leadT1ad

বেপরোয়া ছিনতাইকারী রুখতে হবে

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১৮: ৩১
সম্পাদকীয় প্রতীকী ছবি। স্ট্রিম গ্রাফিক

অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে রাজধানীর সড়কগুলো মানুষের মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে বললে ভুল হবে না। গত রোববার ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তা সোহেলি ইসলাম। মেয়েকে নিয়ে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারী ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রাস্তায় ছিটকে পড়েন। মাথায় গুরুতর চোট পেয়ে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত বৃহস্পতিবার তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, নগরবাসীর নিরাপত্তা কত ঠুনকো।

দেশে যখন ছিনতাই, ডাকাতি ও খুনের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, তখন আবার দায়িত্বশীল পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে সেটা অস্বীকারের প্রবণতা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সম্প্রতি তাদের প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের অবনতির চিত্র তুলে ধরেছে। নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদিও অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জেলাভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে তিনি পরিস্থিতিকে বরং ইতিবাচক বলে দাবি করেছেন।

আরও নানা ধরনের অপরাধের মধ্যে খোদ রাজধানীর সড়কে যখন একজন নারী নিরাপদে রিকশায় চলতে পারেন না, তখন পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করা কঠিন। চলন্ত রিকশা বা যানবাহন থেকে ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার সংস্কৃতি অবশ্য পুরোনো। রাজধানীতে এ ধরনের অপরাধ বেশি। বিশেষ করে ভোর বা গভীর রাতে রাস্তায় চলাচলকারীরা এর শিকার হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘটে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য বলছে, গত তিন মাসে রাজধানীতে ৮৩টি ছিনতাই ঘটেছে। মার্চ ও এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে ছিনতাই বাড়ার খবর রয়েছে সংবাদমাধ্যমে। অনেক অপরাধের ঘটনা থানায় জানানোও হয় না।

ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণগুলো অজানা নয়। লাগামহীন বেকারত্বের ফলে অনেকেই অন্ধকার পথে পা বাড়াচ্ছে। তাদেরকে অনেক ক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাজুক অবস্থা। গণঅভ্যুত্থানের এতদিন পরেও তারা সংগঠিত হয়ে অপরাধ মোকাবিলায় নামতে পারেনি। রাজপথে টহল পুলিশের উপস্থিতি না থাকাটাও ওই ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণ। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বহাল থাকাটাও অপরাধীদের সাহসী করে তুলছে। যখন অপরাধীর মনে ভয় থাকে না, তখনই শান্তিপ্রিয় মানুষ তাদের অসহায় শিকার হয়ে পড়ে। বেপরোয়া ছিনতাইকারী ব্যাগ ধরে টান দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ায় নারী হতাহত হওয়ার ঘটনা এর আগেও ঘটেছে অবশ্য। নতুন সরকারের আমলে তারা নিশ্চয়ই এ ক্ষেত্রে আরও বেশি করে চাইবেন নিরাপত্তা।

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারকে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যের কথা স্বীকার করে নিয়ে তাদের দমনে কঠোর হতে হবে। রাজধানীর প্রতিটি পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা সচল রাখা, বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে টহল জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোয় চেকপোস্ট বসানো জরুরি। লক্ষ্য অর্জনে র‍্যাবকেও ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষত বেপরোয়া ছিনতাইকারীদের ধরে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যেন তা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। সোহেলি ইসলামের মতো আর কোনো নারীর রক্তে যেন রাজপথ রঞ্জিত না হয়, সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধের অংশ হিসেবেও সরকারকে এদিকে দ্রুত এগিয়ে আসার দাবি জানাবে সবাই।

Ad 300x250

সম্পর্কিত