ad

মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জনের ইংল্যান্ডের জয়

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

গোলের পর কেইন-বেলিংহেমের উদযাপন। সংগৃহীত ছবি

বৈরী আবহাওয়ায় ম্যাচের শুরুতেই এক ঘণ্টা দেরি, গ্যালারিতে মেক্সিকান সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার, ইংল্যান্ড দলে লাল কার্ডের ধাক্কায় ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া—সব প্রতিকূলতাকে ছাপিয়ে শেষ ষোলতে ইংল্যান্ড। মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে থমাস টুখেলের শিষ্যরা।

সোমবার (৬ জুলাই) মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা প্রথমবারের আজতেকায় বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ হারল মেক্সিকো। আর এই মেক্সিকোর দুর্গে ইংল্যান্ডের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। অন্য গোলটি আসে কেইনের পেনাল্টি থেকে। অন্যদিকে মেক্সিকোর পক্ষে গোল দুটি করেন হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেস।

ম্যাচের শুরু থেকেই আজতেকার সেই সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২২০০ মিটারের স্টেডিয়ামের চেনা কন্ডিশনে চড়াও হয়ে খেলতে থাকে মেক্সিকো। তবে ম্যাচের গতিপথ পাল্টে যায় ৩৬ মিনিটে। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে থ্রি-লাইন্সদের এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার জুড বেলিংহাম। এরই মধ্যমে প্রথমবারের মতো চলতি বিশ্বকাপে কোন গোল হজম করে মেক্সিকো। কিন্তু প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক দুই মিনিট পর ৩৮ মিনিটে আবারও মেক্সিকান রক্ষণভাগকে স্তব্ধ করে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। ২-০ তে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি স্বাগতিক মেক্সিকো, দমবেই বা কেন, এ মাঠে তো তারা আগে হারেনি কখনো। বিরতির ঠিক আগে ৪২ মিনিটে হুলিয়ান কিনোনেস গোল করে স্টেডিয়ামে প্রাণ ফিরিয়ে এনে ব্যবধান কমিয়ে করেন ২-১। ২-১ এ পিছিয়ে মেক্সিকো বিরতিতে যায়।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা যেনো রূপ নেয় চরমে। ম্যাচের এক মেক্সিকোর হেসুস গায়ার্দোকে ফাউল করে পর্যায়ে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ইংলিশ রাইট ব্যাক জারেল কোয়ানসাহ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া ইংল্যান্ডের ওপর একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে মেক্সিকো। তবে ৬০ মিনিটে গত ম্যাচের জোড়া অ্যাসিস্ট করা গর্ডনকে বক্সে গোলকিপার রানহেল ফাউল করলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। এটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে ষষ্ঠ ও বিশ্বকাপে কেইনের ১৪ তম গোল।

ম্যাচ তখনো শেষ হয়নি; ৯ মিনিট আগেই গোল করা কেইনের করা ফাউলে পেনাল্টি পায় মেক্সিকো। ৬৯ মিনিটে মেক্সিকোর পক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান ২-৩ করেন ফরওয়ার্ড রাউল হিমেনেস। এরপর শুরু হয় মেক্সিকোর একের পর এক আক্রমণ আর ১০ জনের ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ ও যেনো করতে থাকে সব অতিমানবীয় প্রতিরোধ। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা সময় দেওয়া হয় রেকর্ড ১১ মিনিট! তখন যেনো মনে হচ্ছিল ইংল্যান্ড হয়তো গোল হজম করে বসবে। শেষ মুহূর্তের যোগ করা সময়ে নিকো ও’রাইলির অবিশ্বাস্য কিছু ক্লিয়ারেন্স এবং গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়ে ইউরোপের প্রতিনিধিরা।

এই ম্যাচে মাত্র ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল ইংল্যান্ড, যা ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর বিশ্বকাপে তাদের সর্বনিম্ন বল পজিশন। এই মহাকাব্যিক জয়ের পর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। আর ঘরের মাঠে দারুণ খেলেও শেষ ষোলোতেই থামল মেক্সিকোর বিশ্বকাপ যাত্রা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত