কাজী নিশাত তাবাসসুম

ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আনন্দ, মিলন আর ভাগাভাগির এই উৎসব যুগে যুগে নানা রূপে উদযাপিত হচ্ছে। আজকের দিনের ঈদ আয়োজনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।
সুলতানি আমল, মোগল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমল--সব সময়েই ঈদ ছিল আনন্দ, আচার ও সামাজিকতার অনন্য মিলনমেলা। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সময় বদলালেও ঈদের আনন্দের মূল সুর একই রয়ে গেছে।
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয় সুলতানি আমলে। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম শাসনের অধীনে এলেও নামাজ, রোজা ও ঈদ পালনের রীতি তারও আগে থেকে প্রচলিত ছিল। তবে উৎসবমুখরভাবে ঈদ উদযাপনের ধারা মূলত শুরু হয় স্বাধীন সুলতানি আমলে। ইতিহাসবিদদের ধারণা, সেই সময় থেকেই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের রেওয়াজ গড়ে ওঠে।
ঈদের দিন ভোরে মানুষ নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতেন। সে সময় গ্রামবাংলার অধিকাংশ মুসলমানই ছিল কৃষিনির্ভর। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদের আনন্দ উপভোগ করতেন। ঈদের দিনে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি থাকত খাওয়া-দাওয়া ও ছোটখাটো আনন্দ আয়োজন। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের দান-খয়রাত করা হতো। জাকাত ও ফিতরা দেওয়ারও প্রচলন ছিল।
অনেক জায়গায় সুলতানের পক্ষ থেকে গরিবদের জন্য খাবার বিতরণ করা হতো। ঈদের দিন দরবারে বিশেষ আয়োজনও থাকত, যেখানে আলেম-ওলামা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন।
এই উৎসবে শুধু মুসলমানরাই নয়, জানা যায় অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নিতেন। ফলে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হতো ঈদ। তবে সেই সময় সাধারণ মানুষের ঈদ আয়োজন ছিল বেশ সাদামাটা, তেমন ব্যয়বহুল বা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না।
মোগল আমলে ঈদ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাঁকজমকপূর্ণ ঈদ মিছিল। রাজধানীতে ঈদের দিন রাজকীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতেন। এই মিছিলেই প্রকাশ পেত মোগলদের ঐশ্বর্য ও আভিজাত্য। সৈন্য, দরবারি ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে উঠত রাজকীয় উৎসবের মতো।
ইতিহাসবিদদের মতে, মোগলদের আগমনের আগে পূর্ববঙ্গে ঈদ প্রধানত ধর্মীয় আচার হিসেবেই পালিত হতো, উৎসবের জাঁকজমক তেমন ছিল না। কিন্তু মোগলরা দূর রাজধানী আগ্রার ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চাননি। ফলে ১৬১০ সালে ঢাকাকে রাজধানী করার পর আগ্রার অনুকরণে এখানেও ঈদ উদযাপন ধীরে ধীরে আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মোগল আমলে ঈদের আনন্দ শুধু একদিনে সীমাবদ্ধ থাকত না। প্রায় দু-তিন দিন ধরে চলত নানা আয়োজন। সংগীত ও নৃত্যের আসর বসত, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের নিয়ে এক ধরনের মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হতো। অনেকটা মেলার মতোই জমে উঠত সেই সময়ের ঈদ উৎসব।
এই সময়কার ঈদ উদযাপনের কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় সুবেদার ইসলাম খাঁ চিশতির সেনাপতি মির্জা নাথানের লেখায়। তাঁর বিবরণে শহরে আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঈদের চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়লে শুরু হতো আনন্দ আয়োজন। শিবিরে বেজে উঠত শাহী তূর্য বা রণশিঙ্গা, আর গোলন্দাজ বাহিনী একের পর এক আতশবাজি ছুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিত। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলত এই আতশবাজির প্রদর্শনী। আর রাতের শেষভাগে বড় কামান দাগার মধ্য দিয়ে ঈদের আগমনের ঘোষণা দেওয়া হতো।
ব্রিটিশ শাসনামলে সমাজব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন আসে। যার প্রভাব পড়ে ঈদ উদযাপনেও। যদিও ধর্মীয় আচারগুলো একই ছিল, তবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে কিছু নতুনত্ব দেখা যায়।
এই সময় শহরাঞ্চলে ঈদের বাজার আরও বড় আকার ধারণ করে। নতুন কাপড়, আতর, জুতা ও মিষ্টির দোকানে ভিড় জমত। সংবাদপত্রে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লেখা প্রকাশের প্রচলনও শুরু হয়।
ব্রিটিশ আমলে শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজে ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়ানোর রীতি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঈদের দিন মিষ্টান্ন ও সেমাই পরিবেশন ধীরে ধীরে এক ধরনের সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়। গ্রামাঞ্চলেও ঈদ ছিল আনন্দের দিন। নামাজ শেষে গ্রামবাসীরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে গল্পগুজব করত, শিশুদের জন্য থাকত খেলাধুলা ও মেলা।
আজ প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শহুরে জীবনের প্রভাবে উৎসবের ধরন বদলেছে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় সুলতানি আমলের সরলতা, মোগল আমলের জৌলুস, ব্রিটিশ আমলের সামাজিক রূপ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে আমাদের আজকের ঈদ সংস্কৃতি।
ঈদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটা আমাদের সামাজিক ঐতিহ্যেরও অংশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ এই দিনটিকে আনন্দ, ভালোবাসা ও মিলনের মাধ্যমে উদযাপন করে আসছে। সময় বদলালেও ঈদের সেই চিরন্তন বার্তা একই—ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং আনন্দ ভাগাভাগি।

ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আনন্দ, মিলন আর ভাগাভাগির এই উৎসব যুগে যুগে নানা রূপে উদযাপিত হচ্ছে। আজকের দিনের ঈদ আয়োজনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা।
সুলতানি আমল, মোগল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমল--সব সময়েই ঈদ ছিল আনন্দ, আচার ও সামাজিকতার অনন্য মিলনমেলা। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, সময় বদলালেও ঈদের আনন্দের মূল সুর একই রয়ে গেছে।
বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয় সুলতানি আমলে। ১২০৪ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গদেশ মুসলিম শাসনের অধীনে এলেও নামাজ, রোজা ও ঈদ পালনের রীতি তারও আগে থেকে প্রচলিত ছিল। তবে উৎসবমুখরভাবে ঈদ উদযাপনের ধারা মূলত শুরু হয় স্বাধীন সুলতানি আমলে। ইতিহাসবিদদের ধারণা, সেই সময় থেকেই বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের রেওয়াজ গড়ে ওঠে।
ঈদের দিন ভোরে মানুষ নতুন পোশাক পরে ঈদগাহে নামাজ আদায় করতেন। সে সময় গ্রামবাংলার অধিকাংশ মুসলমানই ছিল কৃষিনির্ভর। তাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী ঈদের আনন্দ উপভোগ করতেন। ঈদের দিনে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি থাকত খাওয়া-দাওয়া ও ছোটখাটো আনন্দ আয়োজন। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষদের দান-খয়রাত করা হতো। জাকাত ও ফিতরা দেওয়ারও প্রচলন ছিল।
অনেক জায়গায় সুলতানের পক্ষ থেকে গরিবদের জন্য খাবার বিতরণ করা হতো। ঈদের দিন দরবারে বিশেষ আয়োজনও থাকত, যেখানে আলেম-ওলামা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতেন।
এই উৎসবে শুধু মুসলমানরাই নয়, জানা যায় অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও অংশ নিতেন। ফলে ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে এক ধরনের সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হতো ঈদ। তবে সেই সময় সাধারণ মানুষের ঈদ আয়োজন ছিল বেশ সাদামাটা, তেমন ব্যয়বহুল বা জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না।
মোগল আমলে ঈদ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাঁকজমকপূর্ণ ঈদ মিছিল। রাজধানীতে ঈদের দিন রাজকীয় শোভাযাত্রার মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে যেতেন। এই মিছিলেই প্রকাশ পেত মোগলদের ঐশ্বর্য ও আভিজাত্য। সৈন্য, দরবারি ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি হয়ে উঠত রাজকীয় উৎসবের মতো।
ইতিহাসবিদদের মতে, মোগলদের আগমনের আগে পূর্ববঙ্গে ঈদ প্রধানত ধর্মীয় আচার হিসেবেই পালিত হতো, উৎসবের জাঁকজমক তেমন ছিল না। কিন্তু মোগলরা দূর রাজধানী আগ্রার ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে চাননি। ফলে ১৬১০ সালে ঢাকাকে রাজধানী করার পর আগ্রার অনুকরণে এখানেও ঈদ উদযাপন ধীরে ধীরে আড়ম্বরপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মোগল আমলে ঈদের আনন্দ শুধু একদিনে সীমাবদ্ধ থাকত না। প্রায় দু-তিন দিন ধরে চলত নানা আয়োজন। সংগীত ও নৃত্যের আসর বসত, আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের নিয়ে এক ধরনের মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হতো। অনেকটা মেলার মতোই জমে উঠত সেই সময়ের ঈদ উৎসব।
এই সময়কার ঈদ উদযাপনের কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় সুবেদার ইসলাম খাঁ চিশতির সেনাপতি মির্জা নাথানের লেখায়। তাঁর বিবরণে শহরে আলোকসজ্জা ও উৎসবমুখর পরিবেশের উল্লেখ পাওয়া যায়।
ঈদের চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়লে শুরু হতো আনন্দ আয়োজন। শিবিরে বেজে উঠত শাহী তূর্য বা রণশিঙ্গা, আর গোলন্দাজ বাহিনী একের পর এক আতশবাজি ছুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিত। সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলত এই আতশবাজির প্রদর্শনী। আর রাতের শেষভাগে বড় কামান দাগার মধ্য দিয়ে ঈদের আগমনের ঘোষণা দেওয়া হতো।
ব্রিটিশ শাসনামলে সমাজব্যবস্থায় নানা পরিবর্তন আসে। যার প্রভাব পড়ে ঈদ উদযাপনেও। যদিও ধর্মীয় আচারগুলো একই ছিল, তবে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে কিছু নতুনত্ব দেখা যায়।
এই সময় শহরাঞ্চলে ঈদের বাজার আরও বড় আকার ধারণ করে। নতুন কাপড়, আতর, জুতা ও মিষ্টির দোকানে ভিড় জমত। সংবাদপত্রে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ লেখা প্রকাশের প্রচলনও শুরু হয়।
ব্রিটিশ আমলে শহুরে মধ্যবিত্ত সমাজে ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি বেড়ানোর রীতি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঈদের দিন মিষ্টান্ন ও সেমাই পরিবেশন ধীরে ধীরে এক ধরনের সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়। গ্রামাঞ্চলেও ঈদ ছিল আনন্দের দিন। নামাজ শেষে গ্রামবাসীরা একসঙ্গে মিলিত হয়ে গল্পগুজব করত, শিশুদের জন্য থাকত খেলাধুলা ও মেলা।
আজ প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও শহুরে জীবনের প্রভাবে উৎসবের ধরন বদলেছে। কিন্তু ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় সুলতানি আমলের সরলতা, মোগল আমলের জৌলুস, ব্রিটিশ আমলের সামাজিক রূপ এবং পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সব মিলিয়েই তৈরি হয়েছে আমাদের আজকের ঈদ সংস্কৃতি।
ঈদ কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়, এটা আমাদের সামাজিক ঐতিহ্যেরও অংশ। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ এই দিনটিকে আনন্দ, ভালোবাসা ও মিলনের মাধ্যমে উদযাপন করে আসছে। সময় বদলালেও ঈদের সেই চিরন্তন বার্তা একই—ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা এবং আনন্দ ভাগাভাগি।

টেবিলভর্তি ভালো খাবার দেখে অনেকে একটু বেশিই খেয়ে ফেলি। ফলে পেটে অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এসব ভারী খাবারের পর হজম ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৯ ঘণ্টা আগে
এশিয়া মহাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর অত্যন্ত আনন্দ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদ্যাপিত হয়। এক মাসের সিয়াম সাধনার পর শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে মুসলমানরা ঈদের উৎসবে মেতে ওঠেন। নতুন পোশাক পরে ঈদের নামাজ আদায়, সেমাই-মিষ্টান্ন ভোজন, কোলাকুলি, ঈদ সালামি আদান-প্রদান এবং ফিতরা ও জাকাত বিতরণের মধ্য দিয
১১ ঘণ্টা আগে
অনেকে এই পরিস্থিতি এড়াতে মিথ্যা অজুহাত দেন, যা নৈতিকভাবে ঠিক নয়। সামাজিকতা বজায় রেখে কীভাবে অতিরিক্ত খাবারকে ‘না’ বলবেন, তার সাত কৌশল জেনে নিন চটজলদি। এর ফলে আপনার সামাজিকতাও বজায় থাকবে, আবার স্বাস্থ্য নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকবে না।
১ দিন আগে
দুই হাতে অন্ধকারের কুয়াশা ঠেলে সরিয়ে দিচ্ছি। বুঝতে পারছি না কেন এমন হলো? জীবন সহজ নয় দেখেছি, তাই বলে এমন নির্মম হতে পারে জানা ছিল না। আমলনামা লেখার সময় তিনি কি মানুষের মতামত নেন? না লিখে দেন নিজের খেয়াল-খুশি মতো? এই যে, যে জীবন আমি যাপন করেছি—আমার কোনো মতামত নেওয়া হয়েছিল?
১ দিন আগে