বিশ্বকাপের নক্ষত্র–১২

বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের শেষ রাজা কেভিন ডি ব্রুইনা

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ২২: ৪৯
কেভিন ডি ব্রুইনা। ছবি সংগৃহীত

ফুটবলে দর্শকরা দেখতে চান গোল। তাই আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন স্ট্রাইকার তথা গোল স্কোরাররা। তবে গোলের সুযোগ তৈরিতে যারা সিদ্ধহস্ত, তাদের নিয়েও দর্শক ও সমালোচকদের আগ্রহের কমতি নেই। কেউ কেউ তো গোল করার চেয়ে গোলের সুযোগ তৈরিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান। গত এক যুগ ধরে এমন ফুটবলারদের আলাপ উঠলে কেভিন ডি ব্রুইনার নাম থাকে সবচেয়ে ওপরের দিকে।

ডি ব্রুইনাকে আধুনিক ফুটবলের ‘পাসিং মাস্টারক্লাস’ নামে ডাকা হয়। মাঠের যেকোনো জায়গা থেকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন ভেঙে নিখুঁত পাস দিতে যার জুড়ি মেলা ভার। কেবল অ্যাসিস্ট বা গোল করানোতেই সীমাবদ্ধ নন। বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করতেও সমান দক্ষ।

৩৪ বছর বয়সী ডি ব্রুইনা বেলজিয়াম জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিতে অ্যাটাকিং বা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলেন। বেলজিয়ামের ক্লাব জেংকের হয়ে তার পেশাদার ফুটবলের শুরু।

এরপর যোগ দেন ইংল্যান্ডের ক্লাব চেলসিতে। জার্মানির ঘরোয়া লিগে ওয়ের্ডার ব্রেমেন এবং উলফসবুর্গের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। এরপর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটিতে খেলেছেন দীর্ঘ এক দশক। বর্তমানে এই তারকা মিডফিল্ডার ইতালির ক্লাব নেপোলির হয়ে খেলছেন।

ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলার ভাষায়, ডি ব্রুইনা তাঁর দেখা অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। সে আসলে সব করতে পারে, সব মানে সত্যিই সব।

ট্রফি ক্যাবিনেট, অর্জন ও পরিসংখ্যান

ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ডি ব্রুইনা ৫ বার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জিতেছেন। সিটির ইতিহাসের প্রথম উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও ২০২২-২৩ মৌসুমের ঐতিহাসিক ‘ট্রেবল’ জয়ে ব্রুইনাকে বেশি কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

পাশাপাশি সিটির হয়ে দুটি এফএ কাপ জিতেছেন। উয়েফা সুপার কাপ ও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন। জার্মানিতে উলফসবুর্গের হয়ে ডিএফবি-পোকাল এবং ডিএফএল-সুপারকাপ জিতেছেন। নিজের প্রথম ক্লাব জেংকের হয়ে বেলজিয়ান প্রো লিগ ও বেলজিয়ান কাপের শিরোপাও ক্যাবিনেটে রয়েছে।

উলফসবুর্গ, ম্যানচেস্টার সিটি ও নেপোলির জার্সিতে ডি ব্রুইনা। সংগৃহীত ছবি
উলফসবুর্গ, ম্যানচেস্টার সিটি ও নেপোলির জার্সিতে ডি ব্রুইনা। সংগৃহীত ছবি

ব্যক্তিগত অর্জনে ২ বার প্রফেশনাল ফুটবলারস অ্যাসোসিয়েশনের প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছেন। রেকর্ড ৩ বার লিগের বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। সিটির হয়ে দুই বার এবং জার্মান ক্লাব উলফসবুর্গের হয়ে একবার তিনি এই খেতাব পান।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস ডি ব্রুইনাকে তিনবার বিশ্বের সেরা প্লেমেকার নির্বাচিত করেছে। প্রিমিয়ার লিগের সেরা প্লেমেকার হয়েছেন তিনবার। ফিফপ্রো বিশ্ব একাদশে একাধিকবার জায়গা পেয়েছেন। ২০২২ সালের ব্যালন ডি'অরে হয়েছেন তৃতীয়।

২০১৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপে বেলজিয়ামকে তৃতীয় স্থান এনে দেওয়ায় এই মিডফিল্ডারের বড় ভূমিকা ছিল।

জাতীয় দলের জার্সিতে ডি ব্রুইনার নামের পাশে রয়েছে ৩৬ গোল। ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে করেছেন ১০৭ গোল এবং ১৭৭টি গোলে করেছেন সহায়তা (অ্যাসিস্ট)।

উলফসবুর্গের হয়ে ব্রুইনার ঝুলিতে রয়েছে ২০ গোল ও ৩৭ অ্যাসিস্ট। এবারের মৌসুমে ইতালিয়ান ক্লাব নেপোলির হয়ে ৫ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন।

বিশ্বকাপ ইতিহাস ও ২০২৬-এর 'লাস্ট ড্যান্স'

২০১৪ বিশ্বকাপে তরুণ ডি ব্রুইনার অসাধারণ পারফরম্যান্সে বেলজিয়াম কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। তবে ক্যারিয়ারের সেরা বিশ্বকাপ ছিল ২০১৮ বিশ্বকাপ। কোয়ার্টার ফাইনালে অন্যতম শিরোপা দাবিদার ব্রাজিলের বিপক্ষে তাঁর দূরপাল্লার গোলে সেমিফাইনালে পৌঁছায় বেলজিয়াম। ওই আসরে বেলজিয়াম তৃতীয় স্থান লাভ করেছিল।

২০২৬ বিশ্বকাপ ডি ব্রুইনার ক্যারিয়ারের চতুর্থ এবং নিশ্চিতভাবেই শেষ বিশ্বকাপ। ইডেন হ্যাজার্ডদের মতো তারকাদের বিদায়ের পর বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের শেষ কাণ্ডারি হিসেবে এখন একঝাঁক তরুণের মেন্টর ও অধিনায়ক তিনি।

ফুটবল ট্রিভিয়া

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে কম ম্যাচ খেলে ১০০ অ্যাসিস্ট পূরণের রেকর্ড ডি ব্রুইনার দখলে। মাত্র ২৩৭ ম্যাচ খেলে এই মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।

সম্পর্কিত