৩ অক্টোবর শুরু জাতীয় ক্রিকেট লীগ, বেতন-সুবিধা বৃদ্ধির আশা
স্ট্রিম প্রতিবেদকঢাকা

আগামী ৩ অক্টোবর মাঠে গড়াচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) ২৮তম আসর। ক্রিকেটারদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, ব্যাগি ক্যাপ প্রদান এবং খেলার বল পরিবর্তনের মতো উদ্যোগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলে মনে করছেন লিগের অধিনায়করা।
এনসিএল শুরুর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোয় পরিবর্তন, পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি এবং আসন্ন মৌসুমের প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অধিনায়করা।
রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলী জানান, ক্রিকেটারদের বেতন বাড়ানো বোর্ডের পক্ষ থেকে সম্মানের পাশাপাশি বড় দায়িত্বও তৈরি করেছে। বোর্ড যে বিনিয়োগ করছে, তার প্রতিদান মাঠে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দিতে হবে।
খুলনার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনও মনে করেন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা আরও আগেই আসা প্রয়োজন ছিল। ২০০৬ সালে মাত্র ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতায় খেলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের টেস্ট ক্রিকেট যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও পেশাদারিত্ব বাড়াতে হবে।
এবার এনসিএলে গত মৌসুমের ডিউক বলের পরিবর্তে ব্যবহার করা হবে কোকাবুরা বল। ব্যাটারদের জন্য এটি তুলনামূলকভাবে রান করার সুযোগ বাড়াতে পারে বলে মনে করেন আকবর।
তবে কোকাবুরা বল পেসার ও স্পিনার—দুই ধরনের বোলারদের জন্যই নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করেন মাহিদুল ইসলাম।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এনসিএলের সফল দলগুলোর একটি রংপুর। ব্যক্তিগত তারকার চেয়ে দলীয় ঐক্যকেই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি মনে করেন আকবর। নাঈম ইসলাম, নাসির হোসেন ও তানভীর হায়দারের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের দিকনির্দেশনা দলকে শক্তিশালী করেছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্কোয়াড থেকে সম্প্রতি বাদ পড়ার হতাশাকেও নিজের উন্নতির চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আকবর। এনসিএলে ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও রানে ফিরতে চান তিনি।
অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অবসরের কারণে খুলনা ও ঢাকা দলকে নতুন করে গড়তে হচ্ছে। আব্দুর রাজ্জাক, আল-আমিন ও শফিউলের মতো বোলারদের বিদায়ে খুলনার বোলিং বিভাগ দুর্বল হয়েছে বলে মনে করেন মিঠুন। তবে নতুনদের নিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা থাকবে তাদের।
ঢাকা বিভাগের অধিনায়ক অঙ্কন জানান, তরুণদের নিয়ে গড়া দলটি সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকতার অভাবে ভুগেছে। এবার পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
বরিশালের নেতৃত্বে এবার তরুণ ইফতেখার ইফতি। মাত্র চার বছর বয়সে ২০০৬ সালের এনসিএল দেখেছেন তিনি। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটার বরিশালকে আরও ভালোভাবে সংগঠিত করে টুর্নামেন্টে ভালো ফল এনে দিতে চান।
এদিকে রংপুরে নিজস্ব ইনডোর সুবিধা না থাকা এবং দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মাঠে এনসিএলের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ না পাওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আকবর। দ্রুত এই অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করে রংপুরে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ আয়োজনের ব্যবস্থা করার আশা জানিয়েছেন তিনি।
.png)






