কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানচাপায় মা-ছেলে নিহত, আহত ৩

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুমিল্লা

প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৪৬
কুমিল্লায় কাভার্ড চাপায় দুমড়ে যায় যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানচাপায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী মা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অটোরিকশা চালকসহ তিনজন। বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত যাত্রী চারজন একই পরিবারের সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান।

ওসি জানান, ঘটনার পর পাঠাও কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানটিকে ধাওয়া করে জেলার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। তবে এর চালক ও তাঁর সহকারী গাড়ি রেখে পালিয়ে গেছেন।

নিহতরা হলেন জেলার মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা গ্রামের জুতা ব্যবসায়ী দিদার মিয়ার স্ত্রী রৌশন আরা বেগম (৩৮) ও তাঁর ছেলে ইয়ামিন (৬)। আহতরা হলেন নিহত রৌশন আরার বাবা মো. তাজুল ইসলাম (৭৩), তাঁর মা মিনু আরা বেগম (৬৫)। তাঁরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বাশারূপ গ্রামের বাসিন্দা। অপরজন মুরাদনগর উপজেলার দারোরা গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে অটোরিকশাচালক জিসান (৩৫)।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানান, কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়ানো শেষে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নবীনগরে গ্রামের বাড়ি ফিরছিল এক পরিবারের চার সদস্য। বেলা পৌনে ৩টার দিকে দেবিদ্বার উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই রৌশন আরা বেগম মারা যান। স্থানীয়রা আহত চারজনকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে রৌশন আরার ছেলে ইয়ামিনকেও মৃত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া তাঁর মা-বাবা ও অটোরিকশাচালক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

রৌশন আরার বাবা আহত তাজুল ইসলাম বলেন, তিনি স্ত্রী, মেয়ে, নাতিকে নিয়ে কুমিল্লার ময়নামতিতে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে অটোরিকশায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে একটি কাভার্ডভ‍্যান তাদের বহনকারী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মেয়ে নিহত হন। হাসপাতাল নেওয়ার পর নাতিও মারা যায়।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনিপ্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তার করা হয়েছে।

সম্পর্কিত