বিশ্বকাপের নক্ষত্র–১৫

মাঝমাঠের জাদুকর লুকা মদ্রিচের ‘কাব্যিক’ বিদায়ের অপেক্ষা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ২০: ৫৬
লুকা মদ্রিচ। সংগৃহীত ছবি

বয়সের ভারে অনেক ফুটবলারই যখন অবসরের দিন গোনেন। তখন তিনি মাঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বয়স চল্লিশ পেরোলেও তাঁর পায়ের জাদু ফুরোয়নি। ইউরোপের শীর্ষ লিগে এখনো মাঝমাঠের অঘোষিত রাজা। কথা হচ্ছে ক্রোয়েশিয়ার তারকা ফুটবলার লুকা মদ্রিচকে নিয়ে।

মদ্রিচের খেলার মূল শক্তি ম্যাচের গতি বা টেম্পো নিয়ন্ত্রণে রাখা। চার-পাঁচজন ডিফেন্ডারের কড়া পাহারা সত্ত্বেও নিখুঁত পাসে বল বের করে আনতে পারেন। ট্রেডমার্ক ‘ট্রাভেলা’ বা পায়ের বাইরের অংশের পাস ফুটবল বিশ্বে জনপ্রিয়। বয়স বাড়লেও মাঠে তাঁর পরিশ্রম করার মানসিকতা সবাইকে অবাক করে।

৪০ বছর বয়সী এই তারকা খেলেন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে। বর্তমানে ইতালির ক্লাব এসি মিলানের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলেন ১০ নম্বর জার্সিতে। দেশের ক্লাব ডায়নামো জাগরেবে শুরু হয়েছিল পেশাদার ফুটবল জীবন।

রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ জিনেদিন জিদানের মতে, মদ্রিচ যখন মাঠে খেলেন তখন ফুটবল বড্ড সহজ মনে হয়। পাসিং ভিশন এবং পায়ের বাইরের অংশের কারুকার্য সত্যিই অসাধারণ। তাঁর বুদ্ধিমত্তা যেকোনো মিডফিল্ডারের জন্য পাঠ্যবই।

ট্রফি ক্যাবিনেট ও রেকর্ড পরিসংখ্যান

রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে রেকর্ড ছয়বার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন মদ্রিচ। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জেতেন। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে চারবার লা লিগা ও পাঁচবার ক্লাব বিশ্বকাপসহ অসংখ্য শিরোপা জয় করেন।

টটেনহ্যাম হটস্পার, রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের জার্সিতে লুকা মদ্রিচ। ছবি সংগৃহীত
টটেনহ্যাম হটস্পার, রিয়াল মাদ্রিদ ও এসি মিলানের জার্সিতে লুকা মদ্রিচ। ছবি সংগৃহীত

২০০৮ সাল থেকে ফুটবলে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর একচ্ছত্র আধিপত্য চলছিল। ২০১৮ সালে সেই রাজত্ব ভেঙে দিয়ে বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি'অর জয় করেন মদ্রিচ।

জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ২৮ গোল। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ঝুলিতে রয়েছে ৪৩ গোল ও ৯৩টি অ্যাসিস্ট।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দল টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে করেছেন ১৭ গোল ও ২৪টি অ্যাসিস্ট।

ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে ইতোমধ্যে দুই গোল ও তিন অ্যাসিস্ট করেছেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চ ও কাব্যিক 'লাস্ট ড্যান্স'

২০১৮ বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ হয়। ফুটবল বোদ্ধারা বলেন, একা মদ্রিচের জাদুতে এতদূর গিয়েছিল দেশটি। ওই বিশ্বকাপে মদ্রিচ জিতেছিলেন সেরা খেলোয়াড়ের খেতাব।

২০২২ বিশ্বকাপে মদ্রিচের কাঁধে চড়ে ম্যাজিক দেখায় ক্রোয়েশিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে ব্রাজিলকে হারিয়ে দিয়ে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে দলটি।

২০২৬ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে মদ্রিচের ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত মহাকাব্য। ৪০ বছর বয়সে এসেও তিনি ক্রোয়েশিয়া দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। নিজের শেষ বিশ্বকাপে ক্রোয়েটদের সোনালি প্রজন্মকে নিয়ে তিনি মাঠে নামবেন। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি ছোঁয়ার সেই অসমাপ্ত স্বপ্ন পূরণে ক্রোয়েশিয়ার আস্থা এখন মদ্রিচেই।

যুদ্ধবিধ্বস্ত শৈশব থেকে বিশ্বজয়

মদ্রিচের শৈশব কোনো বিলাসবহুল অ্যাকাডেমিতে কাটেনি। নব্বইয়ের দশকে বলকান যুদ্ধের সময় ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা যুদ্ধের বিভীষিকা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। ছোট লুকাকে সপরিবারে শরণার্থী ক্যাম্পে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। সেই শরণার্থী শিবিরের ভাঙা পার্কিং লটে বোমা আর গুলির শব্দের মাঝেই তাঁর ফুটবল খেলা শুরু হয়েছিল।

সম্পর্কিত