ফিরেই মোসাদ্দেকের চমক, অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ২৮৫

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

চার বছর পরে দলে ফিরে চমক দেখিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৭০ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ চার বছর পরে দলে ফিরে চমক দেখিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন। তাঁর অপরাজিত ৮৬ রানে ভর করে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের জন্য ২৮৫ রানের লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিং পায় মিরাজররা। মোসাদ্দেক ছাড়াও ফিফটি তুলে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্তর ৬৭ ও ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৫৪ রান।

দ্বিতীয় ওভারেই টাইগার শিবিরে আঘাত হানেন অজি পেসার নাথান এলিস। ওপেনার সাইফ হাসান দ্বিতীয় স্লিপে মার্কাস লাবুশেনের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন। তামিমের সঙ্গে সেই ধাক্কা সামলান শান্ত। ব্যক্তিগত ৭ রানে জীবন পেলেও, তিনি ৯ চার এক ছক্কায় থামেন ৬৭ রান করে।

৯৪ রানের এই জুটি ভাঙেন নাথান এলিস। তাঁর স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে জেভিয়ার বার্টলেটের হাতে ক্যাচ তুলে দেন তামিম। ৫৪ রানের পথে তিনি ৭টি চার ও একটি ছক্কা হাকান। শান্তর সঙ্গে দারুণ সুর মেলানো তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের ২ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।

হঠাৎ তছনছ মিডল অর্ডার

মিরপুরের আকাশ হুট করে কালো মেঘে ঢেকে যায়। ফ্লাড লাইটে চলতে থাকে খেলা। দুই বাঁহাতিকে পরাস্ত করতে অজি পেসাররা ক্রমাগত শর্ট বল ও বডি লাইনে বল করতে থাকেন। কিন্তু সেগুলোকে শান্ত ও তামিম সাবলীলভাবে পুল ও ফ্লিকে উড়িয়ে দিতে থাকেন। কিন্তু তামিম আউট হওয়ার পরপরই মেঘ কেটে ওঠে কড়া রোদ। লিটন দাস ক্রিজে এসে ব্যক্তিগত ৭ রানে অজি পার্ট-টাইম স্পিনার ম্যাথু রেনশর বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন।

তাওহীদ হৃদয় এসেও বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। রেনশর বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শান্ত। মিডল অর্ডারের ধসে পুরোপুরি ব্যাকফুটে চলে যায় বাংলাদেশ। ছয়ের উপরে থাকার রানের চাকাও থেমে যায়। এরপরই মোসাদ্দেকের চমকের শুরু। ব্যক্তিগত ২১ রানে রেনশর বলে মিড-অনে ক্যাচ দিলেও, তা রাখতে পারেননি কুপার কনলি। এরপর আর মোসাদ্দেককে পেছনে তাকাতে হয়নি। অজি বোলারদের কেউই তাঁকে আউট করতে পারেননি।

এর মধ্যে দলীয় ২০০ রান পারের পর জেভিয়ার বার্টলেটের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দিয়ে ৩১ রান করে ফেরেন হৃদয়। ভেঙে যায় ৭৫ রানের ঘুরে দাঁড়ানো জুটি। হৃদয়ের বিদায়ের পর ক্রিজে নতুন ব্যাটার এলেও মোসাদ্দেক প্রান্ত আগলে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনকে রাঙিয়ে নেন। সিঙ্গেলস নিয়ে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি পূর্ণ করেন। এরপর হয়ে ওঠেন বিধ্বংসী। জাম্পার ওভারে দুটি বাউন্ডারি ও একটি ছক্কা মেরে গ্যালারি বাহবা কুড়ান তিনি।

পেসার তাসকিনের সঙ্গে শেষ দিকে মোসাদ্দেক ৪৪ রানের জুটি গড়লে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ২৮৪। নাথান এলিস ৩৮ রানে ৩ এবং ম্যাথু রেনশ ৩৫ রানে ২টি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২৮৪/৮ (৫০ ওভার); মোসাদ্দেক ৮৬*, শান্ত ৬৭, তানজিদ ৫৪; এলিস ৩/৩৮, রেনশ ২/৩৫।

সম্পর্কিত