তেমনই একটি ঘটনা ঘটায়। সেই ই-মেইলে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রতি সপ্তাহে যে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হয়, তা এবার হবে না। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি হিসেবে সেখানে মহড়া চলছে। এই খবর দ্রুতই সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের নজরে চলে আসে।

সমস্যা হলো, তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে তখনো সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। এই বিভ্রান্তির পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ই-মেইলটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে যে গুঞ্জন কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল, তা আরও জোরালো হয়ে ওঠে। এর পাশাপাশি এটাও স্পষ্ট হয়, তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিয়ে আসতে ভারত বেশ আগ্রহী।

তবে এখন পর্যন্ত তারেক রহমান নিজে এই সফরে রাজি হননি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ বিবিসিকে জানান, সফর নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এদিকে ভারত তার প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে, আর এই সফরের সময়টাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

এই সময়টা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণ হলো, ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে একেবারে নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা করেছে বলে মনে করা হয়।

এর পটভূমিতে রয়েছে ২০২৪ সালের আগস্টের ঘটনা, যখন ব্যাপক গণঅভ্যুত্থানের মুখে দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকার থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। সেই আন্দোলনে শত শত মানুষ প্রাণ হারান। ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান এবং তখন থেকে সেখানেই আছেন। এরপর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়, তাদের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে।

এখন দিল্লির প্রত্যাশা, তারেক রহমানের সরকার দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করবে। তবে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার অবস্থান সেই প্রক্রিয়াকে কঠিন করে তুলেছে। বাংলাদেশ শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের সময় বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তবে শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সালেহ বলেন, ‘আমরা অনুকূল পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানিয়েছি। শেখ হাসিনাকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতীয় পক্ষের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।’ ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশের করা শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধটি তারা বিবেচনা করছে। তবে এই বিষয়টি নিয়ে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বারবার আগ্রহ দেখিয়েছে দিল্লি।

সেই ই-মেইলে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রতি সপ্তাহে যে ‘চেঞ্জ অব গার্ড’ অনুষ্ঠান হয়, তা এবার হবে না। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি হিসেবে সেখানে মহড়া চলছে। এই খবর দ্রুতই সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের নজরে চলে আসে।

তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তাঁকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাঁকে ‘সর্বোচ্চ সম্মান’ দেওয়া হবে এবং ‘স্মরণীয় অভ্যর্থনা’ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ত্রিবেদী। অবশ্য দুই দেশের জন্যই এ সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক বেশি।

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার (২ হাজার ৫৪৫ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক। গত বছর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। তবে এই বাণিজ্যে ভারতই বড় সুবিধাভোগী। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সেখানে পণ্য পরিবহন সহজ করতেও বাংলাদেশের গুরুত্ব অনেক।

শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সড়ক, রেল ও বন্দর যোগাযোগ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়। এর ফলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ ও প্রবেশাধিকার আরও সহজ হয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দুই দেশ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। ভারতের দাবি ছিল, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী তৎপরতা চালাচ্ছিল। হাসিনা সরকার এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশে ক্রমেই বিতর্কিত হয়ে ওঠে। সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো ভারত যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি।

শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সেই উত্তেজনার রেশ এখনো আছে। গত ৫ আগস্ট আবারও তা সামনে আসে। ওই দিন দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন হাসিনা। তিনি আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার তাঁর সমর্থকদের দমন করছে। বাংলাদেশ বলেছে, ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তারা ‘ক্ষুব্ধ’।

তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। অনুষ্ঠানে দেওয়া কোনো বক্তব্যকেও, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে বলা মন্তব্যকে, ভারত সমর্থন করে না। ঘটনাটির সময়ও ছিল বেশ স্পর্শকাতর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লায়লুফার ইয়াসমিন বলেন, শেখ হাসিনার বক্তব্যের আগে এমন খবর ছড়িয়েছিল যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছেন।

তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘এটি বাংলাদেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছিল। প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তোলার বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আসলে কতটা আন্তরিক ছিল।’ এ পরিস্থিতিতে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের মধ্যেই তারেক রহমানের দিল্লি সফর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কিছুটা রাজনৈতিক চাপ বা সমালোচনার কারণ হতে পারে।

তবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের আগ্রহের পেছনে শুধু শেখ হাসিনার বিষয়টিই নেই। শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশ ভারতের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গেও সম্পর্ক নতুন করে জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে। ঢাকা ও ইসলামাবাদ সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের সামরিক সফর করেছে। পাশাপাশি দুই দেশ প্রকাশ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আগ্রহের কথা জানিয়েছে। বিষয়টি নয়াদিল্লিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

২০০০ সালের দিকে ভারত অভিযোগ করেছিল, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করেছে। তবে সে সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।

এদিকে, চলতি মাসে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা চুক্তি’ নিয়েও বিভিন্ন দেশের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনটি প্রভাবশালী মুসলিম দেশের মধ্যে হওয়া এই প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশও আগ্রহের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। চুক্তিটির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এবং এতে প্রতিটি দেশের কী কী দায়িত্ব থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এটি ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর হামলা হলে সেটিকে সব সদস্য দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বাংলাদেশের জুনিয়র পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে যদি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাহলে তাতে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা অস্বাভাবিক নয়। বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই দেখা হচ্ছে।’ এদিকে, সৌদি আরব বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে বাংলাদেশকে ওই প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

অধ্যাপক ইয়াসমিন মনে করেন, প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঢাকার সতর্ক হওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু ভারতের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে না। বাংলাদেশকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে, পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে এবং সম্ভাব্য কোনো চুক্তি বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক এসব কর্মকাণ্ড ভারতের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ধরন বদলে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা সরকারের ভারতের সঙ্গে যে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, এখন দিল্লি আর সেই সম্পর্ককে আগের মতো নিশ্চিত ধরে নিতে পারছে না।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারেরও নিজস্ব কারণ রয়েছে। তারা দেখাতে চায়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি শুধু প্রতিবেশী বৃহৎ দেশ ভারতের ওপর নির্ভরশীল নয়। অধ্যাপক ইয়াসমিনের মতে, সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের আগে তারেক রহমানের দিল্লি সফর করা উচিত। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশীদের একসঙ্গেই বসবাস করতে হয়।’

তবে সামনে আরও একটি সুযোগ আসতে পারে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ভারত ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সেখানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক আমন্ত্রণ, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং একটি ভুল করে আগেভাগে প্রকাশ হয়ে যাওয়া ই-মেইলের পর এখন দিল্লি আশা করছে, শেষ পর্যন্ত তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসবেন।

(বিবিসি থেকে অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)

আনবারাসান ইথিরাজন: গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স করেসপন্ডেন্ট

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত