ড. মো. শামছুল আলম

রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে এমন কিছু পর্ব আসে যখন সময় হয়ে ওঠে দিক পরিবর্তনের নির্ণায়ক মুহূর্ত। জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির সংমিশ্রণে এই সময়গুলোই রূপ নেয় ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী ও বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ সে ধরনের বাস্তবতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রথম ২৮ দিনে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা দ্রুত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোকে ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে সরকারের প্রথম ২৮ দিনের উল্লেখযোগ্য ২৮টি পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘এসব পদক্ষেপ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।’
বস্তুত, জনগণের প্রত্যাশা যখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক জটিলতার ভেতর জমাট বাঁধে, তখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই আস্থা দৃশ্যমান কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করে, এই সরকার ধীরগতির কোনো সূচনা চায়নি, বরং শুরু থেকেই গতি, কার্যকারিতা এবং দৃশ্যমান ফলাফলের ওপর জোর দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ না করে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখে জনগণের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই সরকারের এই যাত্রা।
মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা আজ শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বরং এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য একটি ভিত্তি। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী, ঈদ উপহার, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা ইত্যাদি উদ্যোগ রাষ্ট্রকে নাগরিকের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সামাজিক সুরক্ষার এই বিস্তার শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, এটি একটি বার্তা। বার্তাটি হলো, রাষ্ট্র তার দুর্বলতম নাগরিকের পাশেও দাঁড়াতে প্রস্তুত। তারেক রহমানের এই উদ্যোগগুলো জনমনে স্বস্তি দিচ্ছে যে, মধ্যস্বত্বভোগী নয়, সরাসরি মানুষের কাছে রাষ্ট্র।
বলা বাহুল্য, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী ও প্রত্যাশিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রায় ২৭,০০০ কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা সহজেই সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার আওতায় আসতে পারবেন। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় স্বস্তি তৈরি করবে এবং নতুন উদ্যমে চাষাবাদে ফিরে আসার সুযোগ দেবে। অন্যদিকে, দেশব্যাপী খাল ও জলাশয় খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
তারেক রহমানের সরকার প্রশাসনে নতুন একটি বার্তা নিয়ে এসেছে—ক্ষমতা মানে দায়বদ্ধতা। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো, বিশেষ করে সময়ের মধ্যে অফিস, ভিভিআইপি প্রটোকল কমানো, অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা হ্রাস শুধু যে নিয়মের পরিবর্তন তা নয়। আমাদের দেশের নেতাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা ও মানসিকতার আমূল পরিবর্তন।
এ ধরনের শক্তিশালী পদক্ষেপ আমরা অতীতেও দেখেছি। বিভিন্ন উন্নত ও দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পেছনে এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার শুরুটা করেছিলেন খুবই ছোট কিন্তু দৃশ্যমান পরিবর্তনের মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এর মধ্যে আমাদের নজর কাড়ে যেটি তা হলো, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ববোধকে রাষ্ট্রের সংস্কৃতিতে পরিণত করার প্রচেষ্টা। এই উদ্যোগগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যকর এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক করে তোলার প্রচেষ্টা। আমরা যেই উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়নে এসব পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।
অর্থনীতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ আস্থার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে। রমজান ও ঈদে বাজার স্থিতিশীল রাখা, শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ সহজীকরণ ইত্যাদি পদক্ষেপগুলো বার্তা দিচ্ছে যে, সরকার অর্থনীতিকে কেবল সংখ্যার দৃষ্টিতে নয়, মানুষের জীবনের অংশ হিসেবে দেখছে।
বিশ্বের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদাহরণগুলোতে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট, প্রথম ধাপে সরকারকে আস্থা তৈরি করতে হয়। যেমন জো বাইডেন তার প্রশাসনের শুরুতেই দ্রুত প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি বুঝছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়েছে।
নিঃসন্দেহে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরছে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনো গ্রাম এবং এই খাতকে শক্তিশালী করা মানে পুরো অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বব্যাপী সফল উন্নয়ন মডেলগুলোতেও গ্রামীণ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চীনের উন্নয়ন কৌশলেও প্রথমদিকে গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাতে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে শিল্পায়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তবে বাংলাদেশের এই উদ্যোগগুলো শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। বিশেষ করে, চলমান কার্যক্রমের তদারকি এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় অতি আবশ্যক। স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির এ প্রচেষ্টা সফল হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও যুবনির্ভর দেশে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কেবল একটি খাত নয়, এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা, আর্থিক চাপ এবং সুযোগের অসমতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পুনর্ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি ব্যবস্থা চালু, এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্তগুলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও মানসম্মত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিনির্ভর কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়।
এসব উদ্যোগ শুধু শিক্ষার মানোন্নয়নই নয়, বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ তারা দেখতে পাচ্ছে, রাষ্ট্র তাদের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি সক্ষম, দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রকৃত অর্থে, গত ২৮ দিনের কর্মকাণ্ড একটি শক্তিশালী সূচনার পরিচায়ক। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি বড় সম্ভাবনা। সরকারের এই স্বল্প সময়ে নেওয়া ২৮টি পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে কর্মচঞ্চল সূচনার প্রমাণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এগুলো কেবল আলাদা উদ্যোগ নয়, বরং একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধ একসাথে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগই একটি রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।
প্রথম ২৮ দিনে সরকারের কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই গতিকে ধরে রাখা, নেওয়া উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জনগণের আস্থা দীর্ঘমেয়াদি করে তোলা। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ২৮ দিন কেবল একটি সূচনা হিসেবে নয়, বরং দেশের পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিশীল একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
ড. মো. শামছুল আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন।

রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসে এমন কিছু পর্ব আসে যখন সময় হয়ে ওঠে দিক পরিবর্তনের নির্ণায়ক মুহূর্ত। জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারের প্রতিশ্রুতির সংমিশ্রণে এই সময়গুলোই রূপ নেয় ইতিহাসের তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়ে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের সময়োপযোগী ও বিস্তৃত কর্মযজ্ঞ সে ধরনের বাস্তবতার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রথম ২৮ দিনে সরকার দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করতে চেয়েছে যে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা দ্রুত ও বাস্তবসম্মত উদ্যোগের মাধ্যমে পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া ধারাবাহিক উদ্যোগগুলোকে ‘অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে সরকারের প্রথম ২৮ দিনের উল্লেখযোগ্য ২৮টি পদক্ষেপ তুলে ধরে মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘এসব পদক্ষেপ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার সুস্পষ্ট প্রতিফলন।’
বস্তুত, জনগণের প্রত্যাশা যখন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রশাসনিক জটিলতার ভেতর জমাট বাঁধে, তখন নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয় আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই আস্থা দৃশ্যমান কার্যক্রমের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠা করতে হয়। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গৃহীত ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলো একটি বিষয় স্পষ্ট করে, এই সরকার ধীরগতির কোনো সূচনা চায়নি, বরং শুরু থেকেই গতি, কার্যকারিতা এবং দৃশ্যমান ফলাফলের ওপর জোর দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়নে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ না করে, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রেখে জনগণের প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই সরকারের এই যাত্রা।
মানবিক রাষ্ট্রের ধারণা আজ শুধু নীতিগত অঙ্গীকার নয়, বরং এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থা পুনর্গঠনের জন্য অপরিহার্য একটি ভিত্তি। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী, ঈদ উপহার, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা ইত্যাদি উদ্যোগ রাষ্ট্রকে নাগরিকের আরও কাছাকাছি নিয়ে এসেছে। সামাজিক সুরক্ষার এই বিস্তার শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা নয়, এটি একটি বার্তা। বার্তাটি হলো, রাষ্ট্র তার দুর্বলতম নাগরিকের পাশেও দাঁড়াতে প্রস্তুত। তারেক রহমানের এই উদ্যোগগুলো জনমনে স্বস্তি দিচ্ছে যে, মধ্যস্বত্বভোগী নয়, সরাসরি মানুষের কাছে রাষ্ট্র।
বলা বাহুল্য, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী না হলে কোনো দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার কৃষকদের জন্য সময়োপযোগী ও প্রত্যাশিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রায় ২৭,০০০ কৃষকের মাঝে কৃষক কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় তারা সহজেই সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনার আওতায় আসতে পারবেন। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত তাদের জন্য বড় স্বস্তি তৈরি করবে এবং নতুন উদ্যমে চাষাবাদে ফিরে আসার সুযোগ দেবে। অন্যদিকে, দেশব্যাপী খাল ও জলাশয় খনন কর্মসূচির মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
তারেক রহমানের সরকার প্রশাসনে নতুন একটি বার্তা নিয়ে এসেছে—ক্ষমতা মানে দায়বদ্ধতা। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো, বিশেষ করে সময়ের মধ্যে অফিস, ভিভিআইপি প্রটোকল কমানো, অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা হ্রাস শুধু যে নিয়মের পরিবর্তন তা নয়। আমাদের দেশের নেতাদের মনে বদ্ধমূল ধারণা ও মানসিকতার আমূল পরিবর্তন।
এ ধরনের শক্তিশালী পদক্ষেপ আমরা অতীতেও দেখেছি। বিভিন্ন উন্নত ও দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের পেছনে এমন প্রশাসনিক পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার শুরুটা করেছিলেন খুবই ছোট কিন্তু দৃশ্যমান পরিবর্তনের মাধ্যমে। তিনি রাষ্ট্র সংস্কারে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
এর মধ্যে আমাদের নজর কাড়ে যেটি তা হলো, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহিতা এবং দায়িত্ববোধকে রাষ্ট্রের সংস্কৃতিতে পরিণত করার প্রচেষ্টা। এই উদ্যোগগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রকে কার্যকর এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক করে তোলার প্রচেষ্টা। আমরা যেই উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখি তা বাস্তবায়নে এসব পদক্ষেপ একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে বলেই মনে হচ্ছে।
অর্থনীতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপ আস্থার ভিত্তি আরও মজবুত করেছে। রমজান ও ঈদে বাজার স্থিতিশীল রাখা, শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিত করা, বিনিয়োগ সহজীকরণ ইত্যাদি পদক্ষেপগুলো বার্তা দিচ্ছে যে, সরকার অর্থনীতিকে কেবল সংখ্যার দৃষ্টিতে নয়, মানুষের জীবনের অংশ হিসেবে দেখছে।
বিশ্বের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের উদাহরণগুলোতে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট, প্রথম ধাপে সরকারকে আস্থা তৈরি করতে হয়। যেমন জো বাইডেন তার প্রশাসনের শুরুতেই দ্রুত প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে অর্থনীতিতে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছিলেন। বাংলাদেশ সরকার পরিস্থিতি বুঝছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম হয়েছে।
নিঃসন্দেহে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ ফিরছে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগে। বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এখনো গ্রাম এবং এই খাতকে শক্তিশালী করা মানে পুরো অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বব্যাপী সফল উন্নয়ন মডেলগুলোতেও গ্রামীণ বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। চীনের উন্নয়ন কৌশলেও প্রথমদিকে গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি খাতে বড় বিনিয়োগ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে শিল্পায়নের ভিত্তি তৈরি করেছে।
তবে বাংলাদেশের এই উদ্যোগগুলো শুধু তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্ত করার অংশ হিসেবে দেখতে হবে। বিশেষ করে, চলমান কার্যক্রমের তদারকি এবং কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয় অতি আবশ্যক। স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির এ প্রচেষ্টা সফল হলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে দুর্বার গতিতে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগ। বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল ও যুবনির্ভর দেশে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কেবল একটি খাত নয়, এটি ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা, আর্থিক চাপ এবং সুযোগের অসমতা শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে পুনর্ভর্তি ফি বাতিল, লটারির পরিবর্তে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি ব্যবস্থা চালু, এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্তগুলো শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও ন্যায্য ও মানসম্মত করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে নৈতিক মূল্যবোধ জোরদার এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিনির্ভর কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত প্রয়াস হিসেবে দেখা যায়।
এসব উদ্যোগ শুধু শিক্ষার মানোন্নয়নই নয়, বরং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সরকারের প্রতি আস্থা পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ তারা দেখতে পাচ্ছে, রাষ্ট্র তাদের ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং একটি সক্ষম, দক্ষ ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তুলতে বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রকৃত অর্থে, গত ২৮ দিনের কর্মকাণ্ড একটি শক্তিশালী সূচনার পরিচায়ক। এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি বড় সম্ভাবনা। সরকারের এই স্বল্প সময়ে নেওয়া ২৮টি পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে কর্মচঞ্চল সূচনার প্রমাণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এগুলো কেবল আলাদা উদ্যোগ নয়, বরং একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা এবং নৈতিক মূল্যবোধ একসাথে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগই একটি রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।
প্রথম ২৮ দিনে সরকারের কর্মতৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই গতিকে ধরে রাখা, নেওয়া উদ্যোগগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং জনগণের আস্থা দীর্ঘমেয়াদি করে তোলা। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তাহলে ২৮ দিন কেবল একটি সূচনা হিসেবে নয়, বরং দেশের পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিশীল একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে।
ড. মো. শামছুল আলম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন।

ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই প্রণালিতে চলা যেকোনো জাহাজকেই ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলায় উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে দেশটি। ইরানের এই হুমকি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক ধরনের পাল্টা আঘাত।
৫ ঘণ্টা আগে
পুরো ঢাকা শহর ফাঁকা করে বাড়ি যাচ্ছে মানুষ। সেই দলে আমিও আছি। আসলে কত মানুষ বাড়ি যাচ্ছে এবার?
১৬ ঘণ্টা আগে
শ্রদ্ধেয় মন্ত্রী আমার বাসা শেওড়াপাড়া। মেয়েকে নিয়ে ঈদ করতে বরিশালের গৌরনদী যাব। দিগন্ত পরিবহন নামের একটা বাস মিরপুর ১৩ নম্বর থেকে শেওড়াপাড়া হয়ে বরিশাল যায়। গাড়ির মান মোটামুটি হলেও ঝামেলা এড়াতে ১৩ তারিখে ৫৫০ টাকার ভাড়া ১০০০ টাকা দিয়ে মেয়ে আর নিজের জন্য দুটো টিকিট কাটি।
১৬ ঘণ্টা আগে
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে গত কয়েক দশকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত জটিল ও দ্বান্দ্বিক। একসময় যে দেশটিকে তালেবানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মনে করা হতো, সেই পাকিস্তানের সঙ্গেই এখন আফগান তালেবান সরকারের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।
২০ ঘণ্টা আগে