রাজীব নন্দী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর শহরটি ঐতিহাসিক ফ্রেডরিক নগর বা ‘দিনেমার নগর’ নামে পরিচিত। কলকাতার হাওড়া থেকে মাত্র ৫ রুপিতে লোকাল ট্রেনে টিকেট কেটে যাওয়া যায় গঙ্গা নদীর ধারঘেঁষা এই ঐতিহাসিক স্থানে। এখানেই রয়েছে ‘কেরি জাদুঘর’।
উইলয়াম কেরির নিজের মুখের ভাষা বাংলা ছিল না, তবুও মানুষটি বাংলা ভাষার বিকাশে রেখে গেছেন গভীর ছাপ। তাঁর হাত ধরে বাংলা মুদ্রণ পেয়েছিল নতুন গতি। বাঙালিকে স্বেচ্ছায় বাংলা গদ্যভাষা শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন যেসব লাট-সাহেবরা, তিনি তাঁদের মধ্যমণি।
বাংলা গদ্য, বাংলা সাংবাদিকতা ও মুদ্রণ শিল্পকে বদলে দেওয়া মানুষটির জন্মদিন আজ ১৭ আগস্ট। এই দিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন ইংরেজ মিশনারিকে স্মরণ করা নয়। বাংলা ভাষা, শিক্ষা, মুদ্রণ ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে জানা।
উইলিয়াম কেরি ছিলেন ইংরেজ মিশনারি, ভাষাবিদ ও সমাজসংস্কারক। ১৭৯৩ সালে ভারতে আসার পর তিনি শ্রীরামপুরকে তাঁর কাজের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, অভিধান প্রণয়ন, বিভিন্ন বই অনুবাদ এবং মুদ্রণ সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ডের সঙ্গে তাঁর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা ‘শ্রীরামপুর মিশন’ শিক্ষা, প্রকাশনা ও ভাষাচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে পুরোনো কাঠের দরজা আর সংরক্ষিত বইয়ের পাতাগুলো যেন আজও সাক্ষ্য দেয় তাঁর সেই অসাধারণ অবদানের।
-86e78d.jpeg)
শ্রীরামপুর শহরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ঔপনিবেশিক সময়ের নানা স্মৃতি। আধুনিকতার ভিড়েও শহরটি ধরে রেখেছে পুরোনো ঐতিহ্যের ছাপ। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবন, শান্ত পরিবেশ এবং গঙ্গার তীরবর্তী জনপদে রয়েছে এক মায়াবী আকর্ষণ। মনে হয়, এখানে অতীত আর বর্তমান পাশাপাশি বসবাস করছে। এই শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি শ্রীরামপুর কলেজ। ১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজেই রয়েছে ‘কেরি জাদুঘর’।
কেরি জাদুঘরে প্রবেশ করার পরই দেখা যায়, এখানে সংরক্ষিত রয়েছে পুরোনো বই, পাণ্ডুলিপি, মুদ্রণ উপকরণ, চিঠিপত্র, মানচিত্র, ব্যক্তিগত সামগ্রী ও নানা ঐতিহাসিক নথি।

১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর কলেজের সঙ্গে এই সংগ্রহশালার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৬১ সালে কেরির স্মৃতিচিহ্নগুলো এই সংগ্রহশালায় রাখা হয়। পরে ১৯৯৩ সালে নরওয়ে ও ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিত নতুন ভবন ও গবেষণা কেন্দ্রে এই ঐতিহাসিক সামগ্রীগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
কেরিকে স্মরণ করা কেন আজো প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে কথা হয় অধ্যাপক স্নেহাশিস সুরের সঙ্গে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের একজন বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি। তিনি বলেন, বাংলায় তো বহু লাট-সাহেব এসেছিলেন। কেরি ছিলেন বিরল ব্যতিক্রম। আজকের নতুন প্রজন্মের জানা দরকার সেইসময় মুদ্রণ প্রযুক্তির পথিকৃৎ মানুষটির নাম কেরি।
কলেজের মূল ভবনের পাশে কেরি মিউজিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের (সিএলআরসি) সামনে দাঁড়িয়ে আছে কেরি-মার্শম্যান-ওয়ার্ড—তিনজনের আবক্ষ মূর্তি। উইলিয়াম কেরির সঙ্গে কাজ করেছেন জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড। মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ওয়ার্ডের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ, উন্নত হরফ নির্মাণ এবং বাংলা মুদ্রণের অগ্রযাত্রায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। হরফ তৈরির কাজে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন বাংলা মুদ্রণশিল্পের আরেক অগ্রদূত পঞ্চানন কর্মকারকে।
-f57380.jpeg)
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালের আগস্টে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় ‘মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত’—বাংলা গদ্যে মুদ্রিত প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর একটি। এরপর এই ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে কৃত্তিবাসের রামায়ণ, কাশীরামের মহাভারত এবং দুই খণ্ডে বাংলা বাইবেল। শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ প্রকাশ নয়, ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতিকে মুদ্রণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও এগিয়ে আসে শ্রীরামপুর মিশন। প্রাচ্য সাহিত্যকে ইংরেজিতে এবং পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে তারা তৈরি করেন জ্ঞান বিনিময়ের সেতু। পরবর্তী ৩২ বছরে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় প্রকাশিত হয় প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার বই। সেসময় এটি ছিল অভাবনীয় সাফল্য এবং ভারতীয় মুদ্রণ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
জাদুঘরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভাষাভিত্তিক সংগ্রহ। এখানে রয়েছে ১০১টি ভাষার পাঠ্যসামগ্রী, ১৪টি ভাষার পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান, চিঠি, দিনলিপি এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ধর্মীয় গ্রন্থ। এসব সংগ্রহ শুধু অতীতের স্মৃতিই নয়, গবেষকদের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

কেরিকে ভারতে টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তিনি একসময় চলে যান উত্তরবঙ্গের মালদা থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বামনগোলা ব্লকের মদনাবতী গ্রামে। সেখানে মুদ্রণযন্ত্র, কাগজ, কালি ও হরফ সংগ্রহ করে বাংলা হরফে বাইবেলের অনুবাদ ছাপার কাজ শুরু করেন তিনি। সেই মালদা থেকে উঠে আসা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেতাজী নগর কলেজের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কেরি ভারতবর্ষের সম্পদ। তিনি ভাষা, শিক্ষা ও মুদ্রণের ক্ষেত্রে যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তার প্রভাব আজও অনুভূত হয়।’
-e7b274.jpeg)
সময়টা আঠারো শতকের শেষ ভাগ। প্রাকৃত ও অপভ্রংশের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলা ধীরে ধীরে গড়ে তুলছিল তার আধুনিক রূপ। এমন সময়ে কেরির আগমন শুধু ধর্ম প্রচারের ইতিহাসে নয়, বাংলা ভাষা, মুদ্রণ ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসেও তৈরি করে নতুন অধ্যায়।
লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, বর্তমানে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনে পিএইচডি রিসার্চ স্কলার।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হুগলি জেলার শ্রীরামপুর শহরটি ঐতিহাসিক ফ্রেডরিক নগর বা ‘দিনেমার নগর’ নামে পরিচিত। কলকাতার হাওড়া থেকে মাত্র ৫ রুপিতে লোকাল ট্রেনে টিকেট কেটে যাওয়া যায় গঙ্গা নদীর ধারঘেঁষা এই ঐতিহাসিক স্থানে। এখানেই রয়েছে ‘কেরি জাদুঘর’।
উইলয়াম কেরির নিজের মুখের ভাষা বাংলা ছিল না, তবুও মানুষটি বাংলা ভাষার বিকাশে রেখে গেছেন গভীর ছাপ। তাঁর হাত ধরে বাংলা মুদ্রণ পেয়েছিল নতুন গতি। বাঙালিকে স্বেচ্ছায় বাংলা গদ্যভাষা শেখানোর দায়িত্ব নিয়েছিলেন যেসব লাট-সাহেবরা, তিনি তাঁদের মধ্যমণি।
বাংলা গদ্য, বাংলা সাংবাদিকতা ও মুদ্রণ শিল্পকে বদলে দেওয়া মানুষটির জন্মদিন আজ ১৭ আগস্ট। এই দিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন ইংরেজ মিশনারিকে স্মরণ করা নয়। বাংলা ভাষা, শিক্ষা, মুদ্রণ ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সম্পর্কে জানা।
উইলিয়াম কেরি ছিলেন ইংরেজ মিশনারি, ভাষাবিদ ও সমাজসংস্কারক। ১৭৯৩ সালে ভারতে আসার পর তিনি শ্রীরামপুরকে তাঁর কাজের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলেন। বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, অভিধান প্রণয়ন, বিভিন্ন বই অনুবাদ এবং মুদ্রণ সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ডের সঙ্গে তাঁর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা ‘শ্রীরামপুর মিশন’ শিক্ষা, প্রকাশনা ও ভাষাচর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেখানে পুরোনো কাঠের দরজা আর সংরক্ষিত বইয়ের পাতাগুলো যেন আজও সাক্ষ্য দেয় তাঁর সেই অসাধারণ অবদানের।
-86e78d.jpeg)
শ্রীরামপুর শহরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে ঔপনিবেশিক সময়ের নানা স্মৃতি। আধুনিকতার ভিড়েও শহরটি ধরে রেখেছে পুরোনো ঐতিহ্যের ছাপ। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ভবন, শান্ত পরিবেশ এবং গঙ্গার তীরবর্তী জনপদে রয়েছে এক মায়াবী আকর্ষণ। মনে হয়, এখানে অতীত আর বর্তমান পাশাপাশি বসবাস করছে। এই শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর একটি শ্রীরামপুর কলেজ। ১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজেই রয়েছে ‘কেরি জাদুঘর’।
কেরি জাদুঘরে প্রবেশ করার পরই দেখা যায়, এখানে সংরক্ষিত রয়েছে পুরোনো বই, পাণ্ডুলিপি, মুদ্রণ উপকরণ, চিঠিপত্র, মানচিত্র, ব্যক্তিগত সামগ্রী ও নানা ঐতিহাসিক নথি।

১৮১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত শ্রীরামপুর কলেজের সঙ্গে এই সংগ্রহশালার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৬১ সালে কেরির স্মৃতিচিহ্নগুলো এই সংগ্রহশালায় রাখা হয়। পরে ১৯৯৩ সালে নরওয়ে ও ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিত নতুন ভবন ও গবেষণা কেন্দ্রে এই ঐতিহাসিক সামগ্রীগুলো সংরক্ষণ করা হয়।
কেরিকে স্মরণ করা কেন আজো প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে কথা হয় অধ্যাপক স্নেহাশিস সুরের সঙ্গে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের একজন বিশিষ্ট প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলকাতা প্রেসক্লাবের সভাপতি। তিনি বলেন, বাংলায় তো বহু লাট-সাহেব এসেছিলেন। কেরি ছিলেন বিরল ব্যতিক্রম। আজকের নতুন প্রজন্মের জানা দরকার সেইসময় মুদ্রণ প্রযুক্তির পথিকৃৎ মানুষটির নাম কেরি।
কলেজের মূল ভবনের পাশে কেরি মিউজিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের (সিএলআরসি) সামনে দাঁড়িয়ে আছে কেরি-মার্শম্যান-ওয়ার্ড—তিনজনের আবক্ষ মূর্তি। উইলিয়াম কেরির সঙ্গে কাজ করেছেন জোশুয়া মার্শম্যান ও উইলিয়াম ওয়ার্ড। মুদ্রণ শিল্পের বিকাশে ওয়ার্ডের ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ, উন্নত হরফ নির্মাণ এবং বাংলা মুদ্রণের অগ্রযাত্রায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। হরফ তৈরির কাজে তিনি সহযোগিতা করেছিলেন বাংলা মুদ্রণশিল্পের আরেক অগ্রদূত পঞ্চানন কর্মকারকে।
-f57380.jpeg)
ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৮০০ সালের আগস্টে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় ‘মঙ্গল সমাচার মতীয়ের রচিত’—বাংলা গদ্যে মুদ্রিত প্রথম দিকের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর একটি। এরপর এই ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হতে থাকে কৃত্তিবাসের রামায়ণ, কাশীরামের মহাভারত এবং দুই খণ্ডে বাংলা বাইবেল। শুধু ধর্মীয় গ্রন্থ প্রকাশ নয়, ভারতীয় বিভিন্ন ভাষার সাহিত্য, জ্ঞান ও সংস্কৃতিকে মুদ্রণের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজেও এগিয়ে আসে শ্রীরামপুর মিশন। প্রাচ্য সাহিত্যকে ইংরেজিতে এবং পাশ্চাত্যের জ্ঞান-বিজ্ঞানকে ভারতীয় আঞ্চলিক ভাষায় অনুবাদের মাধ্যমে তারা তৈরি করেন জ্ঞান বিনিময়ের সেতু। পরবর্তী ৩২ বছরে শ্রীরামপুর মিশন প্রেস থেকে ৪৫টি ভাষায় প্রকাশিত হয় প্রায় ২ লাখ ১২ হাজার বই। সেসময় এটি ছিল অভাবনীয় সাফল্য এবং ভারতীয় মুদ্রণ ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
জাদুঘরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভাষাভিত্তিক সংগ্রহ। এখানে রয়েছে ১০১টি ভাষার পাঠ্যসামগ্রী, ১৪টি ভাষার পাণ্ডুলিপি, বিভিন্ন ভাষার ব্যাকরণ ও অভিধান, চিঠি, দিনলিপি এবং বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ধর্মীয় গ্রন্থ। এসব সংগ্রহ শুধু অতীতের স্মৃতিই নয়, গবেষকদের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

কেরিকে ভারতে টিকে থাকতে সংগ্রাম করতে হয়েছিল। তিনি একসময় চলে যান উত্তরবঙ্গের মালদা থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বামনগোলা ব্লকের মদনাবতী গ্রামে। সেখানে মুদ্রণযন্ত্র, কাগজ, কালি ও হরফ সংগ্রহ করে বাংলা হরফে বাইবেলের অনুবাদ ছাপার কাজ শুরু করেন তিনি। সেই মালদা থেকে উঠে আসা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেতাজী নগর কলেজের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘কেরি ভারতবর্ষের সম্পদ। তিনি ভাষা, শিক্ষা ও মুদ্রণের ক্ষেত্রে যে ভিত্তি তৈরি করেছিলেন, তার প্রভাব আজও অনুভূত হয়।’
-e7b274.jpeg)
সময়টা আঠারো শতকের শেষ ভাগ। প্রাকৃত ও অপভ্রংশের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে বাংলা ধীরে ধীরে গড়ে তুলছিল তার আধুনিক রূপ। এমন সময়ে কেরির আগমন শুধু ধর্ম প্রচারের ইতিহাসে নয়, বাংলা ভাষা, মুদ্রণ ও জ্ঞানচর্চার ইতিহাসেও তৈরি করে নতুন অধ্যায়।
লেখক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, বর্তমানে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশনে পিএইচডি রিসার্চ স্কলার।
.png)

১২ আগস্ট ২০১৯, সোমবার। এদেশের মানুষ তথা ইছাপুর-কুসুমপুরবাসীর জন্য শোকাবহ দিন। এদিন আমরা হারিয়েছি এক মহান ব্যক্তিত্বকে। প্রখ্যাত লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজবিজ্ঞানী ও সাবেক মন্ত্রী আমাদের প্রিয় শেলী দাদা এই দিনে আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
১২ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক নিঃসঙ্গ শেরপা তাজউদ্দীন আহমদ। যাঁর প্রজ্ঞা, পারদর্শিতা, দরকষাকষির ক্ষমতা, তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা এবং কুশলী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে স্বাধীনতার পথে পরিচালিত করেছিল।
২৩ জুলাই ২০২৬
কিছু মানুষ পৃথিবীতে আসেন ক্ষণিকের জন্য, কিন্তু চিরতরে নিভে যাওয়ার আগ মুহূর্তে তারা হয়ে ওঠেন অন্যের জীবনের অনন্ত আলোকবর্তিকা। মৃত্যু তাদের নিশ্চিহ্ন করতে পারে না। এমনই এক নির্লোভ ও মহীয়সী নারী ছিলেন মাহেরীন চৌধুরী। পেশায় ছিলেন শিক্ষিক, কিন্তু মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রমাণ করে গেছেন—তিনি কেবল শ্রেণি
২১ জুলাই ২০২৬
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বাংলা একাডেমিতে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। তিনি প্রায়ই একাডেমিতে আসতেন এবং আমাদের বহু অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করতেন। সুতরাং বলতেই হয়, একজন বুদ্ধিজীবী ও লেখক হিসেবে তিনি যেমন সক্রিয় ছিলেন, তেমনি জনসংযোগও বেশ পছন্দ করতেন। তাঁর কাছে প্রচুর মানুষের যাতায়াত ছিল।
০৫ জুলাই ২০২৬