সবজিতে স্বস্তি, মুদিপণ্য ও আমিষের বাজার চড়া

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৯: ২৫
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। স্ট্রিম ছবি
রাজধানীর বাজারে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। স্ট্রিম ছবি

রাজধানীর বাজারে অধিকাংশ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে চিনি, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যের বাজার এখনো চড়া। ফলে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি নিয়ে খুব একটা স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) কারওয়ান বাজার, হাতিরপুল কাঁচাবাজারসহ রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

খুচরা বাজারে বেগুন, করলা, পটল, ঢেঁড়স, পেঁপেসহ বিভিন্ন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে এগুলোর দামও কমেছে। প্রতি কেজি বেগুন মানভেদে ৮০-১২০ টাকা, করলা ৬০-৭০ টাকা, পটোল ও ঢেঁড়স ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে ৩০-৪০ কেজি দরে। তবে টমেটো এখনো মানভেদে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতারা বলেন, আড়ত থেকে সবজি বেশি আসছে। তাই কিছু পণ্যের দাম কমেছে।

কাঁচামরিচের দামে স্বস্তি ফিরেছে। পেঁয়াজের দামও তুলনামূলক স্থিতিশীল। মানভেদে প্রতি কেজি মরিচ ৮০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে মরিচ আমদানি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এতে কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় দাম অনেকটাই কমেছে। এদিকে মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকা এবং আলু ২৫-৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে সবজির বাজারের এই স্বস্তি ম্লান করে দিচ্ছে মুদিপণ্যের বাড়তি দাম। খুচরা পর্যায়ে খোলা চিনি ১১৫-১২৫ টাকা এবং প্যাকেটজাত চিনি ১২০-১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ দুয়েকের ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবরাহ ঘাটতি বড় কারণ। অনেক দোকানে প্যাকেটজাত চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা চিনির সরবরাহও প্রয়োজনের তুলনায় কম। ব্যবসায়ীরা জানান, চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে চিনি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মিল থেকে সরবরাহ কমেছে।

ভোজ্যতেলের বাজারেও সরবরাহ সংকট রয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত দামে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো চাহিদার তুলনায় কম তেল দিচ্ছে।

সরকার নির্ধারিত প্রতি লিটার বোতালজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫-১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৬৫-১৮০ টাকা লিটারে।

আটা-ময়দার বাজারেও চাপ দেখা যাচ্ছে। খুচরা বাজারে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮-৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহ দুয়েক আগের তুলনায় ৩ টাকা বেশি। প্রতি কেজি খোলা ময়দা ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল ৫৮-৬০ টাকা। প্যাকেটজাত আটার দামও ৫৫-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষের বাজার এখনো চড়া। ফার্মের মুরগীর ডিম প্রতি ডজন ১৪৫-১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তেলাপিয়া ও পাঙাশ ২৩০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও রুই ও কাতলার দাম অনেক বেশি। বড় রুই-কাতলা ৪৫০-৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ৭৮০-৮২০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ৩০০ টাকা।

চালের বাজার অবশ্য স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫০-৫৮ টাকা ও চিকন চাল ৭০-৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কারওয়ান বাজারে হানিফ নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু তেল, চিনি, ডিম, মাছ-মাংসের দাম কমেনি। সব মিলিয়ে মাসের বাজার খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত