বিশ্বকাপের নক্ষত্র-২১

৫ বছর বয়সে বিশ্বরেকর্ড, ‘টার্মিনেটরে’র লক্ষ্য এবার যুক্তরাষ্ট্র

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

আর্লিং ব্রাউট হলান্ড। স্ট্রিম গ্রাফিক

নব্বই মিনিটের খেলায় নান্দনিক পাসিং আর ট্যাকটিকসের ছক যতই সাজানো হোক, দিনশেষে জালের দেখা পাওয়াই সবচেয়ে বেশি কাঙ্ক্ষিত। আর এখানেই মঞ্চে আবির্ভূত হন স্ট্রাইকাররা—যাঁরা মাঠে থাকেন শুধুই গোলের তৃষ্ণা নিয়ে, যাঁদের পায়ের ছোঁয়ায় পূর্ণতা পায় দলের সব আক্রমণ। ঠিক এমনই এক গোল-ক্ষুধার্ত স্ট্রাইকার নরওয়ের আর্লিং ব্রাউট হলান্ড।

ক্ষিপ্রতা, শারীরিক দাপট আর গোলবারের সামনে ঠিক জায়গায় থাকার অসাধারণ ফুটবল-বুদ্ধি তাঁকে পরিণত করেছে সময়ের অন্যতম সেরা গোলমেশিনে। মাঠের অদম্য শক্তির কারণে দর্শকরা তাঁকে ইতিহাদের ‘টার্মিনেটর’ নামে ডাকেন।

২৫ বছর বয়সী আর্লিং হলান্ড একজন পিওর সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার। ক্লাব ও জাতীয় দল দুজায়গাতেই খেলেন ৯ নম্বর জার্সিতে। বর্তমানে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।

সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার মতে, ‘হলান্ডের খেলার ধরন দেখে লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর কথা মনে পড়ে। ওদের পথেই হাঁটছে সে।’

ট্রফি ক্যাবিনেট, অর্জন ও পরিসংখ্যান

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এক মৌসুমেই ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ অর্থাৎ প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। এছাড়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ, দুইবার প্রিমিয়ার লিগ, দুইবার এফএ কাপ ও ইংলিশ সুপার কাপ জয়ের রেকর্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি হাতে আর্লিং হলান্ড। ছবি: সংগৃহীত
চ্যাম্পিয়নস লিগের ট্রফি হাতে আর্লিং হলান্ড। ছবি: সংগৃহীত

জার্মানির ক্লাব বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে জার্মান কাপ জিতেছেন। অস্ট্রিয়ার রেড বুল সালজবার্গের হয়ে দুইবার করে লিগ শিরোপা ও অস্ট্রিয়ান কাপ জিতেছেন।

ব্যক্তিগত অর্জনে ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে ‘ইউরোপীয় গোল্ডেন শু’ এবং ব্যালন ডি'অর মঞ্চে বছরের সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে ‘গের্ড ম্যুলার ট্রফি’ রয়েছে হলান্ডের ঝুলিতে। ‘উয়েফা মেনস প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ এবং প্রিমিয়ার লিগের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

মাত্র ২৫ বছর বয়সেই নরওয়ের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার শীর্ষ স্থান দখল করেন হলান্ড। দেশের হয়ে এ পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে করেছেন ৫৫ গোল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে সিটির হয়ে ৫২ ম্যাচে করেছেন ৩৮ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। সিটির হয়ে এখন পর্যন্ত ১৯৮ ম্যাচে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ১৬২ গোল ও ৩০ অ্যাসিস্ট। সিটিতে আসার আগে ডর্টমুন্ডের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৮৬ গোল এবং রেড বুল সালজবার্গের হয়ে ২৭ ম্যাচে ২৯ গোল করেছেন হলান্ড।

বিশ্বকাপ ইতিহাস ও ২০২৬ আসরের নতুন মিশন

২০২২ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে পারেনি নরওয়ে। বিশ্বমঞ্চে হলান্ডের গতি ও ক্ষিপ্রতা দেখা থেকে বঞ্চিত হতে হয়েছিল ফুটবল ভক্তদের। ২৮ বছর পর ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা পায় নরওয়ে।

মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হলান্ড। ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হলান্ড। ছবি: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

এবারের আসর হতে যাচ্ছে আর্লিং হলান্ডের ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ। নরওয়ের সোনালি প্রজন্মের প্রধান চালিকাশক্তি এখন এই তরুণ স্ট্রাইকার। অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত পাসিং আর হলান্ডের দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করে ২০২৬ বিশ্বমঞ্চে নরওয়ে নতুন ইতিহাস গড়তে মুখিয়ে আছে।

ফুটবল ট্রিভিয়া ও বিশ্বরেকর্ড

২০১৯ সালের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে হন্ডুরাসের বিপক্ষে নরওয়ের ১২-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে একাই ৯ গোল করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী হলান্ড। শুধু ফুটবলে নয়, শৈশবে অ্যাথলেটিক্সেও নিজের প্রতিভা দেখিয়েছেন হলান্ড। ২০০৬ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে দীর্ঘ লাফ প্রতিযোগিতায় ১ দশমিক ৬৩ মিটারের লাফ দেন তিনি। সেই রেকর্ড আজও ওই বয়সীদের বিশ্বরেকর্ড হিসেবে অক্ষত।

সম্পর্কিত