জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ঈদের দাওয়াতে অতিরিক্ত খাওয়া এড়াবেন যেভাবে

অনেকে এই পরিস্থিতি এড়াতে মিথ্যা অজুহাত দেন, যা নৈতিকভাবে ঠিক নয়। সামাজিকতা বজায় রেখে কীভাবে অতিরিক্ত খাবারকে ‘না’ বলবেন, তার সাত কৌশল জেনে নিন চটজলদি। এর ফলে আপনার সামাজিকতাও বজায় থাকবে, আবার স্বাস্থ্য নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকবে না।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২১ মার্চ ২০২৬, ২১: ১৮
ঈদের দাওয়াতে অতিরিক্ত খাওয়া এড়াবেন যেভাবে। স্ট্রিম গ্রাফিক

পবিত্র রমজানের দীর্ঘ এক মাস সংযম পালনের পরে আসে আনন্দের ঈদুল ফিতর। আর ঈদ মানেই পবিবার, বন্ধু ও পরিজনের সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ আর সেই সঙ্গে ভুরিভোজ। বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে আতিথেয়তা মানেই সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন সুখাদ্যের সমাহার।

আর আয়োজকের মন রক্ষা করতে দিয়ে আমরা অনেক সময়ই সাধ্যের চেয়েও বেশি খেয়ে ফেলি। দীর্ঘ একমাসের রোজার পরে হুট করেই অতিরিক্ত খাবার খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ি।

অনেকে এই পরিস্থিতি এড়াতে মিথ্যা অজুহাত দেন, যা নৈতিকভাবে ঠিক নয়। সামাজিকতা বজায় রেখে কীভাবে অতিরিক্ত খাবারকে ‘না’ বলবেন, তার সাত কৌশল জেনে নিন চটজলদি। এর ফলে আপনার সামাজিকতাও বজায় থাকবে, আবার স্বাস্থ্য নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকবে না।

১. দাওয়াতের আগেই ‘প্রি-লোডিং’ করুন

খালি পেটে দাওয়াতে যাওয়া সবচেয়ে বড় ভুল। ভারতীয় পুষ্টিবিদ রুজুতা দিওয়েকারের মতে, একদম খালি পেটে সুস্বাদু খাবারের সামনে গেলে আমাদের মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তাই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে এক বাটি সালাদ যেমন এক বাটি শসা বা ফল, যেমন একটি পেয়ারা খেয়ে নিন। একে বলা হয় ‘প্রি-লোডিং’।

ঈদের পরদিন থেকেই প্রচুর পানি খাওয়া এবং হাঁটাচলার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। যদি কোনো দাওয়াতে একটু বেশি খাওয়া হয়েও যায়, তবে পরবর্তী খাবারে হালকা কিছু, যেমন টকদই বা সালাদ খেয়ে ভারসাম্য বজায় রাখুন।

এতে আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকবে এবং দাওয়াতের টেবিলে গিয়ে ক্ষুধার তাড়নায় অতিরিক্ত বিরিয়ানি বা মিষ্টি খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমবে। আপনি সত্যভাবেই বলতে পারবেন, ‘আমার পেট অর্ধেক ভরা আছে, তাই অল্প দিলেই চলবে’।

২. কোন খাবারটি কখন খাবেন তা ঠিক করুন

খাবারের টেবিলে বসার পর প্রথমেই পোলাও বা বিরিয়ানি না নিয়ে প্লেটের অর্ধেকটা সালাদ, রায়তা বা সবজি দিয়ে সাজিয়ে নিন। এরপরেই আমিষে, যেমন গ্রিল করা কাবাব বা রোস্টের দিকে মনোযোগ দিন। ফাইবার ও আমিষ জাতীয় খাবার আমাদের পেটকে দীর্ঘক্ষণ ভরিয়ে রাখে ও মনকে খাবারের তৃপ্তির অনুভূতি দেয়। ফলে শর্করা জাতীয় খাসবারের প্রতি আগ্রহ এমনিই কমে যায়।

এতে আপনি দাওয়াতের মেইন ডিশ খেয়েই তৃপ্ত বোধ করবেন এবং আয়োজককে বলতে পারবেন যে আপনি যথেষ্ট পরিমাণে খেয়েছেন।

৩. ২০ মিনিটের জাদুকরী নিয়ম

বিজ্ঞান বলে, পাকস্থলী পূর্ণ হওয়ার সংকেত মস্তিষ্কে পৌঁছাতে অন্তত ২০ মিনিট সময় লাগে। আমরা যখন গল্প করতে করতে খুব দ্রুত খাই, তখন মস্তিষ্ক সংকেত দেওয়ার আগেই আমরা অতিরিক্ত খেয়ে ফেলি।

এ থেকে বাঁচতে প্রতিটি লোকমা অন্তত ২০-৩০ বার চিবিয়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন। ধীরগতিতে খেলে আপনার প্লেট দীর্ঘক্ষণ পূর্ণ থাকবে, ফলে হোস্ট আপনাকে নতুন করে খাবার দেওয়ার সুযোগ কম পাবেন। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি তারিয়ে তারিয়ে আপনার রান্নার স্বাদ নিচ্ছি, তাড়াহুড়ো করতে চাই না’।

৪. ‘না’ বলার সৎ ও বিনয়ী ভঙ্গি

মিথ্যা প্রশংসা বা অসুস্থতার অজুহাত না দিয়ে নিজের শরীরের অবস্থার কথা স্পষ্টভাবে বলুন। আপনি বলতে পারেন, ‘আপনার এই আইটেমটি সত্যি দারুণ হয়েছে, তবে আমার শরীর এখন আর খাবার গ্রহণ করার অবস্থায় নেই’। একজন সচেতন মানুষের কাছে এমন উত্তর অত্যন্ত সম্মানজনক ও যৌক্তিক।

৫. পানীয় বা লিকুইড ক্যালরির ফাঁদ

ঈদের দাওয়াতে আমরা যে শুধুমাত্র সলিড খাবারই খাই না, একইসঙ্গে কোল্ড ড্রিংকস বা শরবত খেয়ে প্রচুর ক্যালরি গ্রহণ করি। হেলথ কোচদের পরামর্শ হলো, খাবারের মাঝখানে বা শেষে চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। বরং বেছে নিন পানি বা চিনিছাড়া লাল চা।

হাতে পানির গ্লাস বা চায়ের কাপ থাকলে অবচেতনভাবেই আপনি অন্য খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকবেন এবং হোস্টের মনে হবে আপনার আপ্যায়ন চলছে।

৬. ‘ওয়ান বাইট’ রুল এবং ছোট প্লেট

যদি কোনো মিষ্টি বা স্পেশাল ডিশ আপনি একেবারেই না বলতে না পারেন, তবে ‘ওয়ান বাইট রুল’ অনুসরণ করুন। অর্থাৎ, খুব সামান্য এক কামড় বা এক চামচ চেখে দেখুন। এতে স্বাদের তৃষ্ণা মিটবে, আয়োজকের মনও রক্ষা হবে। আর সম্ভব হলে ছোট প্লেট বেছে নিন। ছোট প্লেটে অল্প খাবারও অনেক দেখায়, যা আয়োজকের চোখকে আশ্বস্ত করে যে আপনি কম খাচ্ছেন না।

৭. খাবারের চেয়ে আড্ডায় মনোযোগ দিন

মনে রাখবেন, ঈদের দাওয়াতের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু খাওয়াদাওয়া নয়, বরং স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানো। প্লেটের খাবারের দিকে মনোযোগ না দিয়ে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা আড্ডায় বেশি অংশ নিন।

আপনি যখন কথা বলবেন, তখন আপনার খাওয়া এমনিতেই কমে আসবে। আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে আয়োজকের দাওয়াতের রুচির প্রশংসা করতে পারেন। এতে খাবারের ঘাটতিটুকু আপনার চমৎকার ব্যবহার ও আলাপচারিতা দিয়ে পূর্ণ হয়ে যাবে।

বাড়তি টিপস

ঈদের পরদিন থেকেই প্রচুর পানি খাওয়া এবং হাঁটাচলার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। যদি কোনো দাওয়াতে একটু বেশি খাওয়া হয়েও যায়, তবে পরবর্তী খাবারে হালকা কিছু, যেমন টকদই বা সালাদ খেয়ে ভারসাম্য বজায় রাখুন।

আর মনে রাখবেন, একদিন একটু বেশি খাওয়া হলে গেলেই যে স্বাস্থ্যের খুব ক্ষতি হয়ে যাবে তা নয়। বরং পরদিন একটু ব্যায়াম বা দৌড়ঝাঁপ করে ঝরিয়ে ফেলুন অতিরিক্ত ক্যালরি। পরিচ্ছন্ন খাদ্যাভ্যাস এবং পরিমিতিবোধই হোক আপনার সুস্থ ঈদের মূলমন্ত্র। ঈদ মোবারক!

সম্পর্কিত