সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ট্রেন্ডিং’ বিষয় বিক্রেতা-খামারিরা বেশ ভালোই ধরতে জানে। এ কারণেই এবারের ঈদে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘নেতানিয়াহু’, ‘পুতিন’ আর ‘মোদি’ নামের গরু-মহিষ কোরবানির হাটে আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন পশুর এমন বিচিত্র আর বাহারি নাম দেওয়া হয়?
ফাবিহা বিনতে হক

‘বিক্রি হয়ে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘মানুষ দেখলেই তেড়ে আসে নেতানিয়াহু’, ‘বিক্রি হবে নরেন্দ্র মোদি’ কিংবা ‘কোরবানির মাঠ কাপাচ্ছে পুতিন’—এসব খবরে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব। আপনি যদি নিয়মিত ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহার করেন, তবে এসব খবরে চমকে ওঠার কিছু নেই। তবে যারা মাঝেমধ্যে উঁকি দেন, তাঁদের জন্য এমন খবর পিলে চমকে দেওয়ার মতো।
কথায় আছে, আদার ব্যাপারি হয়ে জাহাজের খোঁজ রেখে কী লাভ! কিন্তু বাংলাদেশের পশুর হাটের কারবারিরা প্রমাণ করেছেন, তাঁরা জাহাজের খবর তো রাখেনই, প্রয়োজনে সেই জাহাজ ডাঙাতেও তুলে আনতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে কী ঘটছে, তার খুঁটিনাটি খবর রাখেন বিক্রেতা বা খামারিরা। এর বড় প্রমাণ মেলে প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, সেটিই হয়ে যায় পশুর হাটের সেরা গরুর নাম।
সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ট্রেন্ডিং’ বিষয় বিক্রেতা-খামারিরা বেশ ভালোই ধরতে জানে। এ কারণেই এবারের ঈদে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘নেতানিয়াহু’, ‘পুতিন’ আর ‘মোদি’ নামের গরু-মহিষ কোরবানির হাটে আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন পশুর এমন বিচিত্র আর বাহারি নাম দেওয়া হয়?
একসময় গরুর নাম রাখা হতো তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে। গায়ের রং সাদা হলে ধলা, কালো হলে কালু, আর কপালে সাদা দাগ থাকলে তাকে বলা হতো চান কপালে।
এ ছাড়া শান্ত কিংবা উগ্র মেজাজ বুঝে নাম হতো রাজা, বাদশা বা সম্রাট। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরে যুক্ত হলো কালো মানিক, টাইগার, ভাগ্যরাজ বা পাঠানের মতো নাম।
তবে গত কয়েক বছরে নামকরণের এই ধারাটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন গরু-মহিষকে ‘ভাইরাল’ করার জন্য খামারি-বিক্রেতারা রীতিমতো গবেষণায় নামেন। ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি জায়েদ খান, ডিপজল, মিশা সওদাগর এমনকি শাকিব খান নামের গরু। বাদ যায়নি টিকটরার প্রিন্স মামুনও। এমনকি হাটে ‘পরীমনি’ নামের মহিষের উপস্থিতিও ক্রেতাদের বেশ অবাক করেছিল।
আবার ২০২১ সালের দিকে বিন লাদেন, সাদ্দাম হোসেন বা গাদ্দাফি নামের গরুও দেখা গেছে। খামারিরা নামকরণের এই রাজনীতিকে কেবল দেশের সীমানায় আটকে রাখেননি, বরং বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত চরিত্রগুলোকে পশুর হাটে নিয়ে এসেছেন নিছক ব্যবসায়িক কৌশলে।
যেকোনো পশুর হাটে অনেক গরু কিনতে পাওয়া যায়। সেখানে আপনার গরুটি যদি ‘পাঁচ ফিট লম্বা আর দশ ফিট চওড়া’ হয়, তাতে কারো কিছু যায় আসে না। কারণ পাশের সারিতে হয়তো আরও দশটা এমন গরু আছে।
কিন্তু আপনার গরুর নাম যদি হয় ‘জায়েদ খান’ কিংবা ‘হিরো আলম’, তবে নাম শুনে হলেও ক্রেতারা আপনার গরুটিকে দেখতে আসবেন, নেড়েচেড়ে দেখবেন। গরুর নাম যখন কোনো ভাইরাল সেলিব্রেটির নামে রাখা হয়, তখন খামারিকে আর কষ্ট করে ক্রেতা ডাকতে হয় না। ক্রেতাই ফোনের ক্যামেরা অন করে ছবি তুলতে ছুটে আসে, দরদাম করে।
বর্তমানে নামকরণের এই ধুম পড়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখছে স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। নাম যখন বিচিত্র কিছু রাখা হয়, তখন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সেই পশুর সামনে দাঁড়িয়ে ভিডিও বানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে কোনো টাকা খরচ না করেই সারা দেশে সেই গরুর ‘ফ্রি প্রমোশন’ হয়ে যায়। সাধারণ একটা কালো গরুর দাম হয়তো পাঁচ লাখ টাকা হতো, কিন্তু ‘ডিপজল’ বা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর সেটির দাম রাতারাতি ৩-৪ গুন হয়ে যায়।
আবার ভাইরাল গরু কেনার পেছনে ক্রেতাদের মধ্যেও এক ধরনের আভিজাত্য প্রদর্শনের মানসিকতা কাজ করে। যখন কেউ এলাকার সবচেয়ে আলোচিত বা ভাইরাল গরুটি কেনেন, তখন পাড়া-মহল্লায় তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। ক্রেতা তখন বেশ আত্মতৃপ্তির সঙ্গে বলতে পারেন, ‘সারা দেশ যে গরুকে চেনে, সেটির মালিক এখন আমি’।
তবে এই নামকরণের সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। কিন্তু নাম যত বিচিত্র আর অদ্ভুত হবে, গরুর ‘ভ্যালু’ বাজারে তত বাড়বে, এই সহজ ব্যবসায়িক হিসাব থেকেই হালের এই নামকরণের ধুম।

‘বিক্রি হয়ে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘মানুষ দেখলেই তেড়ে আসে নেতানিয়াহু’, ‘বিক্রি হবে নরেন্দ্র মোদি’ কিংবা ‘কোরবানির মাঠ কাপাচ্ছে পুতিন’—এসব খবরে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব। আপনি যদি নিয়মিত ফেসবুক-ইউটিউব ব্যবহার করেন, তবে এসব খবরে চমকে ওঠার কিছু নেই। তবে যারা মাঝেমধ্যে উঁকি দেন, তাঁদের জন্য এমন খবর পিলে চমকে দেওয়ার মতো।
কথায় আছে, আদার ব্যাপারি হয়ে জাহাজের খোঁজ রেখে কী লাভ! কিন্তু বাংলাদেশের পশুর হাটের কারবারিরা প্রমাণ করেছেন, তাঁরা জাহাজের খবর তো রাখেনই, প্রয়োজনে সেই জাহাজ ডাঙাতেও তুলে আনতে পারেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও বিশ্ব রাজনীতিতে কী ঘটছে, তার খুঁটিনাটি খবর রাখেন বিক্রেতা বা খামারিরা। এর বড় প্রমাণ মেলে প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিষয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়, সেটিই হয়ে যায় পশুর হাটের সেরা গরুর নাম।
সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ট্রেন্ডিং’ বিষয় বিক্রেতা-খামারিরা বেশ ভালোই ধরতে জানে। এ কারণেই এবারের ঈদে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, ‘নেতানিয়াহু’, ‘পুতিন’ আর ‘মোদি’ নামের গরু-মহিষ কোরবানির হাটে আলোচনার তুঙ্গে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, কেন পশুর এমন বিচিত্র আর বাহারি নাম দেওয়া হয়?
একসময় গরুর নাম রাখা হতো তার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য দেখে। গায়ের রং সাদা হলে ধলা, কালো হলে কালু, আর কপালে সাদা দাগ থাকলে তাকে বলা হতো চান কপালে।
এ ছাড়া শান্ত কিংবা উগ্র মেজাজ বুঝে নাম হতো রাজা, বাদশা বা সম্রাট। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পরে যুক্ত হলো কালো মানিক, টাইগার, ভাগ্যরাজ বা পাঠানের মতো নাম।
তবে গত কয়েক বছরে নামকরণের এই ধারাটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। এখন গরু-মহিষকে ‘ভাইরাল’ করার জন্য খামারি-বিক্রেতারা রীতিমতো গবেষণায় নামেন। ২০২৪ সালে আমরা দেখেছি জায়েদ খান, ডিপজল, মিশা সওদাগর এমনকি শাকিব খান নামের গরু। বাদ যায়নি টিকটরার প্রিন্স মামুনও। এমনকি হাটে ‘পরীমনি’ নামের মহিষের উপস্থিতিও ক্রেতাদের বেশ অবাক করেছিল।
আবার ২০২১ সালের দিকে বিন লাদেন, সাদ্দাম হোসেন বা গাদ্দাফি নামের গরুও দেখা গেছে। খামারিরা নামকরণের এই রাজনীতিকে কেবল দেশের সীমানায় আটকে রাখেননি, বরং বিশ্ব রাজনীতির আলোচিত-সমালোচিত চরিত্রগুলোকে পশুর হাটে নিয়ে এসেছেন নিছক ব্যবসায়িক কৌশলে।
যেকোনো পশুর হাটে অনেক গরু কিনতে পাওয়া যায়। সেখানে আপনার গরুটি যদি ‘পাঁচ ফিট লম্বা আর দশ ফিট চওড়া’ হয়, তাতে কারো কিছু যায় আসে না। কারণ পাশের সারিতে হয়তো আরও দশটা এমন গরু আছে।
কিন্তু আপনার গরুর নাম যদি হয় ‘জায়েদ খান’ কিংবা ‘হিরো আলম’, তবে নাম শুনে হলেও ক্রেতারা আপনার গরুটিকে দেখতে আসবেন, নেড়েচেড়ে দেখবেন। গরুর নাম যখন কোনো ভাইরাল সেলিব্রেটির নামে রাখা হয়, তখন খামারিকে আর কষ্ট করে ক্রেতা ডাকতে হয় না। ক্রেতাই ফোনের ক্যামেরা অন করে ছবি তুলতে ছুটে আসে, দরদাম করে।
বর্তমানে নামকরণের এই ধুম পড়ার পেছনে অন্যতম ভূমিকা রাখছে স্থানীয় কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। নাম যখন বিচিত্র কিছু রাখা হয়, তখন কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা সেই পশুর সামনে দাঁড়িয়ে ভিডিও বানাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে কোনো টাকা খরচ না করেই সারা দেশে সেই গরুর ‘ফ্রি প্রমোশন’ হয়ে যায়। সাধারণ একটা কালো গরুর দাম হয়তো পাঁচ লাখ টাকা হতো, কিন্তু ‘ডিপজল’ বা ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর সেটির দাম রাতারাতি ৩-৪ গুন হয়ে যায়।
আবার ভাইরাল গরু কেনার পেছনে ক্রেতাদের মধ্যেও এক ধরনের আভিজাত্য প্রদর্শনের মানসিকতা কাজ করে। যখন কেউ এলাকার সবচেয়ে আলোচিত বা ভাইরাল গরুটি কেনেন, তখন পাড়া-মহল্লায় তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে। ক্রেতা তখন বেশ আত্মতৃপ্তির সঙ্গে বলতে পারেন, ‘সারা দেশ যে গরুকে চেনে, সেটির মালিক এখন আমি’।
তবে এই নামকরণের সংস্কৃতি নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। কিন্তু নাম যত বিচিত্র আর অদ্ভুত হবে, গরুর ‘ভ্যালু’ বাজারে তত বাড়বে, এই সহজ ব্যবসায়িক হিসাব থেকেই হালের এই নামকরণের ধুম।

ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর ১৪তম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
৪ ঘণ্টা আগে
সীমা কেরমানির কথা মনে আছে আপনাদের? অনেকেই নাম না জানলেও চেনেন তাঁকে। কোক স্টুডিও পাকিস্তানের তুমুল জনপ্রিয় গান ‘পাসুরি’-তে তিনি ধ্রুপদী নৃত্য পরিবেশন করেছিলেন। কী অনবদ্য পরিবশনা! তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের দিকে গেলে আমরা দেখতে পাই, ১৯৫১ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম নেওয়া সীমা কেরমানি পেশা হিসেবে
৮ ঘণ্টা আগে
একটি ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলে ভিডিও আছে মাত্র ৪টি, আর ফলোয়ার সংখ্যা মাত্র ১৮৪ জন। কিন্তু সেখানকার একটি ভিডিও এরই মধ্যে আড়াই লাখ বার দেখা হয়েছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাস্তায় একটি মেয়ে হেঁটে যাচ্ছে আর আড়ালে থেকে কেউ একজন তাঁর ভিডিও করছে। ভিডিও ধারণকারী বলছে, ‘আমাগো বাংলাদেশে আইছে দেখছেন এম্রিকাত্তে। আপু এ
১ দিন আগে
বৃষ্টির দিনে জানালার পাশে একা বসে থাকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা—চায়ের উপস্থিতি যেন সবখানেই। তবে চা কেবল তৃষ্ণা মেটায় না। এর রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্যগুণ।
১ দিন আগে