কুড়িগ্রামে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৬৪ বস্তা সার নিয়ে গেলেন কৃষকেরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুড়িগ্রাম

ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে লুট হওয়া সরকারি সারের গুদাম। সংগৃহীত ছবি
ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে লুট হওয়া সরকারি সারের গুদাম। সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দোকানে সার না পেয়ে একজন ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে ১৬৪ বস্তা সার নিয়ে গেছে বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। রোববার (২৩ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ডিলারের গুদামের ১৯৭ বস্তা সার নিয়ে যান কৃষকেরা। পরে ৩৩ বস্তা সার ফেরত দেন তারা।

পুলিশ, কৃষক ও স্থানীয়রা জানান, শিলখুড়ির বাজারে সার পাওয়া যাচ্ছিল না। ইউনিয়নের সরকারি সারের ডিলার মুকুল হাজী পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ পেলেও কৃষকদের দিতে গড়িমসি করছিলেন। তার বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০ বস্তা সার। এর মধ্যে গুদামেই মজুত পড়েছিল ৩৪০টি বস্তা।

শিলখুড়ি ইউনিয়নের সরকারি সারের ডিলার মেসার্স শাহ আমানত নামে প্রতিষ্ঠানের মালিক তাইফুর রহমান মুকুল ওরফে মুকুল হাজী। আজ সকালে তার ডিলার পয়েন্টে সারের জন্য আসেন ২ শতাধিক কৃষক। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গুদাম না খোলায় তারা দরজা ভেঙে ফেলেন। সেখানে মজুত ৫০ কেজি ওজনের ১৯৭টি বস্তা ইউরিয়া সার তুলে নিতে থাকেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিমুদ্দিন বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নে চাহিদা প্রায় ৪ হাজার বস্তা সার। কিন্তু বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩২০টি বস্তা। ডিলারের উত্তোলন করেছিলেন আরও কম। এতে বাজারে সার না পাওয়ার শঙ্কায় গুদাম থেকে ১৯৭টি বস্তায় ৯ হাজার ৮৫০ কেজি সার নিয়ে যান কৃষকেরা। পরে পুলিশের তৎপরতায় ৩৩ জন ৩৩টি বস্তা ফেরত দিয়ে গেছেন। এতে ১ হাজার ৬৫০ কেজি সার উদ্ধার হয়েছে। বাকি ৮ হাজার ২০০ কেটি সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ভূরুঙ্গামারীতে চলতি আগস্টে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ৬৮০ মেট্রিকটন। সেটি আমরা পেয়েছি ও বিতরণ চলছে। উপজেলায় ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকেরা আতঙ্কেই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গার একটি পয়েন্টে কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ চলছিল। এ সময় কিছু মানুষ সার লুট করে নিয়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিছু সার উদ্ধার হয়েছে, বাকিটা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত