ভারতের সীমান্ত রাজনীতি ও বাংলাদেশের শরণার্থী নীতির প্রয়োজনীয়তা

প্রকাশ : ০৫ জুন ২০২৬, ২২: ৪২
স্ট্রিম গ্রাফিক

আধুনিক জাতিরাষ্ট্রে সীমান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হয়। সীমানার মধ্য দিয়ে দুটি রাষ্ট্রের সীমানাই কেবল নির্ধারিত হয় না, বরং রাষ্ট্রের নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সীমারেখা ও নিয়ন্ত্রণের যৌক্তিকতাও নির্ধারিত হয়।

সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবনাচরণের দিকে তাকালে দেখা যায়, এর বহুমুখী বৈশিষ্ট্য তাঁদের জীবনাচরণে একটি ভিন্ন অর্থ বহন করে। সীমান্ত তাদের জন্য কেবল একটি ভূ-রাজনৈতিক বিষয় থাকে না, বরং সীমান্ত হয়ে ওঠে তাদের প্রতিদিনকার জীবনাচরণের একটি টানাপোড়েনের সামাজিক ক্ষেত্র। যার মধ্য দিয়ে তারা প্রতিদিনকার জীবনযাপনের নানাবিধ উপায়ের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়।

লম্বা সময় ধরে সীমান্তের দুই পাশের জনগোষ্ঠীর ভেতর প্রতিদিনকার নানা রকম আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে সীমান্তবর্তী এলাকার একটি নিজস্ব আর্থ-সামাজিক বৈশিষ্ট্য গড়ে ওঠে। সীমান্তবর্তী মানুষদের দুই দেশের সঙ্গে তাঁদের বিভিন্ন রকম ব্যবসায়িক লেনদেন—এর অনেক কিছুই আইনের চোখে সঠিক না হলেও, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে তাঁদের টিকে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। যার মধ্য দিয়ে একটি স্থানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং স্বতন্ত্র সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হয় যা একটি দেশের প্রথাগত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য থেকে ভিন্নতর।

ভারত-বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে তাকালেও এমন চিত্রই আমরা দেখতে পাই। যদিও সীমান্তের ভূ-রাজনৈতিক চরিত্রের বাইরেও আরো নানারকম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক চরিত্র রয়েছে, তারপরও দুটি দেশের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যখন বদলে যায় তার নেতিবাচক প্রভাব বোধ করি সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষদের ওপরই অধিক দেখা যায়।

ভারতের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তথা পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আবারও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয় যার উদাহরণও আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি।

এখানে উদাহরণস্বরূপ আমরা বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করতে পারি, নানা রকম বেআইনি কর্মকাণ্ডের কথা নিয়ে আসতে পারি, কিংবা অতি সম্প্রতি ভারত থেকে বাংলাদেশে পুশইনের ঘটনার কথাও বলতে পারি, যদিও পুশইন কিংবা পুশ-ব্যাকের বিষয়গুলো আগেও ছিল। এর পাশাপাশি সীমান্তে হত্যাকাণ্ড যেন বাংলাদেশ-ভারতের একটি অনিবার্য নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। সেসব ঘটনার অবধারিত প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষজনেরই প্রথমে পোহাতে হয়।

ভারত থেকে সাম্প্রতিক সময়ের পুশইনের ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে আমরা একটি প্রবণতা লক্ষ করি, সেটি হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেই যেন হুট করে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকা মারফত আমরা জানতে পারি যে সেগুলো ছিল মূলত পুশইনের ঘটনা। যেখানে বাংলা ভাষাভাষী মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকেই অনেককেই ভারত থেকে থেকে জোর করে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে। এমনকি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত কিছু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও সেই দলে ছিল। এমন ঘটনাগুলো গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সময় তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায়।

তবে ভারতের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তথা পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর আবারও বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই ধরনের অনুপ্রবেশের ঘটনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয় যার উদাহরণও আমরা সাম্প্রতিক সময়ে দেখেছি। এখানে উল্লেখ্য যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি ২০৭টি আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের আধিপত্যের অবসান ঘটায়।

নির্বাচনের পর পরই আসামের মুখ্যমন্ত্রীর তথাকথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের‘ ‘পুশ-ব্যাক’ করার পরিকল্পনা নিয়ে মন্তব্যের মধ্যেও এ ধরনের ইঙ্গিত রয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ইতিমধ্যেই এই দুটি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলাদেশ বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং অনেককেই ‘বাংলাদেশি‘ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এভাবে আদতে ভারতের নিজ দেশের জনগোষ্ঠীর কাউকে কাউকে ‘বাংলাদেশি মুসলমান‘ বা বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে তাদের নাগরিকত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলা হচ্ছে। এভাবে ‘বাংলাদেশ ফ্যাক্টর’কে নির্বাচনে জয়ী হবার একটি অস্ত্র বা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয় যেখানে তথাকথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর ধারণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

পুশইনের ভুক্তভোগী ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবর্গের ভাগ্য নির্ধারিত হয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ এক টুকরো কাগজ তার হাতে থাকা বা না থাকার মধ্য দিয়ে। যদিও সেই ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবর্গ একটা দীর্ঘ সময় ধরে সেই অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করে আসছে।

এখানে উল্লেখ্য যে এই ধরনের ঘটনার মধ্য দিয়ে যে সকল মানুষদের যেতে হচ্ছে তাদের একটি বড় অংশ হলো ভারতের পশ্চিম বঙ্গের পিছিয়ে পড়া, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অল্প শিক্ষিত কিংবা সীমান্তবর্তী এলাকার প্রান্তিক মানুষজন যাদের অনেকেরই নাগরিকত্বের প্রাতিষ্ঠানিক বিষয় নিয়ে খুব একটা সচেতনতা নেই। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার সেই মানুষদেরকে ‘বাংলাদেশের নাগরিক’ তকমা দেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হয়। আবার অনেকেই আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে ধরে পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করছেন কিন্তু তাঁদের নাগরিকত্বের সঠিক প্রমাণ তাঁদের হাতে নেই। এমন ঘটনাও ঘটছে, যেখানে কোনো কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কেবলমাত্র ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে।

এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পুশ-ইনের ঘটনাগুলো যেমন ভারতের সীমান্ত রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তেমনি সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ও এক ভাবে যুক্ত যেখানে অনেকাংশেই ‘বাংলাদেশ ফ্যাক্টর’কে তাঁদের জনপ্রিয়তার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে সীমান্তকে আমরা যখন দেখে থাকি শুধু জাতিরাষ্ট্রের সীমানা নির্ধারণের একটি ভূ-রাজনৈতিক যন্ত্র হিসেবে, ঠিক সেই যন্ত্রই পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আবির্ভূত হয় নাগরিকত্বের প্রমাণ নির্ধারণের একটি শোষণমূলক ব্যবস্থা হিসেবে। ফলে পুশইনের ভুক্তভোগী ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবর্গের ভাগ্য নির্ধারিত হয় নাগরিকত্বের প্রমাণস্বরূপ এক টুকরো কাগজ তার হাতে থাকা বা না থাকার মধ্য দিয়ে। যদিও সেই ব্যক্তি কিংবা ব্যক্তিবর্গ একটা দীর্ঘ সময় ধরে সেই অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে বসবাস করে আসছে।

এই ধরনের ঘটনা বিজেপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পরে বেড়ে যাওয়া অপ্রত্যাশিত কোনো বিষয় নয়। কেননা, আমরা আগেও দেখেছি যে পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে বসবাসরত বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে ‘বাংলাদেশি’ পরিচিতির তকমা লেগে যাওয়ার শঙ্কা এবং ভয় একটি ঐতিহাসিক বাস্তবতা। ফলে নির্বাচনের পরে ভারতের এই দুইটি রাজ্য থেকে পুশইনের ঝুঁকির শঙ্কা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার উদাহরণ আমরা দেখতে পাই মে মাসের ৩১ তারিখে যখন বিএসএফ বেশ কিছু মানুষকে বাংলাদেশে পুশইন করানোর প্রচেষ্টা হাতে নেয়, যেখানে বিজিবি তাঁদের প্রতিবাদ জানায়। সুতরাং, বাংলাদেশের সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের সঙ্গে দুই দেশের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেও একধরনের উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। যে সীমান্ত এলাকা একসময় একে অপরের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নির্ভরশীলতার পরিসর ছিল সেই সীমান্ত এমন প্রক্রিয়ায় হতে উঠতে পারে একটি উত্তেজনা ও টানাপোড়েনের ক্ষেত্র। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে সীমান্ত এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত শরণার্থী সমস্যা বৃদ্ধির ঝুঁকি যে ঝুঁকি বাংলাদেশের পক্ষে নেওয়া একভাবে অসম্ভব একটি বিষয়।

আমাদের সামনে যদি এমন একটি নীতি-কাঠামো বা পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক না থাকে তাহলে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শরণার্থীবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বেশ আগে থেকেই বলে আসছি বাংলাদেশের জন্য একটি শরণার্থী নীতি জরুরি হয়ে পড়েছে।

শরণার্থীবিষয়ক আলোচনায় এ প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর কথা বলা যায়, যেখানে আমরা দেখি একটা লম্বা সময় ধরে রোহিঙ্গাদের ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়। যার ফলাফল আমরা দেখতে পাই, ২০১৭ সালের প্রায় এক মিলিয়ন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উদ্বাস্তু হওয়ার মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে বাংলাদেশই হয়ে পড়ে তাদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল। বাস্তুচ্যুত এই সকল রোহিঙ্গারা আদৌ তাদের নিজ দেশে ফেরত যেতে পারবে কিনা, সে বিষয়ে কোনো ফলপ্রসূ দিক নির্দেশনা দেখা যাচ্ছে না। ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের তেমন কোনো টেকসই সমাধানের ধারে কাছেও যেতে পারছে না।

যদিও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রেক্ষাপটের সঙ্গে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং আসামে বসবাসরত বাঙালি বা বাঙালি মুসলমানদের প্রেক্ষাপট হয়তো এক নয় কিন্তু সত্তরের দশকে কোন রোহিঙ্গাও ভুলেও চিন্তা করতে পারেনি যে একসময় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর তকমা নিয়ে তাঁদেরই প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে একদিন চলে যেতে হবে উদ্বাস্তু হয়ে।

ফলে বাংলাদেশেকে তার প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে একটি মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক অটুট রেখে ভবিষ্যতের জন্য তার কূটনীতিকে যেমন সাজাতে হবে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী কিংবা কোনো জনগোষ্ঠীকে যদি জোরপূর্বক পুশইন করানোর প্রচেষ্টাকে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, সে বিষয়ে এখন থেকেই বাংলাদেশকে সচেতন থেকে তার শরণার্থী নীতি গড়ে তুলতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে যদি কখনো এই ধরনের ঘটনা আবার বৃদ্ধি পায়, তাহলে বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের হাতে যেন একটি সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকে। আর দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতার ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির সমন্বয় হতে পারে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি।

বিগত সময়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ যে সমস্যায় পড়েছে, সেখানে আমরা দেখেছি কী করে একটি শরণার্থী নীতি না থাকা আমাদের কতটা ভোগাচ্ছে আর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও তাঁদের নিজ দেশে ফিরে যেতে পারছে না। ফলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে একটি শরণার্থী নীতির প্রয়োজনীয়তা আমরা ইতিমধ্যেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আমাদের মনে রাখতে রাখতে হবে শরণার্থীদের ব্যবস্থাপনা মানে কেবলমাত্র তাদের থাকা-খাওয়া এবং আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাই নয় বরং এই সামগ্রিক সংকট সমাধানের জন্য বহির্বিশ্বের সঙ্গে ইতিবাচক কূটনৈতিক তৎপরতা জারি রেখে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করে তাঁদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

আমাদের সামনে যদি এমন একটি নীতি-কাঠামো বা পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক না থাকে তাহলে এই ধরনের ঘটনাগুলোকে সঠিকভাবে মোকাবিলা করা বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। শরণার্থীবিষয়ক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে বেশ আগে থেকেই বলে আসছি বাংলাদেশের জন্য একটি শরণার্থী নীতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে নির্বাচনে বিজয়ের পরে শরণার্থী নীতি প্রণয়নের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে বাংলাদেশ সরকারকে ভাবা উচিত। এর সঙ্গে একটি শান্ত ও পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সীমান্ত নিশ্চিত করার বিষয়টিও দুই দেশের মাথায় রাখতে হবে। কেননা ভবিষ্যতে যদি ভারত থেকে পুশইনের মতো ঘটনা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বৃদ্ধি পায় তাহলে সেটি কেবলমাত্র বাংলাদেশেই নয়, দুই দেশের ও তাঁদের সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে যার মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

বুলবুল সিদ্দিকী: নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পর্কিত