শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলারে দিচ্ছে টিকটক

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১২: ১১
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টিকটক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া
খুব অল্প সময়ের মধ্যেই টিকটক বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, বিশেষ করে তরুণদের কাছে। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া

শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকা) দিতে রাজি হয়েছে সামাজিক মাধ্যম টিকটক। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মার্কিন বিচার বিভাগ এই সমঝোতার ঘোষণা দেয়। শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনায় এটি অন্যতম বড় আর্থিক সমঝোতা বলে জানিয়েছে বিবিসি।

২০২৪ সালে টিকটক ও এর মূল প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে মামলাটি করে মার্কিন বিচার বিভাগ। অভিযোগে বলা হয়, টিকটক ১৩ বছরের কম বয়সী লাখো শিশুর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করেছে।

‘চিলড্রেনস প্রাইভেসি প্রটেকশন অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয়। আইনে অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ১৩ বছরের কম বয়সীদের ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়া যাবে না।

সমঝোতা অনুযায়ী, টিকটক তাৎক্ষণিকভাবে ৩০ কোটি ডলার পরিশোধ করবে। আগের একটি আইনি আদেশ বাতিলের পর প্রতিষ্ঠানটিকে আরও ১০ কোটি ডলার দিতে হবে। এই অর্থ পরিশোধের মধ্য দিয়ে মামলাটির নিষ্পত্তি হবে।

তবে মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া অভিযোগগুলো কেবল অভিযোগ হিসেবেই রয়েছে। এসব অভিযোগের জন্য টিকটককে দায়ী বলে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের সহযোগী অ্যাটর্নি জেনারেল স্ট্যানলি ই. উডওয়ার্ড জুনিয়র জানান, শিশুদের অনলাইনে সুরক্ষিত রাখা এবং তাদের ব্যক্তিগত তথ্যের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আইন মেনে চলে, সেটিই বিচার বিভাগের অগ্রাধিকার। তাঁর ভাষ্য, এই সমঝোতার মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আদায়ের পাশাপাশি পরিবারগুলোর প্রত্যাশিত সুরক্ষাও জোরদার করা হয়েছে।

মার্কিন বিচার বিভাগের বরাতে বিসিসি আরও জানায়, ২০২৪ সালে মামলা হওয়ার পর টিকটকের মালিকানা, ব্যবস্থাপনা, আইন মেনে চলার কাঠামো ও গোপনীয়তা নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা, বয়স যাচাই এবং অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

মার্কিন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট শুমেট বলেন, মামলাটি যখন শুরু হয়েছিল, সেই সময়ের তুলনায় এখন শিশু ও তাদের অভিভাবকেরা অনলাইনে আরও ভালো সুরক্ষা পাচ্ছেন।

এর আগে আইনটি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইউটিউবকে ১৭ এবং এপিক গেমসকে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। বর্তমানে মেটার বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের ২৯ অঙ্গরাজ্যে মামলা চলছে। এ মামলার বিচার চলতি সপ্তাহে শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত

শিশুদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, যুক্তরাষ্ট্রকে ৪০ কোটি ডলারে দিচ্ছে টিকটক