
ফুটবল মাঠে দর্শকরা দেখতে চান গতির ঝলক। উইং দিয়ে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়ার দৃশ্য সবার নজর কাড়ে। ফুটবলে এমন জাদুকরী মুহূর্ত তৈরিতে যারা পারদর্শী দর্শকদের কাছে তাদের কদর বেশি। গত এক দশক ধরে বিশ্ব ফুটবলে এমন খেলোয়াড়দের কথা উঠলে মোহাম্মদ সালাহর নাম থাকে সবার ওপরে।
সালাহকে ‘দ্য ইজিপশিয়ান কিং’ বা ‘ক্লিনিক্যাল ফিনিশার’ নামে ডাকা হয়। রাইট উইং থেকে তিনি চোখের পলকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইন ভেঙে দিতে পারেন। এরপর বক্সে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশিং করেন। শুধু গোল করা নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোতে সমান পারদর্শী। মাঠের ডান প্রান্ত থেকে ডিফেন্ডারদের কাটিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের ট্রেডমার্ক কার্লিং শটগুলো প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুঃস্বপ্ন।
৩৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ সালাহ মূলত রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলেন। জাতীয় দল ও ক্লাব উভয় জায়গাতেই ১১ নম্বর জার্সি তাঁর ট্রেডমার্ক। বর্তমানে তিনি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পরাশক্তি লিভারপুলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন। এর আগে তিনি সুইজারল্যান্ডের বাসেল এবং ইংল্যান্ডের চেলসির হয়েও খেলেছেন। ইতালির ঘরোয়া লিগে ফিওরেন্টিনা ও রোমার জার্সিতেও আলো ছড়িয়েছেন।

লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের ভাষায়, সালাহ গোল করা খুব সহজ বানিয়ে নেন। শুধু বিশ্বমানের স্ট্রাইকার বা উইঙ্গার নয়, বরং জীবন্ত কিংবদন্তি। যেকোনো মুহূর্তে একা হাতে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে পারেন।
ট্রফি ক্যাবিনেট, অর্জন ও পরিসংখ্যান
সালাহর নৈপুণ্যে দীর্ঘ ৩০ বছরের খরা কাটিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতে লিভারপুল। অলরেডদের হয়ে ২০১৮-১৯ মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেন। ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ এবং উয়েফা সুপার কাপ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় তিনি দুইবার প্রফেশনাল ফুটবলারস অ্যাসোসিয়েশনের প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জিতেছেন। রেকর্ড তিনবার তিনি প্রিমিয়ার লিগের সম্মানজনক গোল্ডেন বুট জয় করেন। এছাড়া দুইবার আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন। ফিফার পুসকাস অ্যাওয়ার্ড এবং ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের গোল্ডেন বল জেতার গৌরবও রয়েছে।
সালাহর নৈপুণ্যেই মিসর দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে মিসরকে নিয়ে যাওয়ার মূল কারিগর ছিলেন। জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ঝুলিতে ৬৫-এর বেশি গোল রয়েছে। মিসরের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা।

লিভারপুলের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনি ২৫৭টির বেশি গোল করেছেন। পাশাপাশি ১২২ গোলে সহায়তা বা অ্যাসিস্ট করেছেন। লিভারপুলের ইতিহাসে প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
ইতালিয়ান ক্লাব এএস রোমার হয়ে তিনি ৩৪ গোল এবং ২১ অ্যাসিস্ট করেছিলেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাস ও ২০২৬ আসরের লাস্ট ড্যান্স
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সালাহ কাঁধের গুরুতর ইনজুরিতে ভুগছিলেন। সম্পূর্ণ ফিট না হয়েও দেশের জন্য নিজের সেরাটা দিয়ে লড়েছিলেন। মিসরের বিদায়ের আগে গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে করেছিলেন দুই গোল। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের শেষ মুহূর্তে সেনেগালের কাছে হেরে যায় মিসর। পেনাল্টি শুটআউটের ওই হারের কারণে মিসর কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়। ফলে বিশ্বমঞ্চ সালাহর জাদু দেখা থেকে বঞ্চিত হয়।
২০২৬ বিশ্বকাপ সালাহর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। নিশ্চিতভাবেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এই আসর। আফ্রিকান ফুটবলের এই গ্লোবাল সুপারস্টার এখন মিসরের একঝাঁক তরুণের প্রধান মেন্টর ও অধিনায়ক। ২০২৬ সালের এই মেগা মঞ্চ হতে যাচ্ছে দ্য ইজিপশিয়ান কিংয়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়।
ফুটবল ট্রিভিয়া
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা আফ্রিকান খেলোয়াড় মোহাম্মদ সালাহ। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে দ্রুততম হ্যাটট্রিক করার রেকর্ডটিও সালাহর দখলে।
.png)




-3c3626-256x144.webp)

