কর্মব্যস্ত সড়কে এখন ঝোপঝাড়, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
পাবনা

প্রকাশ : ২৪ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ৩১
বেহাল বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা-খাকছাড়া সড়ক। স্ট্রিম কোলাজ
বেহাল বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা-খাকছাড়া সড়ক। স্ট্রিম কোলাজ

পাবনার বেড়া পৌরসভার বড়শিলা থেকে চাকলা ইউনিয়নের নলভাঙা হয়ে খাকছাড়া পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ক। বিলের মধ্য যাওয়া সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ঝোপঝাড়, লতাগুল্ম আর ঘন জঙ্গলে ঢেকে গেছে।

একসময়ের ব্যস্ত আঞ্চলিক সড়কটির ওপর দাঁড়িয়ে এখন বোঝার উপায় নেই, এটি কোনো একসময় হাজারো মানুষের যাতায়াতের প্রধান পথ ছিল। ফলে বেড়া উপজেলার দুটি ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বিল এলাকার কৃষিপণ্য পরিবহন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের উপজেলা সদরে যাতায়াত সহজ করতে ২০১৩ সালে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সড়কটি চালুর পর চাকলা ও কৈতোলা ইউনিয়নের খাকছাড়া, নলভাঙা, চাকলা, দমদমা, জয়নগর, কৈতোলা ও বড়শিলাসহ অন্তত ১০টি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি এসেছিল। বিল অঞ্চলে উৎপাদিত ধান, পাট ও শাকসবজি দ্রুত ও কম খরচে উপজেলা সদরের বাজারে নিয়ে যাওয়া যেত।

ভৌগোলিক অবস্থান ও বিল এলাকার কথা মাথায় না রেখে নিচু ও সরু করে সড়কটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ফলে চালুর প্রথম বছর থেকেই বর্ষাকালে বিলের পানির তোড়ে এবং অতিরিক্ত বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে যেতে শুরু করে। প্রথম ছয়-সাত বছর খানাখন্দ পেরিয়ে কোনোমতে যানবাহন চললেও, পরে এটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়।

সরেজমিনে সড়কটিতে দেখা যায়, সড়কের পিচ পুরোপুরি উঠে গিয়ে সেখানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক জায়গায় রাস্তার দুই পাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা বড় হয়ে মূল সড়ক ঢেকে ফেলেছে। এখন রিকশা-ভ্যান বা সাইকেল তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচল করাই কঠিন।

নলভাঙা গ্রামের প্রবীণ কৃষক মো. জামাত আলী বলেন, ‘একসময় এই রাস্তা দিয়া সহজে বাজারে যাইতাম, হাটে ধান-সবজিও বেচতে লইয়া যাইতাম। অহন তো দিনের বেলাতেও এই রাস্তায় হাঁটতে ভয় লাগে, সাপ-শেয়ালের উপদ্রব। বাধ্য হয়া ৩ কিলোমিটার পথের বদলে ৮ থিকা ১০ কিলোমিটার ঘুইরা উপজেলা সদরে যাইতে হয়।’

ভ্যানচালক আবুল হাশেম বলেন, রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায়। রাতে কোনো জরুরি রোগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

খাকছাড়া আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মানিক হোসেন জানান, ‘সড়কটি যখন ভালো ছিল, তখন পাশের কয়েকটি গ্রাম থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী আমাদের স্কুলে আসত। কিন্তু রাস্তাটি ঢেকে যাওয়ায় এবং নিরাপত্তার অভাবে এখন দূরের শিক্ষার্থীরা আর আসতে চায় না। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ করছেন বা দূরের স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন।’

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সড়কটি পুনর্নির্মাণ ও মানোন্নয়নের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। পরে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে পরিদর্শনও করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ না মেলায় প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।

যোগাযোগ করা হলে পাবনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অতীতে পাঠানো একটি প্রকল্প অনুমোদন না পাওয়ায় কাজ আটকে যায়। তবে স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা এলাকাটি আবারও পরিদর্শন করেছি। সম্প্রতি, পাবনা প্রকল্প নামে একটি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এর আওতায় সড়কটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অনুমোদন হলে দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত