ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত ৩ হাজার ছাড়াল, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৬, ১০: ৪৩
আধুনিক ভারী উদ্ধারযন্ত্রের অভাবে শাবল, কোদাল ও বালতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ছবি : রয়টার্স

ভেনেজুয়েলায় গত ২৪ জুনের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় সরকারের ধীরগতির ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশে কোনো সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে না বলে দাবি করেছেন দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।

রোববার দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৪২ জনে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত ১৬ হাজার ৭০০ জন। এখনো নিখোঁজ প্রায় ৪১ হাজার মানুষ।

দেশটির স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সামরিক অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জনগণের অসন্তোষের বিষয়টি নাকচ করে বলেন, ‘এখানে কোনো সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে না। আমাদের সমাজে গভীর সংহতি রয়েছে।’ উদ্ধারকাজে হাজারো সরকারি কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মী মাঠে আছেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো পৌঁছানোর আগপর্যন্ত সরকারি তৎপরতা ছিল একেবারেই অপর্যাপ্ত।

লাতিন আমেরিকার সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রলয়ঙ্কারী এই ভূমিকম্পে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু ভবন ধসে পড়ায় গৃহহীন হয়েছেন হাজারো মানুষ।

বাড়ছে গণকবরের শঙ্কা

এদিকে নিহতদের স্বজনেরা মরদেহ শনাক্ত ও দাফন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। হাসপাতাল ও মর্গগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। এর ওপর যোগ হয়েছে দাফনের আকাশচুম্বী খরচ, যা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

৪৫ বছর বয়সী ফরেনসিক প্রযুক্তিবিদ জোয়েল মিরাবাল বলেন, অনেক মরদেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গেছে যে পরিচয় নিশ্চিত করতে স্বজনদের ট্যাটু, দাগ বা পোশাকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

তিনি জানান, যেসব মরদেহ শনাক্ত করা যাচ্ছে না, সেগুলো সাময়িকভাবে লা গুয়াইরা বন্দরে অস্থায়ী শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে রাখা হচ্ছে। তবে মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাতে শেষ পর্যন্ত গণকবর তৈরি করা ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না। ধ্বংসস্তূপ থেকে সব মরদেহ পুরোপুরি উদ্ধার করতে আরও প্রায় তিন মাস সময় লেগে যেতে পারে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Ad 300x250

সম্পর্কিত