প্রিয় পতাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত এই পতাকার রং কী বলে আমাদেরপ্রিয় পতাকা: মহান মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত এই পতাকার রং কী বলে আমাদের
অপারেশন ওমেগার দুঃসাহসী গল্প১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পূর্ব বাংলায় গণহত্যা চালাচ্ছিল, তখন আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থা কিংবা বিদেশি সাংবাদিকদেরও প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। ঠিক সে সময় লন্ডনের কয়েকজন তরুণ-তরুণী সিদ্ধান্ত নেন, ত্রাণ নিয়ে সীমান্ত ভেঙে বাংলাদেশে ঢোকার। এ দুঃসাহসী মানবিক অভিযানই ইতিহাসে পরিচিত অপারেশন ওমেগা নামে।
মুক্তিযুদ্ধ, মওলানা ভাসানী ও মাও সেতুংআজ মওলানা ভাসানীর জন্মদিন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পরপরই ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল মওলানা ভাসানী চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সেতুং, প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের কাছে অত্যন্ত আবেগময় ও যুক্তিপূর্ণ বার্তা পাঠান। এই বার্তাগুলোর উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বনেতাদের কাছে পাকিস্তান
মুক্তিযুদ্ধের অনন্য বন্ধু–আদ্রে মালরোআদ্রে মালরো ছিলেন ফরাসি লেখক, প্রত্নতত্ত্ববিদ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদ—যিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ফ্রান্সে বাংলাদেশের পক্ষে সাংস্কৃতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণা ‘আমাকে একটি যুদ্ধবিমান দাও’ আন্তর্জাতিক সমাজকে নাড়া দেয় এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বিরল সমর্থন যোগায়।
জেনারেল যখন নিজেই ধর্ষক: বাংকারের অন্ধকূপে নারী নির্যাতনের গোপন দলিল১৯৭১ সালের রণক্ষেত্র। চারদিকে লুটপাট আর নারী নির্যাতনের মহোৎসব। সাধারণ সৈনিকরা নিজেদের মধ্যে ফিসফিস করে কথা বলছে। তাদেরই একজন প্রশ্ন তুলল— ‘আমাদের কমান্ডার (জেনারেল নিয়াজী) নিজেই তো একজন ধর্ষক। তাহলে আমাদের থামাবে কে?’
পাকিস্তানি প্রোপাগান্ডায় আল-বদর: যুদ্ধাপরাধের আত্মস্বীকৃত দলিল১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের প্রাক্কালে, যখন ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর পরাজয় সুনিশ্চিত, ঠিক সেই অন্তিম লগ্নে আল-বদর বাহিনীর নেতারা তাদের চূড়ান্ত বার্তা বা ‘আখেরি খিতাব’ দেন। এই বার্তাটি ছিল বাঙালি জাতির জন্য চরম বিপজ্জনক এক ঘোষণা।
নিয়াজির কলমে রাজাকারদের ‘বীরত্ব’১৯৯৮ সাল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় ২৭ বছর পর, পাকিস্তানের সামরিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন লেফট্যানেন্ট জেনারেল আমীর আবদুল্লাহ খান নিয়াজি। তিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি বাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার।
মুক্তিযুদ্ধে বহুজাতির অবদানমুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির পাশাপাশি অবদান রয়েছে অবাঙালী জাতিগোষ্ঠীরও। ১৯৭১ সালে যখন পাকিস্তানিরা এই ভূখণ্ডে গণহত্যা শুরু করে, তখন সাঁওতাল, চাকমা, মারমাসহ অন্যান্য জাতিসত্তার মানুষ বুঝতে পেরেছিল এই লড়াই কেবল বাঙালিদের নয়, এই লড়াই তাদেরও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
তেলিয়াপাড়া চা-বাগানের ম্যানেজার বাংলোতেই ঠিক হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল১৯৭১ সালের ৪ঠা এপ্রিল সামরিক বাহিনীর বাঙালি কর্মকর্তারা সিলেটের হবিগঞ্জের তেলিয়াপাড়া চা বাগানে এক বৈঠকে মিলিত হন। সেখানেই প্রণীত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল, যা তেলিয়াপাড়া স্ট্র্যাটেজি নামে পরিচিত। অসংগঠিত ও বিচ্ছিন্নভাবে শুরু হওয়া এই যুদ্ধকে সংগঠিতভাবে পরিচালনা করার জন্য তেলিয়াপাড়া বৈঠকের আয়োজন করা
একাত্তরের শরণার্থী শিবির: মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির লড়াই১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের শরণার্থী শিবিরে মানবিক বিপর্যয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে এগিয়ে আসেন মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি। অক্সফামের ‘টেস্টিমোনি অব সিক্সটি’-তে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ শরণার্থী শিবিরে শিশু, নারী, বৃদ্ধ ও আহত মানুষের ভয়াবহ দুর্দশা বিশ্ব বিবেকের সামনে তুলে ধরে।
মুক্তিযুদ্ধে আমাদের নারীরাহলিউডের থ্রিলার সিরিজগুলোতে নারী স্পাই দেখে আমরা খুবই পুলকিত হই। কিন্তু বলতে পারেন বাস্তব জীবনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নারী স্পাই কে ছিলেন? কিংবা কোন নারী মুক্তিযোদ্ধাকে ‘মুক্তি বেটি’ নামে ডাকা হত? মুক্তিযুদ্ধে কোন নারী মুক্তিযোদ্ধার মাথার দাম সে সময়ে এক হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল?
বীরাঙ্গনাদের বন্ধু ডা. জিওফ্রে ডেভিস১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতার পরে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতনের শিকার লক্ষাধিক নারীর পাশে দাঁড়ান অস্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক ডা. জিওফ্রে ডেভিস। WHO-এর অনুরোধে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে এসে তিনি নির্যাতিত নারীদের চিকিৎসা, গর্ভপাত সেবা, পুনর্বাসন এবং চিকিৎসক টিম গড়ে তোলায় অসামান্য ভূমিকা রাখেন।
মুক্তিযুদ্ধে কাদার ভূমিকামুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনায় সাধারণত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, গেরিলা কৌশল কিংবা আধুনিক সমরাস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হলেও প্রকৃতির নীরব অথচ বিধ্বংসী ভূমিকা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়।
স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় ‘কচুরিপানা’ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের ‘অদৃশ্য ঢাল’শুনতে অবাক লাগলেও এমন ঘটনাই ঘটেছে মুক্তিযুদ্ধের সময়। যদিও ইতিহাসের পাতায় কচুরিপানা নিয়ে খুব কমই লেখা হয়েছে, কিন্তু কচুরিপানার অবদান অস্বীকার কোনো উপায় নেই। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেবল বারুদ আর রক্তের ইতিহাস নয়। এটি ছিল বাংলার মাটি, জল ও প্রকৃতির এক সম্মিলিত সংগ্রাম।
বর্ষাকাল ছিল একাত্তরের গেরিলাযোদ্ধা‘আমরা বর্ষার অপেক্ষায় আছি… তাঁরা পানিকে ভয় পায়, আর আমরা হচ্ছি জলের রাজা। প্রকৃতি হবে আমাদের দ্বিতীয় বাহিনী।’ নিউইয়র্ক টাইমসের খ্যাতিমান সাংবাদিক সিডনি শনবার্গের ‘ডেটলাইন বাংলাদেশ’ প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছিলেন এক বাঙালি অফিসার।
একাত্তরে নদী ছিল পাকিস্তানের গলার ফাঁসকলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের দুটি জরাজীর্ণ বোটকে মডিফাই করে বানানো হয় ‘বিএনএস পদ্ম’ ও ‘বিএনএস পলাশ’। এতে বসানো হয় বিমানবিধ্বংসী কামান। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর খুলনায় এই গানবোট দুটির ওপর ভুলবশত মিত্রবাহিনী বিমান হামলা চালায়।
যে প্রতিবেদন বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি১৯৭১ সালের গণহত্যার প্রকৃত চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছিলেন পাকিস্তানি সাংবাদিক অ্যান্থনি মাসকারেনহাস। সামরিক জান্তার নিয়ন্ত্রণে ঘেরা পাকিস্তান থেকে বের হয়ে লন্ডনে গিয়ে তিনি প্রকাশ করেন সেই ঐতিহাসিক রিপোর্ট—“Genocide”।