‘তুমি যে আমার’, ‘নিশি রাত বাঁকা চাঁদ আকাশ’, ‘এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়’, ‘বাবুজি ধীরে চল না’—এমন অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গায়িকা গীতা দত্ত ছিলেন ভারতের নারী ‘সিংগিং-সুপারস্টার’। তবে অনেকেই জানেন না, এই কালজয়ী শিল্পী জন্মেছিলেন বাংলাদেশের ফরিদপুরে। ১৯৭২ সালের এই জুলাই মাসেই তিনি মারা যান। এই লেখায় আমরা তাকিয়েছি তাঁর সংগীতজীবনের দিকে।
মাহমুদ নেওয়াজ জয়

১৯৪২ সালের কথা। মুম্বাইয়ের বাড়ির বারান্দায় বসে গুনগুন করে গান গাইছে ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে। বাড়িটা তাঁদের নিজেদের নয়। গীতা ঘোষ রায়চৌধুরী নামের সেই মেয়েটি জন্মেছিলেন বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুরে, জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ রায়চৌধুরীর ঘরে। ফরিদপুরের জমিদারি হারানোর পর তাঁদের পরিবার আসাম আর কলকাতা ঘুরে মুম্বাইয়ে থিতু হয়েছিল।
মুম্বাইতে রায়চৌধুরী পরিবারের আর্থিক অবস্থা তখন পড়ন্ত। ফরিদপুরে ওস্তাদের কাছে গান শিখলেও মুম্বাই গিয়ে আর গান শেখা হচ্ছে না কিশোরী গীতার। উপায় না পেয়ে নিজের মতো করেই গানের চর্চা করতে লাগলেন। অভিজাত একটি বাড়িতে গানের টিউশনিও পেয়ে গেলেন। কিন্তু নিজেদের আগের আভিজাত্য অটুট নেই বলে তাঁকে সেখানে বসতে হতো মাটিতে৷
গীতা হঠাৎ সংগীত পরিচালক পণ্ডিত হনুমান প্রসাদের নজরে পড়ে গেলেন। শোনা যায়, গীতাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হনুমান প্রসাদ তাঁর গান শুনতে পেয়েছিলেন। হনুমান প্রসাদ গীতার গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সিনেমার প্লেব্যাকে করাবেন বলে মনস্থির করলেন।

১৯৪৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গীতা হনুমান প্রসাদের হাত ধরে ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’ছবিতে প্রথম প্লেব্যাকের সুযোগ পেলেন। যদিও কোরাসে মাত্র দুই লাইন গাইতে পেরেছিলেন। এর পরের বছরই ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় গীতার। এদিকে কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে শচীন দেববর্মন ‘দো ভাই’সিনেমায় মূল শিল্পী হিসেবে গীতাকে গাওয়ার সুযোগ দিলেন। এই ছবিতে 'মেরা সুন্দার স্বপ্না বীত গ্যায়া' গানটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তিনি নিয়মিত হন প্লেব্যাকে।
১৯৫১ সালের কথা। তখন বিখ্যাত পরিচালক গুরু দত্ত তাঁর ‘বাজি’ সিনেমার কাজ করছিলেন। সিনেমায় শচীন দেববর্মনের সুরে গীতা একটি গান গেয়েছিলেন। সেই সূত্রেই মুম্বাইয়ের বিখ্যাত মহালক্ষ্মী স্টুডিওতে গীতার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় গুরু দত্তের। গীতার কণ্ঠের জাদুময়তা আর হরিণী চোখ মুগ্ধ করে গুরুকে। শুরু হয় মন দেওয়া-নেওয়া। খ্যাতির মধ্যগগনে থাকতে থাকতেই ১৯৫৩ সালে গুরু ও গীতার বিয়ে হয়ে গেল।

বিয়ের পর পদবি বদলে গীতা রায় হয়ে গেলেন গীতা দত্ত। এর মধ্যেই ‘আর-পার’ (১৯৫৪) সিনেমার 'বাবুজি ধীরে চালনা', ‘মি. অ্যান্ড মিসেস ফিফটি ফাইভ’ (১৯৫৫) সিনেমার 'ঠান্ডি হাওয়া কালি ঘাটা' গানগুলো গীতাকে আরও খ্যাতি এনে দেয়৷ গভীর কিংবা চপল—দুই ধরনের প্রেমের গানেই তিনি ছিলেন পারঙ্গম।
পাশাপাশি গুরু দত্তের পরিচালনায় 'পিয়াসা' (১৯৫৭), 'কাগজ কে ফুল' (১৯৫৯) সিনেমাগুলোতেও গীতা গান করেছিলেন। ততদিনে সন্তানের মা-ও হয়েছেন। নিজের সিনেমায় নারী অধিকার আর নারীমুক্তির কথা বললেও নিজ জীবনে প্রথাগত চিন্তার বাইরে যেতে পারেননি গুরু। তিনি গীতাকে বলেছিলেন, তাঁর প্রযোজিত সিনেমার বাইরে অন্য কোনো সিনেমায় গান না গাইতে। ফলে তখন লতা মঙ্গেশকরের মতো অত বেশি গান রেকর্ড করা গীতার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।
তবুও অনেকের কাছে তিনিই ছিলেন প্রথম পছন্দ। শচীনকর্তার বাইরেও অনেক সংগীত পরিচালক গীতার কণ্ঠ খুবই পছন্দ করতেন। সব সময়ই তাঁদের প্রথম পছন্দ ছিলেন গীতা। আর নয়তো আশা ভোঁসলে।
একটা সময়ে গীতা দত্ত বাংলা সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিতে থাকেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে 'হারানো সুর' (১৯৫৭) সিনেমার 'তুমি যে আমার', নচিকেতা ঘোষের সুরে 'পৃথিবী আমারে চায়' (১৯৫৭) সিনেমার 'নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে', সুধীন দাশগুপ্তের সুরে 'ডাক-হরকরা' (১৯৫৮) সিনেমার 'কাচের চুড়ির ছটা', অমল মুখোপাধ্যায়ের সুরে 'হসপিটাল' (১৯৬০) সিনেমার 'এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়'—এর মতো গান গীতাকে বাংলা গানের দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে।

এর বাইরেও তিনি 'ঝিরিঝিরি চৈতালী বাতাসে', 'ঝনক ঝনক কনক কাঁকন বাজে', 'নীড় ছোট ক্ষতি নেই (ডুয়েট), 'ওই সুর ভরা দূর নিলীমায়', 'এই মায়াবী তিথি', 'ওগো সুন্দর জানো নাকি', 'আমি শুনেছি তোমারি গান', 'কত গান হারালাম'—এর মতো কালজয়ী সব গান গেয়েছেন।
তবে সুরের মূর্ছনায় জগত ভাসিয়ে দিলেও গীতার ব্যক্তিগত জীবনে চলছিল টানাপোড়েন। 'পিয়াসা' (১৯৫৭) সিনেমার সময় থেকেই গুরু দত্ত ওয়াহিদা রেহমানের ঘনিষ্ট হয়ে উঠতে থাকেন। 'কাগজ কে ফুল' (১৯৫৯) সিনেমার কাজ চলার সময়ে সেই ঘনিষ্ঠতা আরো গাঢ় হয়৷ গীতা এটা কিছুতেই মানতে পারেননি। বিচ্ছেদ না হলেও সন্তানসহ গীতা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এই মানসিক কষ্টের প্রভাব পড়েছিল তাঁর ক্যারিয়ারেও।
১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে গুরু দত্ত মারা যান। তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায় নিজের ঘরে। শোনা যায়, ওয়াহিদা রেহমানের কারণেই ‘আত্মহত্যা’ করেন গুরু দত্ত। গুরুর আকস্মিক মৃত্যুর পর গীতা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। প্রায় এক বছর তিনি কাউকেই চিনতে পারতেন না। মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় গুরু দত্ত নাকি সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। সেদিন গীতা রাজি হননি। এই অপরাধবোধ তাঁকে পাগলপ্রায় করে তোলে। তিনি পানাসক্ত হয়ে পড়েন।

শোক কিছুটা কাটিয়ে উঠলে সন্তানদের কথা ভেবে গীতা আবার ক্যারিয়ারে ফেরার চেষ্টা করেন। কমল দাশগুপ্তের সুরে ‘বধূবরণ’ (১৯৬৭) সিনেমায় গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ও করেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সহায়তায় একসঙ্গে কলকাতায় বেশ কিছু গানের অনুষ্ঠানও করেছিলেন। এরপর করেছিলেন কিছু একক সংগীতানুষ্ঠান।
তবে মদ্যপানে গীতার স্বাস্থ্য ভেঙে গিয়েছিল। তিনি আক্রান্ত হন লিভার সিরোসিসে। নাকেমুখে নল গোঁজা থাকত। কখনও কান বা নাক দিয়ে রক্তও বের হতো। ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই, সেদিন সুরময়ী গীতা পরপারে পাড়ি জমালেন। তবে গীতাকে হারালেও তাঁর গানকে আমরা হারাইনি। 'কত গান হারালাম'-এর গীতা আজও তাঁর গান নিয়ে রাজত্ব করছেন সংগীত অনুরাগীদের মনের মণিকোঠায়।

১৯৪২ সালের কথা। মুম্বাইয়ের বাড়ির বারান্দায় বসে গুনগুন করে গান গাইছে ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে। বাড়িটা তাঁদের নিজেদের নয়। গীতা ঘোষ রায়চৌধুরী নামের সেই মেয়েটি জন্মেছিলেন বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুরে, জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঘোষ রায়চৌধুরীর ঘরে। ফরিদপুরের জমিদারি হারানোর পর তাঁদের পরিবার আসাম আর কলকাতা ঘুরে মুম্বাইয়ে থিতু হয়েছিল।
মুম্বাইতে রায়চৌধুরী পরিবারের আর্থিক অবস্থা তখন পড়ন্ত। ফরিদপুরে ওস্তাদের কাছে গান শিখলেও মুম্বাই গিয়ে আর গান শেখা হচ্ছে না কিশোরী গীতার। উপায় না পেয়ে নিজের মতো করেই গানের চর্চা করতে লাগলেন। অভিজাত একটি বাড়িতে গানের টিউশনিও পেয়ে গেলেন। কিন্তু নিজেদের আগের আভিজাত্য অটুট নেই বলে তাঁকে সেখানে বসতে হতো মাটিতে৷
গীতা হঠাৎ সংগীত পরিচালক পণ্ডিত হনুমান প্রসাদের নজরে পড়ে গেলেন। শোনা যায়, গীতাদের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হনুমান প্রসাদ তাঁর গান শুনতে পেয়েছিলেন। হনুমান প্রসাদ গীতার গানে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে সিনেমার প্লেব্যাকে করাবেন বলে মনস্থির করলেন।

১৯৪৬ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে গীতা হনুমান প্রসাদের হাত ধরে ‘ভক্ত প্রহ্লাদ’ছবিতে প্রথম প্লেব্যাকের সুযোগ পেলেন। যদিও কোরাসে মাত্র দুই লাইন গাইতে পেরেছিলেন। এর পরের বছরই ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে যায় গীতার। এদিকে কণ্ঠে মুগ্ধ হয়ে শচীন দেববর্মন ‘দো ভাই’সিনেমায় মূল শিল্পী হিসেবে গীতাকে গাওয়ার সুযোগ দিলেন। এই ছবিতে 'মেরা সুন্দার স্বপ্না বীত গ্যায়া' গানটি তাঁকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। এরপর তিনি নিয়মিত হন প্লেব্যাকে।
১৯৫১ সালের কথা। তখন বিখ্যাত পরিচালক গুরু দত্ত তাঁর ‘বাজি’ সিনেমার কাজ করছিলেন। সিনেমায় শচীন দেববর্মনের সুরে গীতা একটি গান গেয়েছিলেন। সেই সূত্রেই মুম্বাইয়ের বিখ্যাত মহালক্ষ্মী স্টুডিওতে গীতার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় গুরু দত্তের। গীতার কণ্ঠের জাদুময়তা আর হরিণী চোখ মুগ্ধ করে গুরুকে। শুরু হয় মন দেওয়া-নেওয়া। খ্যাতির মধ্যগগনে থাকতে থাকতেই ১৯৫৩ সালে গুরু ও গীতার বিয়ে হয়ে গেল।

বিয়ের পর পদবি বদলে গীতা রায় হয়ে গেলেন গীতা দত্ত। এর মধ্যেই ‘আর-পার’ (১৯৫৪) সিনেমার 'বাবুজি ধীরে চালনা', ‘মি. অ্যান্ড মিসেস ফিফটি ফাইভ’ (১৯৫৫) সিনেমার 'ঠান্ডি হাওয়া কালি ঘাটা' গানগুলো গীতাকে আরও খ্যাতি এনে দেয়৷ গভীর কিংবা চপল—দুই ধরনের প্রেমের গানেই তিনি ছিলেন পারঙ্গম।
পাশাপাশি গুরু দত্তের পরিচালনায় 'পিয়াসা' (১৯৫৭), 'কাগজ কে ফুল' (১৯৫৯) সিনেমাগুলোতেও গীতা গান করেছিলেন। ততদিনে সন্তানের মা-ও হয়েছেন। নিজের সিনেমায় নারী অধিকার আর নারীমুক্তির কথা বললেও নিজ জীবনে প্রথাগত চিন্তার বাইরে যেতে পারেননি গুরু। তিনি গীতাকে বলেছিলেন, তাঁর প্রযোজিত সিনেমার বাইরে অন্য কোনো সিনেমায় গান না গাইতে। ফলে তখন লতা মঙ্গেশকরের মতো অত বেশি গান রেকর্ড করা গীতার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না।
তবুও অনেকের কাছে তিনিই ছিলেন প্রথম পছন্দ। শচীনকর্তার বাইরেও অনেক সংগীত পরিচালক গীতার কণ্ঠ খুবই পছন্দ করতেন। সব সময়ই তাঁদের প্রথম পছন্দ ছিলেন গীতা। আর নয়তো আশা ভোঁসলে।
একটা সময়ে গীতা দত্ত বাংলা সিনেমার গানেও কণ্ঠ দিতে থাকেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে 'হারানো সুর' (১৯৫৭) সিনেমার 'তুমি যে আমার', নচিকেতা ঘোষের সুরে 'পৃথিবী আমারে চায়' (১৯৫৭) সিনেমার 'নিশিরাত বাঁকা চাঁদ আকাশে', সুধীন দাশগুপ্তের সুরে 'ডাক-হরকরা' (১৯৫৮) সিনেমার 'কাচের চুড়ির ছটা', অমল মুখোপাধ্যায়ের সুরে 'হসপিটাল' (১৯৬০) সিনেমার 'এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যায়'—এর মতো গান গীতাকে বাংলা গানের দুনিয়ায় ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তোলে।

এর বাইরেও তিনি 'ঝিরিঝিরি চৈতালী বাতাসে', 'ঝনক ঝনক কনক কাঁকন বাজে', 'নীড় ছোট ক্ষতি নেই (ডুয়েট), 'ওই সুর ভরা দূর নিলীমায়', 'এই মায়াবী তিথি', 'ওগো সুন্দর জানো নাকি', 'আমি শুনেছি তোমারি গান', 'কত গান হারালাম'—এর মতো কালজয়ী সব গান গেয়েছেন।
তবে সুরের মূর্ছনায় জগত ভাসিয়ে দিলেও গীতার ব্যক্তিগত জীবনে চলছিল টানাপোড়েন। 'পিয়াসা' (১৯৫৭) সিনেমার সময় থেকেই গুরু দত্ত ওয়াহিদা রেহমানের ঘনিষ্ট হয়ে উঠতে থাকেন। 'কাগজ কে ফুল' (১৯৫৯) সিনেমার কাজ চলার সময়ে সেই ঘনিষ্ঠতা আরো গাঢ় হয়৷ গীতা এটা কিছুতেই মানতে পারেননি। বিচ্ছেদ না হলেও সন্তানসহ গীতা আলাদা থাকতে শুরু করেন। এই মানসিক কষ্টের প্রভাব পড়েছিল তাঁর ক্যারিয়ারেও।
১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে গুরু দত্ত মারা যান। তাঁর নিথর দেহ পাওয়া যায় নিজের ঘরে। শোনা যায়, ওয়াহিদা রেহমানের কারণেই ‘আত্মহত্যা’ করেন গুরু দত্ত। গুরুর আকস্মিক মৃত্যুর পর গীতা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। প্রায় এক বছর তিনি কাউকেই চিনতে পারতেন না। মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় গুরু দত্ত নাকি সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। সেদিন গীতা রাজি হননি। এই অপরাধবোধ তাঁকে পাগলপ্রায় করে তোলে। তিনি পানাসক্ত হয়ে পড়েন।

শোক কিছুটা কাটিয়ে উঠলে সন্তানদের কথা ভেবে গীতা আবার ক্যারিয়ারে ফেরার চেষ্টা করেন। কমল দাশগুপ্তের সুরে ‘বধূবরণ’ (১৯৬৭) সিনেমায় গান গাওয়ার পাশাপাশি অভিনয়ও করেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সহায়তায় একসঙ্গে কলকাতায় বেশ কিছু গানের অনুষ্ঠানও করেছিলেন। এরপর করেছিলেন কিছু একক সংগীতানুষ্ঠান।
তবে মদ্যপানে গীতার স্বাস্থ্য ভেঙে গিয়েছিল। তিনি আক্রান্ত হন লিভার সিরোসিসে। নাকেমুখে নল গোঁজা থাকত। কখনও কান বা নাক দিয়ে রক্তও বের হতো। ১৯৭২ সালের ২০ জুলাই, সেদিন সুরময়ী গীতা পরপারে পাড়ি জমালেন। তবে গীতাকে হারালেও তাঁর গানকে আমরা হারাইনি। 'কত গান হারালাম'-এর গীতা আজও তাঁর গান নিয়ে রাজত্ব করছেন সংগীত অনুরাগীদের মনের মণিকোঠায়।

অগ্নিঝরা মার্চ চলছে। এই মাস যেমন বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জনের স্মারক, তেমনি তা পাকিস্তানি হানাদারদের চরম পৈশাচিকতারও সাক্ষী। ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনী মেতে উঠেছিল এক সুপরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের সেই বর্বরোচিত আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু কেবল সম্মুখ সমরের যোদ্ধা বা রাজনৈতিক কর্মীরাই ছিল এমন নয়। বহু মান
১ ঘণ্টা আগে
অগ্নিঝরা মার্চের শুরু। এই মাস আমাদের জাতীয় জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনের সূচনালগ্ন। আবার সেই সাথে শোক ও দহনের স্মৃতিবাহক। ১৯৭১ সালের মার্চে বাংলার মানুষ যখন স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর, ঠিক তখন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এক পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞে। তাদের এই পাশবিকতার সবচেয়ে করুণ আখ্যানটি সম্ভবত হলো
১ ঘণ্টা আগে
শীতের রুক্ষ দিনগুলো শেষ। প্রকৃতি এখন নতুন প্রাণের স্পন্দনে জেগে উঠছে। আর এই ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে মৌলভীবাজারের পথে-প্রান্তরে ফুটেছে চিরচেনা ‘ভাঁটফুল’। গ্রামীণ মেঠোপথ, সড়কের ধার কিংবা নদী-খালের পাড়—যেদিকেই তাকানো যায়, সাদা আর হালকা বেগুনি রঙের থোকা থোকা ভাঁটফুলে যেন প্রকৃতি সেজেছে।
২ ঘণ্টা আগে
আজ মার্চের প্রথম দিন। বসন্তের দখিনা হাওয়ার সঙ্গে আজ মিশে আছে এক বিশেষ গর্ব আর বিষাদমাখা ইতিহাস। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে এই মার্চ মাসেই বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শিকল ভাঙার চূড়ান্ত সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। আজ সেই ‘অগ্নিঝরা মার্চের’ প্রথম দিন।
৩ ঘণ্টা আগে