কাজী নিশাত তাবাসসুম

নব্বই দশক কিংবা দুই হাজার সালের শুরুর প্রজন্ম মানেই বলা হতো হুমায়ূন আহমেদের পাঠক। তখন হাতে হাতে ছিল না স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ছিল সীমিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ছিল না এতো মাতামাতি।
বিকেল মানেই তখন ছিল মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা, সন্ধ্যা মানেই পড়ার টেবিল পড়তে বসা, আর রাত মানেই পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশনের সামনে বসে নাটক দেখা।
শুক্রবারের রাত মানেই ছিল ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’ কিংবা ‘অয়োময়’ দেখার অপেক্ষা। বাকের ভাইয়ের ফাঁসির রায়ে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল। বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে যা এক অনন্য ঘটনা।
বইমেলা ছিল তখন বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আয়োজন। হুমায়ূন আহমেদের নতুন বই প্রকাশের দিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ত। অনেকেই রাত জেগে এক বসায় পুরো উপন্যাস শেষ করতেন। কেউ কেউ লোডশেডিংয়ের রাতে বাসায় কিংবা স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্য বইয়ের মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে গল্পের বই পরতেন, দোকানে দোকানে পছন্দের বইয়ের খোঁজ রাখতেন। এসবই ছিল সেই প্রজন্মের তরুণদের কমবেশি স্মৃতি।
কিন্ত সময় পেরিয়ে এখন চলছে জেন-জি ও জেন-আলফার যুগ। এদের শৈশব শুরু হয় স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপে রিলস, শর্ট ভিডিও, টিকটক, অনলাইন গেম দিয়ে। এই প্রজন্মের বই পড়ার ধৈর্য কিংবা অভ্যাস কোনটিই নেই—এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কথাটি আংশিক সত্য হলেও পুরোপুরি নয়। আজকের জেন-জি যাদের অনেকেই হুমায়ূনের জীবদ্দশায় জন্মই নেয়নি, তারাও ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’, ‘রূপা’ কিংবা ‘বাকের ভাই’কে চেনে। এই চরিত্রগুলোকে নিজের বলে মনে করে।
হুমায়ূন আহমেদকে কীভাবে চেনেন এমন প্রশ্নে গোপালগঞ্জের স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান বলে, ‘খুব একটা বই পড়া বা বই কেনার অভ্যাস নেই আমার। বড় বোনের সংগ্রহে হুমায়ুন আহমেদ, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র, জহির রহয়ান প্রমুখের বই রয়েছে। সেখান থেকেই হুমায়ুন আহমেদকে চেনা। বোনের সংগ্রহের বইগুলোই মূলত পড়া হয়। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের লেখার ভাষা ও কাহিনী সহজ এবং পড়তে ভালো লাগে। সেজন্য তাঁর বই বেশি পড়া হয়।’
হুমায়ুন আহমেদের কোন বইটি সবচেয়ে প্রিয়—জানতে চাইলে সে বলে, ‘এখন পর্যন্ত আগুনের পরশমণি বইটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তাঁর বইয়ের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে বোঝার চেষ্টা করি। যুদ্ধকে ভয় পাওয়া একটি পরিবার কীভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, সেই কাহিনিই সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বইটিতে।’
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কোন চরিত্রটি বেশি ভালো লাগে এবং কোন চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাও এমন প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মেঘলা বলে, ‘আমার পছন্দের চরিত্র মিসির আলি, নিজেকে হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি চরিত্রের সঙ্গে মিল পাই। যেকোনো পরিস্থিতে নিজেকে মিসির আলি মনে করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।
হুমায়ূন আহমেদের বই কেন পড়া উচিত এমন প্রশ্নের উত্তরে মেঘলা বলে, ‘হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের ভাষা সহজ। তাঁর বই পড়ার মাধ্যমে আমরা সহজেই বাংলা সাহিত্য পড়ায় আগ্রহী হয়ে উঠি। মানব জীবনের অনেক কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান আমরা তাঁর বিভিন্ন সাহিত্য হতে পাই যা আমাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করতে পারি এবং সাহিত্য লেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।’
একই প্রশ্ন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা রহমানের কাছে করা হলে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ভাষা। কঠিন কোনো শব্দ বা জটিল বর্ণনা ছাড়াই তিনি এমনভাবে গল্প বলেন যে পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা কঠিন। তার বইয়ে ভালোবাসা, পরিবার, বন্ধুত্ব, হাসি, কষ্ট সবকিছুই খুব বাস্তব আর সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর বই পড়ার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের আরও অনেক লেখক যেমন শরৎচন্দ্র চট্টপ্যাধায়, সমরেশ মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জহির রায়হানের বই পড়ার প্রতি আমাদের আগ্রহ তৈরি হয়।’
সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, পাঠকের বয়স বদলায় কিন্তু সাহিত্যিকের লেখা নতুন করে পাঠকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেয়। হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তিনি শুধু স্মৃতিতে নন, বরং নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস, ভাষা, অনুভূতি এবং কল্পনার ভেতর সমানভাবে বেঁচে আছেন।

নব্বই দশক কিংবা দুই হাজার সালের শুরুর প্রজন্ম মানেই বলা হতো হুমায়ূন আহমেদের পাঠক। তখন হাতে হাতে ছিল না স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ছিল সীমিত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে ছিল না এতো মাতামাতি।
বিকেল মানেই তখন ছিল মাঠে ফুটবল বা ক্রিকেট খেলা, সন্ধ্যা মানেই পড়ার টেবিল পড়তে বসা, আর রাত মানেই পরিবারের সবাই মিলে টেলিভিশনের সামনে বসে নাটক দেখা।
শুক্রবারের রাত মানেই ছিল ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’ কিংবা ‘অয়োময়’ দেখার অপেক্ষা। বাকের ভাইয়ের ফাঁসির রায়ে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল। বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসে যা এক অনন্য ঘটনা।
বইমেলা ছিল তখন বছরের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত আয়োজন। হুমায়ূন আহমেদের নতুন বই প্রকাশের দিন প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ত। অনেকেই রাত জেগে এক বসায় পুরো উপন্যাস শেষ করতেন। কেউ কেউ লোডশেডিংয়ের রাতে বাসায় কিংবা স্কুলে শ্রেণিকক্ষে পাঠ্য বইয়ের মাঝে লুকিয়ে লুকিয়ে গল্পের বই পরতেন, দোকানে দোকানে পছন্দের বইয়ের খোঁজ রাখতেন। এসবই ছিল সেই প্রজন্মের তরুণদের কমবেশি স্মৃতি।
কিন্ত সময় পেরিয়ে এখন চলছে জেন-জি ও জেন-আলফার যুগ। এদের শৈশব শুরু হয় স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপে রিলস, শর্ট ভিডিও, টিকটক, অনলাইন গেম দিয়ে। এই প্রজন্মের বই পড়ার ধৈর্য কিংবা অভ্যাস কোনটিই নেই—এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। কথাটি আংশিক সত্য হলেও পুরোপুরি নয়। আজকের জেন-জি যাদের অনেকেই হুমায়ূনের জীবদ্দশায় জন্মই নেয়নি, তারাও ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’, ‘রূপা’ কিংবা ‘বাকের ভাই’কে চেনে। এই চরিত্রগুলোকে নিজের বলে মনে করে।
হুমায়ূন আহমেদকে কীভাবে চেনেন এমন প্রশ্নে গোপালগঞ্জের স্বর্ণকলি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিসান বলে, ‘খুব একটা বই পড়া বা বই কেনার অভ্যাস নেই আমার। বড় বোনের সংগ্রহে হুমায়ুন আহমেদ, বিভূতিভূষণ, শরৎচন্দ্র, জহির রহয়ান প্রমুখের বই রয়েছে। সেখান থেকেই হুমায়ুন আহমেদকে চেনা। বোনের সংগ্রহের বইগুলোই মূলত পড়া হয়। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের লেখার ভাষা ও কাহিনী সহজ এবং পড়তে ভালো লাগে। সেজন্য তাঁর বই বেশি পড়া হয়।’
হুমায়ুন আহমেদের কোন বইটি সবচেয়ে প্রিয়—জানতে চাইলে সে বলে, ‘এখন পর্যন্ত আগুনের পরশমণি বইটি আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। তাঁর বইয়ের মধ্যে দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোকে বোঝার চেষ্টা করি। যুদ্ধকে ভয় পাওয়া একটি পরিবার কীভাবে একজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে আত্মিক সম্পর্কে জড়িয়ে যায়, সেই কাহিনিই সাবলীলভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বইটিতে।’
হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাসের কোন চরিত্রটি বেশি ভালো লাগে এবং কোন চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পাও এমন প্রশ্নের উত্তরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মেঘলা বলে, ‘আমার পছন্দের চরিত্র মিসির আলি, নিজেকে হুমায়ূন আহমেদের মিসির আলি চরিত্রের সঙ্গে মিল পাই। যেকোনো পরিস্থিতে নিজেকে মিসির আলি মনে করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করি।
হুমায়ূন আহমেদের বই কেন পড়া উচিত এমন প্রশ্নের উত্তরে মেঘলা বলে, ‘হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের ভাষা সহজ। তাঁর বই পড়ার মাধ্যমে আমরা সহজেই বাংলা সাহিত্য পড়ায় আগ্রহী হয়ে উঠি। মানব জীবনের অনেক কাঙ্ক্ষিত জ্ঞান আমরা তাঁর বিভিন্ন সাহিত্য হতে পাই যা আমাদের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করতে পারি এবং সাহিত্য লেখার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠি।’
একই প্রশ্ন কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাজিফা রহমানের কাছে করা হলে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের লেখার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সহজ ভাষা। কঠিন কোনো শব্দ বা জটিল বর্ণনা ছাড়াই তিনি এমনভাবে গল্প বলেন যে পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা কঠিন। তার বইয়ে ভালোবাসা, পরিবার, বন্ধুত্ব, হাসি, কষ্ট সবকিছুই খুব বাস্তব আর সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি। তাঁর বই পড়ার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের আরও অনেক লেখক যেমন শরৎচন্দ্র চট্টপ্যাধায়, সমরেশ মজুমদার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জহির রায়হানের বই পড়ার প্রতি আমাদের আগ্রহ তৈরি হয়।’
সময় বদলায়, প্রজন্ম বদলায়, পাঠকের বয়স বদলায় কিন্তু সাহিত্যিকের লেখা নতুন করে পাঠকের হৃদয়ে ঠাঁই করে নেয়। হুমায়ূন আহমেদ মৃত্যুর এক যুগেরও বেশি সময় পরও তিনি শুধু স্মৃতিতে নন, বরং নতুন প্রজন্মের পাঠাভ্যাস, ভাষা, অনুভূতি এবং কল্পনার ভেতর সমানভাবে বেঁচে আছেন।
.png)

ফরহাদ মজহার কবি, দার্শনিক, রাজনীতি বিশ্লেষকসহ বহুবিধ পরিচয়ে পরিচিত। যাপন থেকে শুরু করে চিন্তা ও তৎপরতায় রাজনীতি, সাহিত্য, দর্শন, কাব্য ও কৃষির উদ্যোগে প্রতিনিয়ত নিজেকেই নিজে অতিক্রম করছেন তিনি। ‘আমাকে তুমি দাঁড় করিয়ে দিয়েছ বিপ্লবের সামনে’, ‘অকস্মাৎ রপ্তানিমুখী নারীমেশিন’, ‘এবাদতনামা’ প্রভৃতি তাঁর উল
১৩ ঘণ্টা আগে
১৪৯২ সালের ২ জানুয়ারি। জিব্রাল্টার প্রণালির পাশ ঘেঁষে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে সিয়েরা নেভাদা পর্বতমালা। এরই পাদদেশের শহর গ্রানাডার আকাশেই অস্ত যায় মুসলিম আন্দালুসের আট শতকের গৌরবময় ইতিহাসের শেষ সূর্য।
০৭ আগস্ট ২০২৬
স্ট্রিম: ‘চিহ্ন’ পত্রিকার ২৫ বছরের যাত্রায় ফিরে তাকালে আপনার সবচেয়ে বড় অর্জন কী বলে মনে হয়? শহীদ ইকবাল: অর্জন তো কোট-আনকোট (‘’)। আমরা কাজের নেশা থেকে কাজ করে যাচ্ছি। নিশ্চয়ই ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আমাদের জার্নিটা একটা প্রভাবশালী শক্তি। সামগ্রিক অবদান তো সেভাবে দেখা যাবে না। তবে বড় অর্জনের
০৭ আগস্ট ২০২৬
‘গতকল্য বৃহস্পতিবার বেলা ১২.১৩ মিঃ সময় বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলিকাতা জোড়াসাঁকোস্থিত বাসভবনে মহাপ্রয়াণ করিয়াছেন। মৃত্যুকালে তাঁহার বয়স ৮০ বৎসর ৩ মাস হইয়াছিল।
০৬ আগস্ট ২০২৬